২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারের কঠোর নির্দেশ ॥ জামায়াতের ৫ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সরকারের কঠোর নির্দেশ ॥ জামায়াতের ৫ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
  • অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে ;###;সেবা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন রূপে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো

বিভাষ বাড়ৈ/রহিম শেখ ॥ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গণদাবি বাস্তবায়নের সঙ্গে এবার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আদালতে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত জামায়াত-শিবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্দেশ অনুসারে জামায়াতীদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে সারাদেশে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আর্থিক, সেবামূলক ও শিক্ষাসহ ৫ শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সক্রিয় প্রতিটি মানুষের দাবি, জামায়াতের বিচার করলেই হবে না, দলটির অর্থের উৎসও বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করার অপতৎপরতা কোনদিন বন্ধ হবে না।

জানা গেছে, দুদিন আগেই জামায়াত নিয়ন্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের দাবির মধ্যেই রবিবার এই নির্দেশ যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে। বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে জামায়াতের হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নি রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবির আন্দোলনকারীরাও বলে আসছেন, এর মাধ্যমে দলটি আর্থিকভাবে পুষ্ট হয়েছে। দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরাও বহুবার বলে আসছে জামায়াতের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গীদের তৎপরতা চলছে এবং জামায়াতই এ দেশে জঙ্গীদের আসল গডফাদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দির কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদ- কার্যকরের পরপদিনই রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ওই চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ‘জামায়াত নিয়ন্ত্রিত’ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ রিজওয়ানুল হুদা স্বাক্ষরিত ওই চিঠির সঙ্গে দুই পাতার একটি বিবরণী ও ২১৬ পাতার একটি সংযোজনীও পাঠানো হয়েছে। চিঠির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোঃ রাজী হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার যখন নির্দেশ দিয়েছে আমরা (বাংলাদেশ ব্যাংক) অবশ্যই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। চিঠি ও তার সঙ্গে যেসব তথ্য-উপাত্ত অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে, প্রথমে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটা করার সুযোগ আছে, সেগুলোও দেখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর একটি সূত্র বলেছে, ইতোমধ্যেই ব্যাংক খোঁজ নেয়া শুরু করেছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায় কি আছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে তা দেখা হচ্ছে। এর আগে গত মাসে শেষ দিকে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আর্থিক, সেবামূলক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক গবর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়। এ চিঠির একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছেও পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিভিন্ন সময় নাশকতামূলক কর্মকা-ে সরকার উদ্বিগ্ন। এ সব ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনকে আর্থিক মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। এ নির্দেশ অনুসারে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সারাদেশে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত ৫৬১টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সারাদেশে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত মোট ৫৬১টি আর্থিক (ব্যাংক, বীমা সমিতি), সেবামূলক (হাসপাতাল, ক্লিনিক), শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট) ও সংগঠন রয়েছে।

সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সকল প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে তাদের দলীয় বিশ্বাস ও কর্মকা-ের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এ সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিমিত্তে বৈদেশিক সাহায্যের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে এনে তা তাদের সংগঠনের পেছনে ব্যয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে।

২০১৩ সালে শাহবাগে আন্দোলন শুরুর পরই গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ওঠে। জনতা আন্দোলনে শামিল হয়ে প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনার দাবি জানান। যেমন ইসলামী ব্যাংক, যাকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘সেøাগান ৭১’ এর তালিকায়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের পরামর্শও এসেছে বিভিন্ন সময়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এতদিন স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম বলে বলছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে জামায়াতের ১২৭ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম ॥ দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোশকতায় সারাদেশে পরিচালিত হচ্ছে দেশী-বিদেশী ৪৩টি এনজিওসহ ১২৭টির আার্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মের নাম ব্যবহার করে নানা কৌশলে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুফল পাচ্ছে জামায়াত ও তার সংগঠন ছাত্র শিবির। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ‘রাজনৈতিক দল’ বা ‘সংগঠন’ হিসেবে জামায়াতের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে তদন্ত সংস্থার দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে প্রস্তাবও দেয়। জনকণ্ঠের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশী-বিদেশী এনজিও ৪৩, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২২ এবং হাসপাতাল-ক্লিনিক ১০টিসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিবেদনে জামায়াত ও তার সহযোগী সংগঠন আলবদর, আলশামস, রাজাকারসহ তাদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামকে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনগত বিষয় খতিয়ে দেখার জন্যও প্রস্তাবও করা হয়।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÑ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফারইস্ট ইসলামী ব্যাংক, ফয়সাল ইনভেস্টমেন্ট ফাউন্ডেশন, ইসলামী ফাইনান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ মসজিদ মিশন, দারুল ইহসান ট্রাস্ট, আল ইনসান ফাউন্ডেশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিডি ফুডস, টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইয়ুথ গ্রুপ, কেয়ারি গ্রুপ, মিশন গ্রুপ, মেট্রো গ্রুপ এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দিগন্ত টেলিভিশন, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম, দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন, আল মানার অডিও ভিজ্যুয়াল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আইবি মেডিক্যাল কলেজ, আইবি কমিউনিটি হসপিটাল, আইবি ফিজিওগ্রাফি এ্যান্ড ডিজ্যাবল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হসপিটাল, আইএস ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার, আল মাগরিব চক্ষু হসপিটাল, ফুয়াদ আল খতিব মেডিক্যাল ট্রাস্ট ও সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ডায়ালগ। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কেয়ারি ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত পিংক সিটি, মিশন ডেভেলপারস, কেয়ারি হোল্ডিং, কোরাল রিফ, ইনটিমেট হাউজিং, সোনারগাঁ হাউজিং, আল-হামরা শপিং সেন্টার (সিলেট), মেট্রো শপিংমল, মনোরম আইবি ক্রাফট এ্যান্ড ফ্যাশন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আইবি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, আইবি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাং, কিং ফয়সাল ইনস্টিটিউট, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লার আল-আমিন একাডেমী, ইসলামী প্রি-ক্যাডেট স্কুল, লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেন, আল হেরা কিন্ডারগার্টেন।

এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর তালিকাভুক্ত দেশী-বিদেশী ৪৩ এনজিওর কর্মকা-ে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন, জাস্টিস কনসার্ন, ইসরা ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইসহারুল মুসলিমিন, রাবিতা আল আলম আল ইসলামী, আল হারামেইন ইসলামী ফাউন্ডেশন, আল ফোরকান ফাউন্ডেশন, ফুয়াদ আল খতিব ফাউন্ডেশন, সার্ভেন্টস অব সাফারিং হিউমিনিটি ইন্টারন্যাশনাল, ইসলাহুল মুসলিমিন, রিভাইভল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি, রাবেতা তৌহিদ ট্রাস্ট, বেনোভোলেন্ট ট্রাস্ট, আল হারমেইন, কুয়েত চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, ইসলামিক রিলিফ এজেন্সি, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, ইসলামিক এইড সমিতি, এ্যাসোসিয়েট অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন, আদর্শ শিক্ষা পরিষদ, আদর্শ কুটির, এগ্রো-ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট, আল ফারুক সোসাইটি, আল আমিন, আল মুদারাবা ফাউন্ডেশন লিমিটেড, আল মজিদ সোসাইটি, আল ইনসান-সুনিসি সমিতি, আঞ্জুমান ইতিহাদ বাংলাদেশ, এ্যাসোসিয়েশন ফর ওয়েলফেয়ার অব হিউম্যান সার্ভিসেস, এ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সি ইন বাংলাদেশ, বায়তুস সার্ফ ফাউন্ডেশন লিমিটেড, সাঁথিয়া-বাংলা পরিষদ, বাংলাদেশ কৃষি কল্যাণ সমিতি, ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মসজিদ সমাজ, দারুল ইফতা, দারুস সালাম সোসাইটি, ধলেশ্বরী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, আল ফারুক ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মানারাত ট্রাস্ট।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্র, সাইমুম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক হাইয়ার লার্নিং সোসাইটি, আল মারকাজুল ইসলামী ও এ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সিস অব বাংলাদেশ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অনাবিল, আবাবিল, ছালছাবিল, সৌদিয়া, পাঞ্জেরী, বোরাক, কেয়ারী সিন্দাবাদ (সেন্টমার্টিন)।

জামায়াতের বিভিন্ন কাগজপত্র প্রমাণ দেয় আরও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ॥ ব্যাংক প্রতিষ্ঠান ও ইনস্যুরেন্সের মধ্যে আছে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইসলামী ইনস্যুরেন্স কোং লিমিটেড, তাফাকুল ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স। কোচিং সেন্টার ও গাইড বইয়ের মধ্যে আছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফোকাস, সাকসেস, রেটিনা, কনক্রিট, কনসেপ্ট, একসিলেন্ট, প্রবাহ, ইনডেক্স, রেডিয়াম, আল্টিমাম। হাসপাতাল-ফার্মাসিউটিক্যালস্স এ আছে- ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনে সিনা ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ফুয়াদ আল খতিব, মেডিক্যাল ট্রাস্ট, আদ-দ্বীন হাসপাতাল, মা মনি হাসপাতাল, মেডিনোভা, মহানগর হাসপাতাল, ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, কমিউনিটি হাসপাতাল। পত্রিকা ও টেলিভিশন মিডিয়ার মধ্যে দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রাম। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আরও আছে কেয়ারি সিন্দবাদ, মেট্রো শপিং সেন্টার, কোরাল রীফ, মিশন ডেভেলপার্স, ইন্টিমেট হাউজিং, সোনারগাঁ হাউজিং, লালমাটিয়া হাউজিং, সিলভার ডিজেল হাউজিং, ওয়ান সিটি, আবাসন সিটি, বনফুল। ইসলামিক ব্যাংক এবং ফাউন্ডেশনের অধীনে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ, কমুউনিটি হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক ক্রাফট এ্যান্ড ফ্যাশন, ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইসলামী ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ইসলামী ব্যাংক ফিজিওথেরাপি এ্যান্ড ডিজ্যাবল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ডায়লগ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

ইবনে সিনা ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে- ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ এ্যান্ড হসপিটাল, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিকাল লি:, ইবনে সিনা ডায়গোনস্টিক এ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার।

জামায়াতের আছে ১৯৮ অঙ্গ ও কথিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ॥ ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ, শাহ অলি উল্লাহ ইনস্টিটিউট, ইসলামী ক্যাসেট বিতান, ইসকপ অডিও ভিজিয়াল সেন্টার, রেটিনা মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং, ফোমাস ভর্তি কোচিং, কনটেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, কনক্রীট ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি কোচিং, কামিয়াব গাইড, আল ফাতাহ গাইড, আল ফালাহ্ গাইড, স্পন্দন অডিও ভিজিওয়াল সেন্টার, বনফুল মিষ্টি এ্যান্ড কোম্পানি, মধুবন এ্যান্ড কোম্পানি, ঝমঝম মিষ্টি মহল, আল আকাবা ইন্টারন্যাশনাল রিক্রোডিং এজেন্সি, কেয়ারী ইলিম্যাশন শফিং, আল-রাজী হাসপাতাল, আল-রাজী ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি এ্যান্ড ট্যুরস, আধুনিক প্রকাশনী, কামিয়াব প্রকাশনী, পিস পাবলিকেশন, মাসিক কিশোর কণ্ঠ, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, সোনালী সোপান প্রকাশনী, তাছমিয়া পাবলিকেশন, সেন্টার ফর ইসলামিক দাওয়াহ এ্যান্ড কালচার, শতাব্দী প্রকাশনী, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ন্যট, প্রত্যয় প্রকাশনী, আরতার কো অপারেটিভ মাল্টিপারপাস লিমিটেড। আল ইহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড, নগর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড, নগর প্রপার্টিস এ্যান্ড ডেভেলপারর্স লিমিটেড, আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম। প্রতিভা কোচিং সেন্টার, আল মামুন ট্রাভেলস এজেন্সি, চট্টগ্রাম, আল হেরা ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস, দারুল শেফা ক্লিনিক, চট্টগ্রাম। মাদারবাড়ী আদর্শ হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়, চট্টগ্রাম। ঝাউতলা আদর্শ দাতব্য চিকিৎসালয়, আল আরাবিয়া হজ গ্রুপ। আল্লামা মওদুদী ইনস্টিটিউট, আল জাবের ইনস্টিটিউট, আল জাবের বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জামান-আনোয়ার ইনস্টিটিউট, ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ হাসপাতাল, আল ফালাহ্ আবাসিক হোটেল, ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ হাইস্কুল, মিষ্টি মেলা, আবু হুরায়রা একাডেমি, আদর্শ ইসলামিক ক্যাডেট স্কুল, নুরে মদিনা ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস, আয়তুল হিকমা ক্যাডেট মাদ্রাসা, দৈনিক কর্ণফুলী, দৈনিক হিমছড়ি, আল ফালাহ মানি চেঞ্জার। দি রেনেসা কন্ট্রাকশন কোম্পানি, আস শেফা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইসলামিক ডাইরেক্টরি এ্যান্ড ডাটা ইনফরমেশন, ওয়েলকাম ট্রাভেলস এজেন্সি, ইনস্টিটিউট অব মডার্ন এরাবিক, মডার্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, নাসিরাবাদ, ইসকপ হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ, চট্টগ্রাম, আল ইসরা ফাউন্ডেশন, সুদান। আল ফুজাইয়া ওয়েল এ্যাসোসিয়েশন। ওয়ার্ল্ড এক্সেবিলি অব মুসলিম ইয়ুথ (ওয়ামি)। নওমুসলিম পুনর্বাসন কেন্দ্র, চট্টগ্রাম। পিরুজপুর জনকল্যাণ ট্রাস্ট, ইত্তেহাদুল উম্মা বাংলাদেশ, তালিমুল কুরআন ট্রাস্ট, বাংলাদেশ প্যান্টন প্রিন্টিং প্রেস, বায়তুল্লাহ হজ কাফেলা, মাহাদী ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেল, মাহদী ওভারসিজ, গ্লোবাল প্রিন্টিং এ্যান্ড পাবলিকেশন নেটওয়ার্কস, ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার, বায়তুল আমান প্রপার্টিজ এ্যান্ড ডেভেলপারস, আল মাগরিব চক্ষু হাসপাতাল, বাংলাদেশ মসজিদ মিশন, আল ইহসান ফাউন্ডেশন, ইয়ুথ গ্রুপ, ফেয়ারি গ্রুপ, মিশন গ্রুপ, বি আই ও মজিদ, মদিনা একাডেমি পাবলিকেশন, চট্টগ্রাম। মেট্রো গ্রুপ, ফুয়াদ আল খতিব মেডিক্যাল ট্রাস্ট ও সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ডায়ালগ, আল মানার অডিও ভিউসাল কেয়ারি ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস, মিশন ডেভেলপারস, কেয়ার হোল্ডিং লিঃ, কোরাল রিফ কোং, সোনারগাঁও হাউজিং লিঃ, ইনটিমেট হাউজিং সোসাইটি লিঃ, আল হামরা শপিং সেন্টার লিঃ, মেট্রো শপিংমল, মনোরম, আইবি ক্রাফট এ্যান্ড ফ্যাশন, আইবি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, আইবি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, আল হিজাব ফ্যাশন, স্পন্দন ফ্যাশন হাউজ, লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেন, মানারাত ট্রাস্ট, আল ফারুক ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন, ধলেশ্বরী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, বায়তুস শরফ ফাউন্ডেশন, সার্ভেন্টস অব সাফারিং হিউমিনিটি ইন্টারন্যাশনাল, ইসলাহুল মুসলিমিন, এ্যাসোসিয়েশন অ, মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সি ইন বাংলাদেশ, রিভাইভেল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি, বাবেতা তৌহিদ ট্রাস্ট, আল হারামাইন, আঞ্জুমান ইত্তিহাদ বাংলাদেশ। এ্যাসোসিয়েশন ফর ওয়ালফেয়ার অব হিউম্যান সার্ভিসেস, কুয়েত চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, ইসলামিক রিলিফ এজেন্সি, আল ইনসান সুনিতি সমিতি, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, আল মজিদ সোসাইটি, ইসলামিক এইড সোসাইটি, এ্যাসোসিয়েট অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন, সাইমুম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র/সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী, ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক হইয়ার লার্নিং সোসাইটি। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, শুধু জামায়াতের বিচার করলেই হবে না। দলটির অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। কারণ জামায়াত নানা কৌশলে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করছে এবং সেই অর্থ দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে ব্যয় করছে। তিনি বলেন, জামায়াতের বিচার দু’ভাবে অর্থাৎ একাত্তরে গণহত্যা ও বর্তমানে যেসব সন্ত্রাসী ভূমিকা দলটির রয়েছে, তার জন্য হতে পারে। এছাড়া দলটির অর্থের উৎস বন্ধ করতে হলে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ