২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গীবাদীদের উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ এই মুহূর্তে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক হাল করুণ। জামায়াত ও অন্যান্য উগ্র জঙ্গীবাদীর সঙ্গে ‘ইসলাম রক্ষা’র নামে গাঁটছড়া বেঁধে প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে যে শক্তি সঞ্চয় করে দেশব্যাপী এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর নেতৃত্বদানকারী বিএনপি বর্তমান রাজনীতিতে সাধারণ ও সচেতন মানুষের কাছে চরমভাবে নিন্দিত। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। উল্টো তলে তলে সমর্থন যুগিয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা, দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ দিয়ে দেশের অগ্রগতিকে থমকে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রগতিমনা শক্তির সাহসে বলীয়ান হয়ে এসব স্বাধীনতাবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তিকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু জঙ্গীদের মরণকামড়ের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে মনে করেন রাজনীতি সচেতন বিশিষ্টজনরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জামায়াত-বিএনপির কয়েক শীর্ষ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-ে দ-িত হওয়ার পর এ নিয়ে করণীয় প্রশ্নে বিএনপি মূলত দেশী-বিদেশী কোন সমর্থনই পায়নি। দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটিয়ে নানা লবিং করেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবী, মুক্তমনা মানুষদের একে একে হত্যা করেও নানা অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাতেও সরকারকে এক চুলও নড়ানো যায়নি। আন্তর্জাতিক মানের আইনী প্রক্রিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, চলছে এবং কারও কারও চূড়ান্ত বিচার হয়ে ফাঁসি, যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় কার্যকর হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও বেশ ক’জন। পুরো বিষয়টি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব বয়ে এনেছে।

বর্তমানে জামায়াত-বিএনপি রাজনীতি তথা জঙ্গীবাদের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিকটি হচ্ছে এদের অর্থ প্রাপ্তির রুট বন্ধ করা যাচ্ছে না। দেশী-বিদেশী জঙ্গীবাদ সমর্থনকারীরা এদের জন্য দেদার অর্থ প্রেরণ করছে অবৈধ পথে। এর প্রমাণও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। সঙ্গতকারণে এটা পরিষ্কার যে, দেশে জঙ্গীবাদ এক সময় যেমন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, মাঝপথে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এরা দমে যেতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় জঙ্গীদের উৎসগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা অত্যাবশ্যক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।