২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে নির্বাচনী মাঠ গরম হয়ে উঠছে

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ মঙ্গলবার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর যশোরে নির্বাচনের মাঠ গরম হয়ে উঠেছে। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগে থেকেই নির্বাচনের মাঠে সরব রয়েছেন। যশোর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গণসংযোগ করলেও বিএনপির প্রার্থী এখনও নির্বাচনের মাঠে নেই। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা সরব রয়েছেন। পুলিশী মামলা, ধরপাকড় ইত্যাদি কারণে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতে পারছেন না।

যশোর প্রাচীন পৌরসভা। ১৮৬৪ সালের ১৩ জুলাই বাংলার লেফটেন্যান্ট গবর্নরের ঘোষণা অনুযায়ী যশোর পৌরসমিতি গঠিত হয় এবং ওই বছরের ১ আগস্ট থেকে এটি কার্যকর হয়। সে সময় পৌর সমিতির আওতাভুক্ত এলাকা ছিল মূল শহর আর পুরাতন কসবা, ঘোপ, বারান্দীপাড়া, বেজপাড়া, নীলগঞ্জ, খড়কী ও চাঁচড়া গ্রামের অধিকাংশ। বছরখানেক পরে নীলগঞ্জ, খড়কী, চাঁচড়ার অবশিষ্ট অংশসহ বগচর, মুড়লী ও শংকরপুর পৌর এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সেই সময় পৌর এলাকার মোট আয়তন দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার বর্গমাইল। পদাধিকার বলে তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ মলোনী সভাপতি হন ও প্রথম পৌর কমিশনার হিসেবে মিঃ টি. টি. অ্যালেন, জে ককবার্ন, জে. সি. শ’, রাজাবরদাকান্ত রায় বাহাদুর, বাবু আনন্দ মোহন মজুমদার, বাবু মদন মোহন মজুমদার এবং মৌলবী গয়রাতুল্লাহ নির্বাচিত হন।

গত পৌর নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামরুজ্জামান চুন্নু পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলামের কাছে। ভোটের ব্যবধান হয় প্রায় ১১ হাজার। সেই সময় আওয়ামী লীগের একটি অংশ কামরুজ্জামান চুন্নুর সরাসরি বিরোধিতা করেন। অথচ এর আগে কামরুজ্জামান চুন্নু দুই বার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এবারও কামরুজ্জামান চুন্নু মনোনয়ন চাইবেন। জেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং-এর রাজনীতিতে তিনি যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সঙ্গে রয়েছেন। এলাকায় গণসংযোগ এবং কেন্দ্রে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর আশা তিনি মনোনয়ন পাবেন। ইতোমধ্যে শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সেঁটেছেন।

এছাড়া এবার আওয়ামী লীগের কাছে মনোনয়ন চাইবেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। তিনি গণসংযোগ করছেন। কেন্দ্র্রেও যোগাযোগ করছেন। গত পৌর নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পাননি। এবার তাঁর আশা নতুন প্রজন্মের প্রার্থী হিসাবে তিনি মনোনয়ন পাবেন। জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলের রাজনীতিতে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদারের গ্রুপ করেন।

এছাড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া পারভীন ডলি মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির প্রার্থী হবেন বর্তমান মেয়র মারুফুল ইসলাম এটা নিশ্চিত। তবে তিনি মাঠে নেই। কয়েকটি মামলা এবং নাশকতার মামলায় দুই বার কারাগারে যাবার কারণে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। এছাড়া যশোরের নাগরিক সমাজ পৌরসভায় তার দুর্নীতির বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছেন। এ নিয়ে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও তার দুর্নীতির তদন্ত হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে তিনি চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে যশোর পৌর সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে কে মনোনয়ন পান, তার ওপর নির্ভর করবে, এখনে জয়ী হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না বিএনপির প্রার্থী। তবে সেজন্য এখনও যশোর পৌরবাসীকে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

রংপুরের বিএনপি নেতাকে লালমনিরহাটে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২৪ নবেম্বর ॥ মঙ্গলবার রাতে রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেনকে রংপুর র‌্যাব ১৩ লালমনিরহাট জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর থেকে উদ্ধার করে সদর থানায় সোপর্দ করেছে। মোজাফ্ফর হোসেনকে পাঁচদিন আগে সাদা পোশাকে রংপুরের শালবনের নিজস্ব বাসা হতে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে ১০/১২ জন ধরে নিয়ে যায় বলে বিএনপি নেতা মোজাফ্ফর হোসেনের স্ত্রী শাহিদা দাবি করেন। রংপুর র‌্যাব ১৩ বিএনপি নেতা মোজাফ্ফর হোসেনকে বৃহস্পতিবার আটকের কথা অস্বীকার করেছে। বলেছে পরিবারির দাবি সত্য নয়।