২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) তৃতীয় আসরে উত্তেজনা চলছেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা খেলাতেও বিরাজ করছে। তৃতীয় দিনেও খেলাতে উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা পাওয়া গেছে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচই মিলছে বারবার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের তারকা অভিনেতা হৃত্বিক রোশন ও অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ উত্তেজনা তৈরি করে দেন। এরপর সেই উত্তেজনা মাঠের লড়াইয়ে ধরে রেখেছেন ক্রিকেটাররা। মঙ্গলবার যেমন মাশরাফি বিন মর্তুজার উত্তেজনাকর ব্যাটিং মিলল। মাশরাফির অর্ধশতকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও ৭ উইকেটে চিটাগাং ভাইকিংসকে হারাল। প্রতিটি ম্যাচই দেখা যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে গিয়ে ফয়সালা হচ্ছে। চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ম্যাচের রেজাল্ট বের হচ্ছে।

প্রতিদিন দু’টি করে ম্যাচ হচ্ছে। দুপুর ২টায় একটি, সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় আরেকটি ম্যাচ হচ্ছে। ফাইনালসহ মোট ৩৪টি ম্যাচ হবে। খেলা হবে ২৪ দিন। এরমধ্যে তিনদিন চলে গেছে। ম্যাচ হয়ে গেছে ৬টি। মঙ্গলবার সিলেট সুপার স্টারস ও বরিশাল বুলসের মধ্যকার ম্যাচের আগে প্রতিটি ম্যাচই শেষ মুহূর্তে শেষ হয়েছে।

প্রথমদিন দু’টি ম্যাচই শেষ ওভারে গিয়ে নিষ্পত্তি ঘটেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে শেষ বলে গিয়ে। চরম উত্তেজনার পর রংপুর রাইডার্স ২ উইকেটে জিতেছে। পরের ম্যাচও ১৯.২ ওভারে গিয়ে শেষ হয়। যদিও ঢাকা ডায়নামাইটস সহজ ম্যাচটি কঠিন করে জিতেছে। ৬ উইকেটে জিতেছে। তবুও খেলাতো শেষ ওভারে গড়িয়েছে।

দ্বিতীয় দিনও একই অবস্থা দেখা গেছে। দু’টি ম্যাচেই ২০ করে ৪০ ওভার খেলা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মাত্র ১ রানে জয় পেয়েছে চিটাগাং ভাইকিংস আর দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশাল বুলস ১৩ রানে জিতে।

তৃতীয় দিন মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচটিতে চরম উত্তেজনা দেখা গেছে। যতটা না ম্যাচে হার-জিত নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তারচেয়েও বেশি মাশরাফি বিন মর্তুজার ব্যাটিং উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

চিটাগাং ভাইকিংসের করা ১৭৬ রান অতিক্রম করতে গিয়ে ৫৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এমন সময় আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে। মাশরাফি ব্যাট হাতে নেমে যান! সবাই তখন হতবাক। এ কি হচ্ছে। সত্যিই মাশরাফি নেমেছেন?

শুধু নামলেনই না, ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন। তাও আবার ৭ উইকেটে জিতল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৩ উইকেট পড়ার পর মাশরাফি চ্যালেঞ্জ নিলেন। তাতে জয়ীও হলেন। মাশরাফি প্রথমবারের মতো টি২০ ক্রিকেটে অর্ধশতকও করলেন। ৩২ বলে চারটি ৪ ও তিনটি ছক্কা হাঁকালেন।

কুমিল্লার জিততে ১২ বলে ১২ রানের প্রয়োজন থাকে। কঠিন পরিস্থিতি। যে কোন কিছু ঘটতে পারে। এমন মুহূর্তে শেষ ওভারে খেলা যেতে দিলেন না মাশরাফি। চরম উত্তেজনা তৈরি হল। কিন্তু এবার বোলিং নয়, ব্যাটিং দক্ষতা দেখিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি। একটা পর্যায়ে ৮ বলে ৪ রান দরকার পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান। সেই সঙ্গে কুমিল্লা প্রথম জয়ও পায়। প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে উত্তেজনা। যে উত্তেজনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু হয়েছে, তা মাঠের খেলাতেও চলছেই।