২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় হবে, এ নিয়ে গোলকধাঁধায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দলটি। দলের সংসদীয় বোর্ড নাকি পৃথক কোন বোর্ড, জেলা না উপজেলা আওয়ামী লীগ এসব মনোনয়ন প্রদানের ‘অথরিটি’ হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় দলটির মেয়র প্রার্থীরা। তাই মনোনয়ন পেতে এখন ঢাকামুখী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। বেশ ক’জন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা শুধু এটুকু বলছেন, খুব শীঘ্রই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্র নাকি তৃণমূল থেকে দেয়া হবে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত দিক-নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে দলটির নানা সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমবার দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বাড়তি সতর্কতা নেবে আওয়ামী লীগ। একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দলটি, থাকবে সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থাও। যোগ্যপ্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে দলের বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী কাঠামো গঠনেরও চিন্তা করছে দলটি। তৃণমূল থেকে প্রার্থী মনোনয়নে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকেই এবার কেন্দ্র থেকেই ২৩৪ পৌরসভার একক প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেই দলের গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা-উপধারায় সংশোধনী আনা হবে। যা পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে অনুমোদন নেয়া হবে।

জানা গেছে, সংসদীয় বোর্ডের মতোই তৃণমূল পর্যায়েও বোর্ড গঠন করে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের কোন নির্দেশনা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে না হলে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এলাকার ক্ষমতাধর এমপিরা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে ছড়ি ঘোরাতে পারেন এমন আশঙ্কাও রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রের দিক-নির্দেশনা চান তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতারা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করা হতে পারে এবং সেখানে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একযোগে দেশের ২৩৪ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেছে। প্রতিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সরাসরি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করাটা কঠিন। প্রার্থী ঠিক করতে বিভাগ, জেলা বা থানা পর্যায়ের নেতাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর বাইরে বিভিন্ন মাধ্যমে জরিপ চালাবে দলটি। জরিপের রিপোর্ট আর তৃণমূল নেতাদের সুপারিশ একত্রিত করে সারাদেশে একক প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনটি স্থানীয় সরকারের হলেও প্রতীক দলীয় হওয়ায় এবার ফলাফল দলের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলবে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নৌকা বনাম ধানের শীষের লড়াইটা বেশ জমে উঠবে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত না জানালেও শেষ পর্যন্ত দলটি অস্তিত্ব রক্ষায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাই নির্বাচনী লড়াইয়ে ভাল ফল পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে দলটিতে। এক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন একক প্রার্থী নিশ্চিতের বিষয়টি।

সূত্র জানায়, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়া হবে, এটি চূড়ান্ত না হলেও আগেভাগেই বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এলাকায় জনপ্রিয়তার প্রাধান্য থাকবে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া দলীয় কোন্দল, দলের অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, দলের প্রতি আনুগত্য, দলের প্রতি কতটা ত্যাগীÑ এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। এছাড়া প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে সারাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি ত্বরিত জরিপ চালানো হবে। জরিপের ফলাফলের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতের সমন্বয় করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী নির্ধারণে দলগুলোর আলাদাভাবে নিজেদের পদ্ধতি বের করে নিতে হবে। সংসদীয় বোর্ডের আদলে তৃণমূলে পৃথক বোর্ড গঠন করে দেয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। প্রয়োজনে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনেরও সিদ্ধান্ত হয়।

৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় শীঘ্রই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা ডাকা হতে পারে। তবে দলের মধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়ে যে, মেয়র পদে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার পাশাপাশি পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত একক প্রার্থী সমর্থন দেবে আওয়ামী লীগ। তবে পৌরসভা নির্বাচন ১৪ দলীয় জোটগতভাবে হবে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যার্শীদের দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। চলছে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়। কেন্দ্রের নির্দেশনা না পেলেও অনেক স্থানে দলের পৌর ও উপজেলা কমিটি প্রাথমিকভাবে একক প্রার্থী বাছাই করেছে। অধিকাংশ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের গড়ে ৭ জন করে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। তাই শরিক দল নয়, নিজ দলীয় একাধিক প্রার্থী বাছাই করা নিয়েই চিন্তিত আওয়ামী লীগ। অবশ্য সৎ, যোগ্য, মেধাবী, দলের জন্য নিবেদিত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির।

নির্বাচিত সংবাদ