২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেত্রদণ্ডের পর সেই সৌদি কবির মৃত্যুদণ্ড

  • মানবাধিকার গ্রুপগুলোর উদ্বেগ

আশরাফ ফায়াদ নামে এক সৌদি শিল্পী ও কবিকে গত সপ্তাহে মৃত্যুদ- দিয়েছে সৌদি আরবের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী কবিতা লেখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ-সৌদি শিল্প সংস্থা এজ অব আরাবিয়ার সদস্য ৩৫ বছর বয়সী ফায়াদ গত বছর মে মাসে আবহা’র একটি আদালত চার বছর জেল ও ৮শ’ বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছিল। দ-াদেশের বিরুদ্ধে করা আপীল নাকচ হওয়ার পর গত মাসে তার পুনর্বিচার হয়েছে। বিচারকরা বলেছেন, ফায়াদের অনুতাপ তাকে মৃত্যুদ- থেকে বাঁচাতে পারবে না। তিনি ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে আটক রয়েছেন। সৌদি আরবে সদ্য বিকশিত শিল্প ও সাহিত্য পরিম-লে অনেক দিন ধরে ফায়াদ নিজের একটি অবস্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন শিল্প অঙ্গনে দেশটির অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত। শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমে সৌদি আরবকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সমসাময়িক শিল্পী-সাহিত্যিক যারা এগিয়ে এসেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন ফায়াদ। তার আদি বাড়ি ফিলিস্তিনী ভূখ-ে। সে হিসেবে তিনি একজন রাষ্ট্রবিহীন ব্যক্তি। তার পরিচিতরা জানিয়েছেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সৌদি আরবের সেতুবন্ধন স্থাপন করেছিলেন ফায়াদ। ধর্মদ্রোহিতার অপরাধে সৌদি আরবের একটি আদালত ১৭ নবেম্বর তাকে মৃত্যুদ- দিয়েছে। নাস্তিক্যতা প্রচার, সৌদি সমাজের মূল্যবোধের সমালোচনা ও নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক এ্যাডাম কুগল আদালতের কাগজপত্রগুলো দেখেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েকবছর আগে লেখা কিছু কবিতার জন্য তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অল্প কয়েকজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা যাবে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো জানিয়েছে ১৯৯৫ সালের পর চলতি বছর দেশটিতে প্রাণদ- কার্যকরের হার অনেক বেড়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ দেশটিতে সামান্য অপরাধেও অনেক সময় কঠোর শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে এক ব্লগারকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গাড়িতে এ্যালকোহল রাখার অপরাধে ব্রিটেনের এক নাগরিককে ৩৫০টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এসব শাস্তিকে জঙ্গী সংগঠন আইএসের শিরোñেদ ভিডিওর সঙ্গে অনেকে তুলনা করে থাকেন। উল্লেখ্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র। সৌদি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা শরিয়াহভিত্তিক আইন অনুসরণ করেন। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস