২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধের আরও বাকি

  • মুনতাসীর মামুন

অবশেষে হলো। মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী ও বাংলাদেশে নষ্ট রাজনীতির প্রবক্তা, দুটি দলের নীতি নির্ধারক আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি হলো। মুজাহিদ ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। সালাউদ্দিন ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। মৃতদের নিয়ে আমরা উল্লাস করি না, আনন্দও না। কিন্তু, মানুষ সেই দিন এই ঐতিহ্যগত নীতিও মানেননি। উল্লাস করেছেন, মৃতদেহকে জুতা দেখিয়েছেন। মিষ্টি বিতরণ করেছেন, জানাযায় [আত্মীয়রা ছাড়া] শরিক হননি। এটি ছিল ক্রোধের বহির্প্রকাশ। গত ৪৫ বছর সাধারণ মানুষ তাদের হাতে যেভাবে নিপীড়িত, নিগৃহীত, অপমানিত ও খুন হয়েছেন তা থেকে যে মুক্তি ও স্বস্তি- তারই ছিল বহির্প্রকাশ।

মানবতাবিরোধী অপরাধে আরও অনেকে দ-িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর আগে জামায়াতের দুই নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর হয়েছে। মানুষ সন্তুষ্ট হয়েছে, কিন্তু ক্রোধের বা স্বস্তির এমন বহির্প্রকাশ কখনও ঘটেনি।

এ দু’জন অপরাধ করে দ-িত হতে পারেন এবং সে দ- কার্যকর হতে পারে তা বাংলাদেশের মানুষ কখনও ভাবেনি। বিশেষ করে সাকাচৌ। এরা দু’জন তাদের কর্মকা-, ঔদ্ধত্য, মিথ্যাচার দিয়ে এমন এক বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন যা সবাইকে ভীত রাখত। তাদের ক্ষমতার ভিত্তি সম্পর্কে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল যে, বাংলাদেশে কেউ তাদের কিছু বলার সাহস করে না।

এই ক্ষমতা ও অর্থের ভিত কিভাবে তৈরি হয়েছিল? সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেয়া যেতে পারে। মুজাহিদ শিবির থেকে জামায়াতের নেতৃত্বের পদে এমন অনায়াসে এসেছেন যে, একটি ধারণা চালু ছিল তার দলে, তিনি কৃতী এক ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে তার পিতা ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। তার রাজাকার পিতার নামে তার বাড়ির সামনের রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

তিনি ১৯৭১ সালে ছিলেন আলবদরের উপ-কমান্ডার এবং নিয়ন্ত্রক। মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউটে ছিল তার সদর দফতর। সেখানে এত অত্যাচার করা হয়েছিল যে, এই ইমারতের বিভিন্ন কক্ষের মেঝেতে প্রায় একফুট রক্তের কাদা তৈরি হয়েছিল। তিনি এত হত্যা করেছিলেন যে, রায়ের বাজারের বিল মৃতদেহে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তিনি এত বীভৎসভাবে মহিলা পুরুষকে হত্যা করেছেন যে, সেইসব মৃতদেহ স্বজনেরা ভালভাবে দেখার সাহসও হারিয়েছিলেন। এতো গেল শুধু ঢাকার কথা। সারাদেশে এবং নিজ এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুট করে তিনি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে প্রথমে তিনি নেপাল এবং পরে পাকিস্তান চলে যান। ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশে নষ্টামির রাজনীতির প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের আলবদর পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় দেশে ফিরে আসেন। এবং তিন দশকের মধ্যে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার রাজাকার আলবদর বা অন্য কথায় খুনীদের পুনর্বাসন প্রকল্পে। সঙ্গে সঙ্গে অর্জন করেন বিত্ত।

ফরিদপুরবাসী অন্তত একটি কারণে সম্মান পেতে পারেন। মুজাহিদ অনেকবার নির্বাচন করেছেন, কিন্তু কখনও জিততে পারেননি। তার এলাকার মানুষজন মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। অর্থ, ক্ষমতা, দম্ভের প্রতিরোধ করেছেন নিঃশব্দে। নিজামী ও অন্যান্য জামায়াত নেতার এলাকার [যারা নির্বাচিত হয়েছেন] মানুষজন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সম্মানটুকু বিসর্জন দিয়েছেন।

মুজাহিদের চলাফেরায় কথাবার্তায় সব সময় একটি দম্ভ ফুটে উঠত। অনায়াসে তিনি বলতে পেরেছিলেন বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধ হয়নি, কোন যুদ্ধাপরাধী নেই বাংলাদেশে। জামায়াতের ভূমিকা কী ছিল ১৯৭১? উত্তর, আপনারা খুঁজে দেখুন। তিনি নির্বাচিত না হলেও যে শক্তিশালী তা প্রমাণ করেছিল খালেদার আমলে তার মন্ত্রিত্ব লাভ। সমাজ কল্যাণের মন্ত্রী হয়ে সারাদেশে তিনি জামায়াতী এনজিও সৃষ্টি করেছিলেন, অকাতরে সরকারী টাকা সেখানে বিলিয়েছেন।

সালাউদ্দিন কাদেরের জীবনও তো এ রকম। তিনি মুসলিম লীগ নেতা স্বাধীনতাবিরোধী ফজলুল কাদের চৌধুরীর সন্তান, তিনি বাবার সব গুণই লাভ করেছিলেন। পিতার সঙ্গে থেকেই সন্ত্রাসে তার হাতেখড়ি। ১৯৭১ সালে নয়, তার আগে থেকেই বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করেছিলেন, যা অনেকে ভুলে গেছেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ফজলুল কাদের চৌধুরী পরাজিত হলে সাকা রাঙ্গুনিয়ার তিনটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে অগ্নিসংযোগ করেন, মানুষও নিহত হয়। সেই হাতেখড়ি। ১৯৭১ সালে নিজ হাতে হত্যা করে বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাকিস্তানে পালান, সেখান থেকে লন্ডন। কী কারসাজিতে জানা যায় না, ১৯৭২-১৯৭৩ সালের দিকে অনায়াসে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নিশ্চুপ ছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর সেই জিয়াউর রহমানের আমলে পুনর্বাসিত হন এবং একইভাবে এমপি-মন্ত্রী হন। কয়েকবার দল গঠন করেন এককভাবে। শেষে স্থায়ী হন বিএনপিতে। যে কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ বা ব্যঙ্গোক্তি করতে তিনি দ্বিধা করতেন না। সব বিষয়ে অশ্লীল ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখতেন, এমনকি সংসদেও। তার কিছু উক্তির উদ্ধৃত করিÑ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গ্রেনেড মারলে সেটা তা মিস হতো না।’ এ ছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি নানা কটূক্তি করেন। বলেন, ‘আঙুল দেখাবেন না, ওই আঙুলে রিং পরানোর কথা ছিল।’

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী নিয়ে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘পঞ্চম সংশোধনীর কথা আর কী বলব? সোনা মিয়ারে বানাইসে লাল মিয়া আর লাল মিয়ারে বানাইসে সোনা মিয়া। মিয়া কিন্তু ঠিকই আছে। সোনাডা খালি লাল হইয়া গেছে।’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাকা চৌধুরী একবার বলেন, ‘ছাত্রজীবনে শেখ মুজিব আমার বাবার শিষ্য ছিলেন।’ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এত বেশি স্বপ্ন দেখতেন যে, মনে হয় ওনার স্বপ্নদোষ আছিল।’

দেশের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে তিনি কটূক্তি করেন, ‘সুশীল আবার কী! সু মানে সুন্দর আর শীল মানে নাপিত, তাহলে সুশীল মানে সুন্দর নাপিত। ফেসবুকে তার কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস হলো-‘ধর্ষণ যখন নিশ্চিত, তখন তা উপভোগ করাই শ্রেয়।’ একবার সংসদে তিনি বলেন, মাননীয় স্পীকার, আমি তো চো...হয়ে গেলাম।

সে সময় স্পীকার অশ্লীল কথা বলতে নিষেধ করলে তিনি জবাব দেন, ‘আমি আবারও চো... হয়ে গেলাম।’ নিজের সম্পর্কে একবার তিনি বলেন, ‘আমরা নেতা হইছি বইলা এমন না যে, নিজের পায়জামার ফিতা খুইল্লা জনগণের মশারি বাইন্ধা দিমু।’ বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিকে হুমকি দিয়ে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘চোখ রাঙাবেন না। আমি রাজাকার। আমার বাপ রাজাকার। এখন কে কী করতে পারেন করেন।’ বিভিন্ন সময়ে প্রসিকিউটরদের হেয় করে বলেন, ‘পার্সিকিউটর’। ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। অনেক আইন আমি করেছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন আমার করা। আপনি তো আমার করা এ আইন পড়েও দেখেননি।’

২০১৩ সালের ১৭ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার সময় ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি তো আপনারা দেবেনই, কিন্তু আমি পরোয়া করি না।’ ওইদিন এমনকি সাক্ষ্য দেয়া শুরুর আগের আইন অনুসারে শপথ নিতে অস্বীকার করে সাকা চৌধুরী চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমি একজন সংসদ সদস্য। আমি কেন এখানে শপথ নেব?’ পরে শপথ ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন তিনি।

৯ দিনের সাফাই সাক্ষ্যের পুরোটাই ইংরেজীতে দেন সাকা চৌধুরী। এর পক্ষে নিজেকে বাঙালী নয়, চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ‘আপনি বাংলায় সাক্ষ্য দিলে এত সময় লাগত না। তার চেয়েও বেশি কথা বলতে পারতেন। জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, আমি বাংলায় সাক্ষ্য দিতে পারব না, ইংরেজীতেই দেব। কারণ আমি বাঙালী নই, চাটগাঁইয়া। বাংলায় তো আমি ভাল বলতে পারতাম না। টেকনিক্যাল প্রবলেম হতো। এ সময় ভাষার প্রতি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘আমার মাতৃভাষা বাংলা নয়, চাটগাঁইয়া।’

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রায়ের দিন সাকা চৌধুরী বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে লাখ লাখ লোকের রায় দিলাম। এখন রায়ের জন্য এখানে বসে থাকতে হবে। নির্বাচন না করতে দেয়ার জন্য এতো কষ্ট।’ এরপর তার মন্তব্য, ‘আমার কবিরা গুনাহ হলো বিএনপিতে যোগ দেয়া।’ [আমাদের সময় ২২.১১.২০১৫]

তার স্ত্রীর প্রশংসা করতে হয় এমন এক ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন সহ্য করেছেন বলে। বাংলাদেশে এমন অশ্লীল মানব আগে কখনও জন্মগ্রহণ করেনি। ভবিষ্যতেও কোন মানুষের পরিবারে এমন কেউ জন্মগ্রহণ করবে কিনা তা অবশ্য আল্লাহ নির্ধারণ করবেন। তবে, আমাদের আশা, অশ্লীল মানবের এটিই হবে প্রথম এবং শেষ স্যাম্পল।

সাকা প্রায়ই বলতেন, তিনি জনপ্রতিনিধি। কিভাবে তিনি জনপ্রতিনিধি হতেন সে কথা সাধারণ মানুষ থেকে নির্বাচন কমিশনÑ সবাই জানত, কিন্তু কখনও কেউ কিছু বলেনি। নির্বাচনের সময় হিন্দু ও আওয়ামী লীগ মতাদর্শের অধিকাংশকে ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হতো না। এবং আগেই বাক্স ভর্তি করে রাখা হতো।

সাকাচৌর বিচার হয়েছে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য। ১৯৭২-এর পরের খুন-খারাবির জন্য বিচার হয়নি। দৈনিক জনকণ্ঠ ১৯৭২ সালের পর সাকার নির্দেশে খুন করা হয়েছে এরকম মানুষজনের ছোট একটি তালিকা তৈরি করেছেÑ

“রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা এলাকার বাসিন্দা রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান পেয়ারু, হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস মাস্টার, একই ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা এমদাদ, যুবলীগ নেতা জানে আলম ও আজিজ। ডাবুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম, টিটু ও বিটু। চিকদাইর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রফিক। নোয়াজিশপুরের যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম। রাউজান পৌর এলাকার পশ্চিম গহিরা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা আসলাম, গহিরা মোবারক খীল এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ফারুক। সুলতানপুরের ছাত্রলীগ নেতা ফখর উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন রাজু, একই এলাকার ফেরদৌস আলম মাস্টার, প্রদীপ সেন মেম্বার, আবুল কাসেম, সাতবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা আবু তালেব। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বদু ও মুন্সিপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম। বিনাজুরীর ছাত্রলীগ নেতা আশিষ বড়ুয়া। রাউজানের মোহাম্মদপুরের যুবলীগ নেতা নেজাম উদ্দিন, হরিশখান পাড়ার শাহ আলম। কদলপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মুসলিম উদ্দিন খানের শ্যালক এসএম ফারুক, সঞ্জীব বড়ুয়া, আরিফ বিল্লাহ। পাহাড়তলীর যুবলীগ নেতা মোহরম। বাগোয়ানের গশ্চি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন, আধারমানিক এলাকার যুবলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন জামিল, অমৃত তালুকদার, কৃষ্ণ দত্ত, মোঃ মিয়া, নাসিম, যুবলীগ নেতা রফিক, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আবদুল রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল, লিটন, যুবলীগ নেতা আবুদল হামিদ ও উরকির চরের ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ।” [২৪.১১.২০১৫]

এসব হত্যার কোনটির বিচার হয়নি। এরা সব আওয়ামী লীগের। সুতরাং গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ আমলেই যদি এসব হত্যার বিচার না হয়, তাহলে তার ক্ষমতা অপ্রতিহত মনে হবে না কেন? তা ছাড়া চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগসহ কোন দলের নেতারা সাকাচৌর বিরুদ্ধে কখনও অবস্থান নেননি। আজ চট্টগ্রামের মহীউদ্দিন চৌধুরীর বিবৃতি দেখলাম যে, নিজ দল ও সারাদেশে অনেক রাজাকার রয়েছে। আমি জনাব চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচন থেকে শুরু করে অনেক সময় কাজ করেছি, সমর্থন করেছি। ক্ষমতায় থাকতে চট্টগ্রামের গাজী সালাহউদ্দিনসহ আমরা অনেক দেন-দরবার করেছিলাম পাহাড়তলি বধ্যভূমি থেকে কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রয়াত ডা. নূরুল ইসলামের গ্রাস থেকে বধ্যভূমির জমিটুকু ছাড়িয়ে বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ করে দিতে। তাকে নড়াতে পারেনি। চট্টগ্রামে আঞ্চলিকতা প্রবল। তারা অপরাধী হলেও যদি ‘চাটগাইয়া’ হয়, চুপ করে থাকবেন। আর আমরা ‘বহিরাগতরা’ হলাম ‘বইঙ্গা’। পাকিরা বাঙালীদের বলে ‘বং’।

এসব কারণে, বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক নেতার চেয়ে সাকাচৌকে আলাদাভাবে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মনে করা হতো। আওয়ামী লীগসহ অনেক দলের নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন/ছবি পত্র-পত্রিকায় ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়ই আছে। সাকাচৌ তাই বলতেন, তাকে গ্রেফতার করলে চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মুজাহিদ বলতেন, তাকে গ্রেফতার করলে সারা দেশে আগুন জ্বলবে।

চলবে...