২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবেশ দূষণ ও শিশুরোগ

পরিবেশ বিনাশী কর্মকাণ্ড যেমন- নদীদূষণ, মাটিদূষণ, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মাত্রা বাড়তে বাড়তে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এখনও পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাঁটি, দেদার পোড়ানো হচ্ছে গাছ। আবাসিক এলাকায় গার্মেন্টস, হাসপাতাল, লেদ কারখানাসহ পরিবেশ দূষণকারী বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে বহু আগে থেকেই। ফলে পরিবেশ দূষণ আগের মতোই হচ্ছে। বাড়ছে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত রোগবালাই। অথচ পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবছর সরকার রাজস্ব খাত থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শতকরা ৬৭ ভাগ শিশু শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, এ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যা রয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে নানাভাবে পরিবেশ দূষণ। এসব রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলোতে আলাদা শিশু পালমোনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টি এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র সরবরাহ করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজি ফোরামের (বিপিপিএফ) এক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সারা বিশ্ব এখন উন্নত প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক পরিসরে বসবাস করলেও মানুষ পরিবেশের কারণে বিপর্যস্ত। সারা বিশ্ব এখন পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত। একটি সুস্বাস্থ্যকর দূষণমুক্ত পরিবেশ যেমন মানবজীবন বিকাশের সহায়ক, তেমনি অস্বাস্থ্যকর ও দূষণযুক্ত পরিবেশ জীবন বিনাশের কারণ। পরিবেশের ওপরই মানব ও প্রাণিকুলের জীবনযাত্রার বিকাশ নির্ভরশীল। পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অপরাধ বাড়ছে; কিন্তু সেভাবে মামলা হচ্ছে না বা করা যাচ্ছে না। পরিবেশ দূষণে সব ধরনের আইনেই মামলা করার বিধান, শাস্তির বিধান আছে; কিন্তু তারপরও আমরা নানাভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছি। বিদ্যমান আইনে নদীদূষণ, শব্দদূষণ, পানিদূষণ, বায়ুদূষণের বিচারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি হলেও মামলা হচ্ছে নিতান্তই কম। এছাড়া পরিবেশ ধ্বংসকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। যে সময়ে সারা বিশ্বে পরিবেশ সুরক্ষায় আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচী চলছে, সে সময়ে আমাদের দেশের পরিবেশ দূষণজনিত রোগবালাইসহ যাবতীয় সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে, যা শঙ্কিত হওয়ার মতোই।

আমাদের পরিবেশকে বাসযোগ্য করতে হবে। দূষণের কারণে শিশুর শ্বাসকষ্টসহ সব বয়সী মানুষের যেসব রোগবালাই সৃষ্টি হচ্ছে তা প্রতিকারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, বাড়াতে হবে জনসচেতনতা। মনে রাখতে হবে, আমাদের পরিবেশ ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ পরিবেশ মানুষ ও জীবকুলের অস্তিত্বের স্বার্থে দূষণমুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন।