২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরের শিবচর মুক্তদিবস পালিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ ২৫ নবেম্বর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শিবচরকে হানাদার মুক্ত করে। এ যুদ্ধে চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এদের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার দুই কমান্ডার ছিলেন। দিনটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসুচি হাতে নেওয়া হয়। বুধবার সকালে শিবচর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে শিবচর মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থান প্রদক্ষিণ করে শিবচর পৌর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। বিকেলে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমান্ডার মো. শাহজাহান মিয়া।

১৯৭১ সালের মে মাসে দু‘দফা হানাদার বাহিনী তাদের রাজাকার দোসরদের নিয়ে শিবচরের ৪০ জন নিরীহ নারী পুরুষকে হত্যাসহ ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে শিবচর থানায় ঘাঁটি গাড়ে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় মুক্তিযোদ্ধারা শিবচর বাজারে অবস্থিত হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শিবচর থানায় অবস্থান নিয়ে খুন, ধর্ষণ, লুট, জ্বালাও-পোড়াও বাড়িয়ে দেয়। ২৪ নভেম্বর রাত ৩ টায় এরিয়া কমান্ডার মো. মোসলেমউদ্দিন খানের নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ ভাঙ্গা ও সদরপুর থানার মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের আশ্রয়স্থল শিবচর থানা আক্রমন করেন। চারটি গ্র“পে ভাগ হয়ে ১৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রায় ১৬ ঘণ্টা স্থায়ী যুদ্ধ শেষে ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় হানাদার ও রাজাকার বাহিনীর আত্মসমর্পণ করলে শিবচর হানাদার মুক্ত হয়।

এ যুদ্ধে শিবচরের আ. ছালাম, ভাঙ্গার মোশাররফ হোসেন, সদরপুরের দেলোয়ার হোসেন ও সহযোগী ১১ বছর বয়সের কিশোর ইস্কান্দারসহ চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে ১৮ জন ঘাতক হানাদার ও রাজাকার নিহত হয়। মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. শাহজাহান হাওলাদার বলেন, “শিবচরে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর শিবচর মুক্ত দিবস পালন করে আসছে মুক্তিযোদ্ধাসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ”।