২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে ৩৬ হাজার কবরবাসী ভোটার তালিকায়

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ জেলায় নিয়ম মোতাবেক মৃত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ বার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে সর্বমোট ১২ হাজার ৭৮৬ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরেও প্রায় ৩৬ হাজার ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে, যারা কবরবাসী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে বছরে দেশে দশমিক ৫৬ লোক মারা যায়। এ হিসেবে বিগত সময়ে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪৮ হাজার ব্যক্তির নাম মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে এখানে আরও অন্তত ৩৬ হাজার মৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে।

রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম ২০১৫ পর্যালোচনা এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জাবেদ আলী এসব কবরবাসী ভোটার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জাবেদ আলী বলেন, কোন মৃত ভোটারের নামে যদি কেউ ভোট দিয়ে দেয় সেটি হবে খুবই চিন্তার বিষয়। এমন ভোটার তালিকা করতে হবেÑ যেখানে কোন মৃত ভোটার থাকবে না। ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। জনপ্রতিনিধরা সহযোগিতা করলে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ দেয়া সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার জেলায় স্বচ্ছ, নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা দেখতে চাই। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিধিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ না করার কারণেই ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ যায়নি। তথ্য সংগ্রহকারীরা এক জায়গায় বসে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে ধারণা দিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মোঃ জাবেদ আলী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনারের কাজ হলো নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং সকলের কাছে গুহণযোগ্য একটি ভোটার তালিকা করবে যাতে কোন বিদেশী থাকবে না এবং কোন মৃত ব্যক্তি থাকবে না। প্রতিবছর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়াই হচ্ছে হালনাগাদ। নির্বাচন কমিশনার কক্সবাজার জেলার তিনটি উপজেলা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে টেকনাফ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে নিবন্ধন বেশি করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশের নাগরিক হলে অবশ্যই ভোটার করা হবে। কিন্তু ওই উপজেলায় ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে তা অস্বাভাবিক।