২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

এম শাহজাহান ॥ সকালের দামে বিকেলে মিলছে না পেঁয়াজ। নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বাড়ছে এখন ঘণ্টায় ঘণ্টায়। সোমবার সন্ধ্যায় যে পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তা পেতে ভোক্তাকে গুনতে হয়েছে ৭০-৭৫ টাকা। অর্থাৎ বার ঘণ্টায় দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের এই দাম নিয়ে ভোক্তাদের অস্বস্তি বাড়ছেই। আমদানিকৃত প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। অথচ একদিন আগেও ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। ক্রেতাদের দাবি, নতুন পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম সামনে রেখে দাম বাড়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে পেঁয়াজের।

এদিকে, মৌসুম সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রবণতা তেমন একটা দেখা না গেলেও এবার বাজারে উল্টোচিত্র দেখা যাচ্ছে। বছর জুড়ে পেঁয়াজের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা জিঁইয়ে রাখা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আমদানিতে সুবিধা প্রদান ও অভ্যন্তরীণ মজুদকৃত রাখী পেঁয়াজের বড় অংশ বাজারে আসায় সম্প্রতি দাম কমে এসেছিল। এতে করে গত ১৫ দিনে কমতে কমতে ৭৫ টাকার টাকার পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছিল ৪০-৪৫ টাকায়। বর্তমান দামের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আবার কোথায় ঠেকবে পেঁয়াজের মূল্য সেই প্রশ্ন ভোক্তাদের।

শুধু তাই নয়, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারা বিরক্তও। কাপ্তান বাজারের পেঁয়াজ ক্রেতা নূরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যবসায়ীদের ‘নয়ছয়ের’ কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে প্রতিঘণ্টায়। এক্ষেত্রে বাজার মনিটরিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর ঘুমিয়ে আছে। দাম বাড়ানোর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হউক। তিনি বলেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ক্লোজ মনিটরিং প্রয়োজন। অথচ বাজারে মনিটরিং টিম নেই।

জানা গেছে, পেঁয়াজের বর্তমান মজুদ ও আমদানির যে হিসাব সরকারের কাছে রয়েছে তাতে এই পণ্যটির দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস সেল। ওই তথ্যমতে, এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। এছাড়া মিয়ানমার ও ভারত থেকে আরও ৫ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর বছরে চাহিদা রয়েছে সর্বোচ্চ সাড়ে ২৩ থেকে ২৪ লাখ টনের। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়ার তেমন কোন কারণ নেই বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারতের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়া এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার একটি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে।

যদিও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাজারে ওই পেঁয়াজের দাম পড়েছে ২৫-২৮ টাকা। তাই সব খরচ মিলিয়ে কোনভাবেই আমদানি করা পেঁয়াজের দাম দেশে ৩৫-৪০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু গত দু’দিনে আবার লাগামহীন বেড়ে চলছে দাম। দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত বাজার মনিটরিং টিম, গোয়েন্দা সংস্থা এবং দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস সেল বাজার পর্যবেক্ষণ করে ইতোমধ্যে দেখেছে দেশে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। মজুদ এবং আমদানি পরিস্থিতি যে অবস্থায় রয়েছে তাতে দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস সেলের উর্ধতন কর্মকর্তা নন্দন কুমার বণিক জনকণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক করা হয়েছে। সম্প্রতি পেঁয়াজসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমে এসেছিল। কিন্তু এখন আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পর আবার পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, সামনে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। এই সময়ে দাম বাড়া দুঃখজনক।

নির্বাচিত সংবাদ