১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় ভারত

  • নাগপুরে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নাগপুরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা চার ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। মোহালিতে স্পিনারদের দাপটে মাত্র আড়াই দিনেই ১০৮ রানের বড় ব্যবধানে প্রথম টেস্ট জিতে নেয় বিরাট কোহলির ভারত। বৃষ্টির তা-বে প- হয় ব্যাঙ্গালুরুর দ্বিতীয় টেস্ট। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে স্বাগতিকরা। নাগপুরে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চাইছে কোহলি-বাহিনী। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ের ‘এক নম্বর’ দল দক্ষিন আফ্রিকা। ২০০৬ সালের পর গত নয় বছরে বিদেশের মাটিতে সিরিজ হারেনি প্রোটিয়ারা। যদিও ভারতের স্পিন আক্রমনের বিপক্ষে এবার ঝুঝছে অতিথিরা। হাসিম আমলাদের জন্য তাই সিরিজ টিকিয়ে রাখার কাজটা মোটেও সহজ হবে না। তার ওপর ফিটনেসহীনতায় অনিশ্চিত পেস আক্রমনের মুল ভরসা ডেল স্টেইন। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল দশটায়।

ভারত অধিনায়ক কোহলি বলেন,‘বৃষ্টিতে চার দিন নষ্ট হওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টটা ছিল হতাশার। অবশ্য প্রকৃতির ওপর আমাদের হাত নেই। এখন ভাবনাজুড়ে কেবলই তৃতীয় ম্যাচ। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের মতো খেলতে চাই। নাগপুরেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চইি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ম্যাচ ও সিরিজ জয়। আগের দুই টেস্টে আমাদের বোলিংটা ছিল সত্যি দূর্দান্ত, বিশেষ করে রবিচন্দ্রন আশ্বিন আর রবিন্দ্র জাদেজার স্পিন। এখানেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’ স্পিন আক্রমনের কথা কোহলি তো বিশেষভাবে বলবেনই। প্রথম টেস্টে ভারতীয় স্পিনাররাই আমলাদের ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছিলেন তিন স্পিনার আশ্বিন-জাদেজা আর অমিত মিশ্র! দক্ষিন আফ্রিকা দুই ইনিংসে অলআউট হয় ১৮৪ ও ১০৯ রানে। দ্বিতীয় টেস্টেও স্পিনÑভূত পিছু ছাড়েনি প্রোটিয়াদের।

ব্যাঙ্গালুরুতে খেলা হয় কেবল প্রথম দিন। তাতেই ৫৯ ওভারে ২১৪ রানে অলআউট দক্ষিন আফ্রিকা! এরপর ২২ ওভারে বিনা উইকেটে ভারত ৮০ রান তোলে। বৃষ্টির জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত টানা খেলা বন্ধ থাকলে ম্যাচ ড্র হয়। এক ডি ভিলিয়ার্স ছাড়া অতিথিদের হয়ে আর কেউই ভারতীয় স্পিনারদে পড়তে পারছেন না। ২ হাফ সেঞ্চুরিতে এ পর্যন্ত সিরিজের সর্বোচ্চ ১৬৪ রান তারই। এছাড়া দক্ষিন আফ্রিকার হয়ে আর কেউ নিদেন একটি হাফ সেঞ্চুরিরও দেখা পান নি। ভারতের হয়ে চমৎকার ব্যাট করছেন দুই টেস্ট স্পেশালিস্ট মুরলি বিজয় ও চেতেশ্বর পুজারা। তিন ইনিংসে ৭৫ গড়ে বিজয়ের ঝুলিতে ১৫০ রান। ৫৪ গড়ে পুজারার রান ১০৮। বল হাতে দাপটটা কেবলই ভারতীয় স্পিনারদের। দুই ম্যাচে ১২টি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আশ্বিন ও জাদেজা।

নাগপুরেও স্পিনবান্ধব পিচ পেতে নিজের ইচ্ছাটা গোপন করেন নি কোহলি। ভারত অধিনায়ক বলেন,‘পৃথিবীর সব দেশই টেস্টে নিজেদের পছন্দ মতো পিচ বানায়, তবে আমরা কেন নয়? আমি চাইব নাগপুরের প্রথম দিন থেকেই যেন পিচে স্পিন ধরে! কারণ আমাদের হাতে একাধিক বিশ্বমানের স্পিনার রয়েছে।’ দক্ষিন আফ্রিকাকে খেলায় ফিরতে হলে সফরকারি ব্যাটসম্যানদের আগে স্পিনের বিপক্ষে সফল হতে হবে। সেটি পরিস্কার করেছেন আমলা। অতিথি সেনাপতি বলেন,‘টেস্টে আগে এখানে টি২০-ওয়ানডে দুটি সিরিজেই আমরা জিতেছি। সুতরাং কন্ডিশন এবং পিচের দোহাই দিয়ে লাভ নেই। প্রথম কথা ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে। ওরা হয়ত খানিকটা এগিয়ে, তবে ইমরান তাহির, জেপি ডুমিনি আর সিমন হারমারকে নিয়ে আমাদের স্পিন আক্রমনও সমৃদ্ধ। কিন্ত তাদের ফাইট দেয়ার জন্য আগে স্কোরবোর্ডে রান তুলতে হবে।’

আমলা আরও যোগ করেন,‘প্রথম টেস্টে বাজে পারফর্মেন্সের কারণেই আমরা পিছিয়ে আছি। সিরিজে ব্যাটসম্যানরা এখন পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে পারে নি। হাতে সময় নেই। ত্রুটি শুধরে আমাদের এখানেই সেরাটা দিতে হবে। তা না হলে সিরিজ শেষ হয়ে যাবে। তবে ঘুড়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আমাদেরও রয়েছে। গত ৯ বছরে দেশের বাইরে অনেক অনেক ম্যাচ জিতেছি। বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে, সিরিজটা কেবল বাঁচিয়ে রাখা নয়, আমাদের জেতার সম্ভাবনাও রয়েছে!’ স্পিনে ইমরান তাহির, হারমাররা মন্দ করছেন না। কিন্তু অতিথিদের ভাবিয়ে তুলেছে স্টেইনের ফিটনেস। এই টেস্টে অনেকটাই অনিশ্চিত তিনি। শেষ পর্যন্ত স্টেইন খেলতে না পারলে তার পরিবর্তে দেখা যাবে মার্চেন্ট ডি ল্যাঙ্গেকে। আছেন মরণে মরকেল, কাইল এ্যাবট আর তরুণ কাগিসো রাবাদা। ভারতের কন্ডিশন স্পিন সহায়ক হলেও ইতিহাস বলে নাগপুরে কিছুটা হলেও পেসাররা সাহায্য পাবেন। আর যেকোনো কন্ডিশনে ভারতের চেয়ে আফ্রিকান পেস আক্রমন এগিয়ে। কোহলির স্পিন-বান্ধব পিচ চাওয়ার কারণটা তাই অনুমেয়।