২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে লিঙ্গ বৈষম্য দূরের বিকল্প নেই: ইনু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য দূরের কোন বিকল্প নেই। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার কথা উল্লেখ থাকলেও জীবনের খাতায় তার বাস্তবায়ন ঘটে নি। তবে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে শেখ হাসিনার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। তা বাস্তবায়ন করতে আইনি ঘাটতি দূর করতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের মনাসিক খাঁচা থেকে বের হয়ে আসার অহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের খাঁচায় বন্দি করে রাখলে চলবে না। নারীদের মানসিক খাঁচা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে ‘অপারিজিতা: নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, ইউনিয়ন পরিষদ স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্তরায় ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তথ্যমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অবৈধ হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, স্থানীয় সরকার কার্যক্রমে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কোনভাবেই কাম্য নয়। সংসদ সদস্যদের বাধ্যতামূলক পরামর্শ-এটা অগণতান্ত্রিক। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে ২৫(২) ধারা বাতিলেরও আহ্বান জানান।

ইনু বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে লিঙ্গ বৈষম্য, ধর্মান্ধতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, কুসংস্কার, অশিক্ষা, দারিদ্র ও জঙ্গিবাদই মূল বাধা। এসব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমতার কথা সংবিধানের পাতায় যা লেখা আছে। তবে জীবনের খাতায় তা লেখা নেই। তাই আইনগতভাবে নারীর ক্ষমতায়নকে আরো স্পষ্টীকরণ করতে হবে। এসময় তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সমাজের অর্ধঙ্গ বিকল রেখে উন্নতি লাভ করা অসম্ভব। দুই পায়ে সমাজকে চলতে হয়। এক পা পিছনে থাকলে কোন ক্রমেই হাঁটা যাবে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হবে।

সভায় স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও নারীনেত্রীরা অংশ নেন। আলোচনায় নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন ধরনের বাধা ও সম্ভাবনার কথা ওঠে আসে। সভায় নারী-পুরুষের সমতার উপর জোর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ শেফালী বেগম। এতে বলা হয়, নারী সদস্যদের স্বল্প পরিসরে স্ট্যান্ডিং কমিটির অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্তরায়।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাত্র ২২ শতাংশম মনে করেন স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে। ৬৫ শতাংশ মনে করেন কমিটিগুলোর কার্যক্রম মোটামুটি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত কমিটিগুলোতে নারী সদস্যরা অবহেলিত। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকর্তারা এসব কমিটির সভাপতি পদে পুরুষদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্তরায়। প্রতিবেদনটির স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যকারিতা বিষয়ক ফলাফলে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

ওই গবেষণাপত্রের সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি পদে এক তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধির পরিবর্তে ১৩ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। কমিটির ভূমিকা ও দায়িত্ব অস্পষ্ট রয়েছে জানিয়ে তা সুনির্দিষ্ট করার কথাও বলা হয় সুপারিশে। একই সঙ্গে কমিটিগুলোর নিয়মিত সভা আয়োজনের জন্যে বাজেট বরাদ্দ ও প্রচলিত আইনি ধারার অসঙ্গতি দূর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আরমা দত্তের সঞ্চলনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি শিরিন আখতারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা কামাল হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আনিসুজ্জামান, ডেমোক্রেসিওয়াচের তালেয়া রহমান, সুইচ এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সিনিয়র পোগ্রাম অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিন সুলতান, নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের পক্ষে শিরিন আখতার, আনোয়ার বেগম, সুলদা বেগম প্রমুখ।