২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বহির্বিশ্বে প্রচার নেই দেশের বিনিয়োগের তথ্য

  • ডিসিসিআইতে বিনিয়োগ শীর্ষক সেমিনারে গওহর রিজভী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এফডিআইয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিদেশীদের কাছে এর উপস্থাপনের মধ্যে অনেক বেশি তফাৎ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে মঙ্গলবার ডিসিসিআই আয়োজিত বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ, সম্ভাবনা শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন। ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টের (বিওআই) নির্বাহী সদস্য নাবাস চন্দ্র ম-ল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এ কে সুর চৌধুরী।

প্রফেসর ড. গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করবে। দেশের বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিশেষ দূত এবং বহির্বিশ্বে দেশের ইতিবাচক ইমেজ বাড়াতে তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিকে থেকে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশের উচিত ভারত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা, যার ফলে বাণিজ্য বৈষম্য অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাত উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। দেশের বেসরকারী খাতকে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশী বিনিয়োগ প্রবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আশাব্যঞ্জক নয় এবং এর পরিমাণ ০.১২ শতাংশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় অঞ্চলে বৈদেশী বিনিয়োগ প্রবাহে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৩.৭১ শতাংশ। বার্ষিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করে থাকে।

তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বেসরকারী খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এসডিজিতে উল্লেখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে এবং এক্ষেত্রে দেশের বেসরকারী খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ইউরোপসহ অন্যান্য উন্নত দেশে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং এ সুবিধা ভোগ করে বিদেশী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই)’র নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র ম-ল সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ২০১৫ সালের মধ্যে রফতানি আয় ৩১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ বজায়ে রয়েছে, যার ফলে গত এক দশকে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের রয়েছে শক্তিশালী স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এবং কঠোর পরিশ্রমী ও উদ্যোগী উদ্যোক্তা শ্রেণী। তিনি বলেন, আগামী ১৫ বছরে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করা হবে, যা থেকে ১০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রফতানি আয় আরও ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

সেমিনারে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার এ আনোয়ার এবং আইএফসি, বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম মাসরুর রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন। আবরার এ আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের বর্তমানে ৫ বিলিয়ন ডালারের সমপরিমাণ অর্থের সম্পদ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আগামীতে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে আগ্রহী। আইএফসির এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসা সম্পর্কিত নীতিমালার সহজীকরণের আহ্বান জানান। মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই উর্ধতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ, পরিচালক খ. আতিক-ই-রাব্বানী, এফসিএ, প্রাক্তন সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, ডিসিসিআই আহ্বায়ক সেলিম আকতার খান, প্রাক্তন উর্ধতন সহ-সভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী এবং এ কে খান কোম্পানির পরিচালক (লজিস্টিক) এম এম এম শাহাদত হোসেন অংশগ্রহণ করেন।