২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ৩০ ডিসেম্বর ভোট

  • ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা ॥ বাছাই ৫ ও ৬, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এসব পৌরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বুধবার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ধার্য্য করা হয়েছে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শনি ও রবিবার। এছাড়া বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বর্তমানে দেশে ৩২৩টি পৌরসভা রয়েছে। মেয়াদ শেষ হয়ে আসার কারণে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৩৪টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হলো। বাকি পৌরসভাগুলোয় পরবর্তী ধাপে নির্বাচন করা হবে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী পৌরসভায় মেয়র পদে ইসির নিবন্ধিত দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত এই মর্মে প্রত্যয়ন থাকতে হবে যে উক্ত প্রার্থীকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দল কোন পৌরসভায় একাধিক ব্যক্তিকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবে না। একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় উক্ত দলের সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী, নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি পত্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৫ দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের নিকট এবং উক্তপত্রে একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও প্রেরণ করতে হবে। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জন্য সংশ্লিষ্ট পৌরসভার একশ’ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। তবে কোন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ইতোপূর্বে নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার জন্য ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর জমা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

পৌরসভা নির্বাচনে এবারই প্রথম মেয়র পদে দলীয় ভিক্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯, স্থনীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৫। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান সংশোধিত আইন অনুযায়ী মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পৌরসভা আচরণ বিধি অনুযায়ী সরকারী সুবিধভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন পূর্ব সময়ে প্রচার বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া পৌরসভা আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, সরকারের মন্ত্রী চীফহুইপ, ডেপুটি স্পীকার, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোন ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

কমিশন জানিয়েছে, ২৩৪টি পৌরসভায় সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ৯৫২টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ৭৩৮টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৮২টি। এ সব পৌরসভায় মোট ভোটার ৭১ লাখ ৬২ হাজার ৩৯৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৬ জন। আর নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪০ জন। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রিসাইডিং অফিসার থাকবে ৩ হাজার ৫৮২ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ১৯ হাজার ১৮৭ জন এবং পোলিং অফিসার থাকবেন ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনে সবাইকে কমিশন প্রণীত আচরণ বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছেয়ে গেছে। এসব পোস্টার তফসিল ঘোষণার পর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে নামিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বপ্রণোতিদভাবেই নামিয়ে না ফেললে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় আগের মতো রাখা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলে প্রতি পৌরসভায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে। তবে ২০ হাজার টাকার বেশি দান দিলে তা চেকের মাধ্যমে দিতে হবে। পৌরসভায় এক লাখের ওপর ভোটার হলে প্রার্থীরা ৫০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার ভোটার হলে ২০ হাজার টাকা এবং ২৫ ভোটার হলে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন। নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল বিধি ভঙ্গ করলে তার জন্য অনধিক পাঁচ লাখ টাকা দ-েরও বিধান রাখা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার পৌরসভা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। সব দলের অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও কমিশনের বেশি ভাল হবে। মেয়র পদে দলীয় এবং কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় হলে নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের কোন সমস্যা হবে না। কারণ কমিশন সব ধরনের নির্বাচন করে অভ্যস্ত। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে সব দলের জন্যই লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে। এটি একটি বড় নির্বাচন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সভা করেই সে বিষয়টি ঠিক করা হবে।

তিনি বলেন, আশাকরি এ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। প্রচার চালাবে। তবে আইন, বিধি মেনেই প্রচার চালাতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সময় খুব কম। তাই খুব তাড়াতাড়ি কাজ করতে হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে, জুনে নির্বাচন করতে হতো। কেননা, এর মধ্যে এসএসসি (মাধ্যমিক) ও এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষা আছে। আবার জুনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। তাই ডিসেম্বর ছাড়া নির্বাচন করার কোন উপায় নেই। এজন্য তাড়াহুড়া করেই সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

তফসিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, মোঃ শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম ও জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান।