২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালা-ভাগ্নি গণধর্ষণের শিকার ॥ পুলিশ মামলা নেয়নি

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ২৪ নবেম্বর ॥ জেলার কালকিনির ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়াকুল গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে এক প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী ও তার খালা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও মামলা নেয়নি পুলিশ। ফলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়, পারিবারিক ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়াকুল গ্রামের অটোভ্যান চালকের মেয়ে চিড়াইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী ও শরীয়তপুর থেকে বেড়াতে আসা ওই পরীক্ষার্থীর খালাসহ (২২) পরিবারের অন্যরা শুক্রবার রাতে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে একই গ্রামের আকছেদ দর্জির ছেলে আতাউর দর্জির (২৫)-এর নেতৃত্বে ৪/৫ জনের এক দল লম্পট ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা ঘরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা-মুখ বেঁধে জিনিসপত্র লুট করে। যাবার সময় ওই পরীক্ষার্থী ও তার খালাকে জোর করে বাড়ির পাশে একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তিন ঘণ্টাব্যাপী পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে অচেতন অবস্থায় ধর্ষিতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ধর্ষকরা এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়।

পরের দিন শনিবার ধর্ষিতাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই এই ঘটনায় ধর্ষিতা পরীক্ষার্থীর পিতা ডাসার থানায় মামলা করতে যায়। পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদের কাছে থেকে ধর্ষকদের নাম ঠিকানা লিখে রেখে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলে।

এই সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানায় এবং মামলা নেয়ার ব্যাপারে কথা বলেন। ওসি মামলার আশ্বাস দিলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ডাসার থানায় এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। পরীক্ষার্ক্ষীর পিতা বলেন, ‘শনিবার মামলার জন্য থানায় গিয়েছিলাম। তারা শুধু নাম ঠিকানা লিখে রেখে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।’ এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, ‘আমি ডাসার থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মামলা নিবেন বলে জানিয়েছেন’। ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ‘ওরা থানায় এসে অভিযোগ করলেই মামলা নেয়া হবে।’