২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে গণপিটুনিতে আহত আরেক শিবির কর্মীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে ‘গণপিটুনির’ শিকার হয়ে আহত আরেক শিবির কর্মী কামরুল আহসান মারা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসার এসআই আকবর আলী। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হওয়ায় ভোর রাতে কামরুলের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২।

এর আগে সোমবার সন্ধায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছাত্রশিবির কর্মী হাবিবুল্লাহ। সে যশোর সরকারী মাইকেল মধুসূদন কলেজে অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের নৈহাটি গ্রামের ডাঃ নিয়ামত আলীর ছেলে। আর কামরুল আহসান বাঘারপাড়া উপজেলার ছোট খুদরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। গুরুতর আহত বসেছে মাগুরার শালিখা উপজেলার আতিয়ার রহমানের ছেলে আল-মামুন (২২)। হতাহতরা সবাই যশোর সরকারী এমএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সিকদার আক্কাস আলী জানান, সোমবার বিকেলে এমএম কলেজের দক্ষিণ পাশে রেলগেট এলাকার একটি ছাত্রাবাসে এই শিবির কর্মীরা গোপন বৈঠক করছিল। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাধারণ ছাত্ররা তাদের ‘গণপিটুনি’ দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তিনজনকেই আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় আহতদের মধ্যে হাবিবুল্লাহ মারা যায়। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে কামরুল নামে আর একজন মারা যায়। এর আগে তাদের ছাত্রাবাসের পেছন থেকে একটি হাতবোমা ও কিছু জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে আহত ছাত্র শিবির কর্মী আল-মামুন দাবি করেছেন, ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে তাদের আহত করেছে।

এদিকে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। শিবিরের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সাধারণ ছাত্ররা পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ মানুষ তাদের সামান্য মারপিট করে।