২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা ॥ এবারের বিষয় ॥ হাওড়-বাঁওড়-জলাভূমি

  • বিল হাওড়ের সম্ভাবনা

এস এম মুকুল

‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও’- প্রবচনটি হাওড় এলাকাখ্যাত ভাটিবাংলার চিরায়ত প্রাকৃতিক চিত্ররূপের বহির্প্রকাশ। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৬৪টি থানা নিয়ে হাওড়াঞ্চল গঠিত। হাওড়াঞ্চলের মোট আয়তন ৫ হাজার বর্গমাইল। হাওড়াঞ্চলের জনসংখ্যা এক কোটির বেশি। বর্ষায় হাওড় এলাকা ৮-১০ ফুট পানিতে ভরপুর থাকে। হাওড়াঞ্চলের অধিবাসীদের ৯০ ভাগই কৃজিকাজের ওপর নির্ভরশীল। বাকিরা মৎস্য আহরণ, মৎস্য চাষ, ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত। এখানে রয়েছে শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর বিদ্যুতহীনতার মতো বহুমুখী জটিল সমস্যা।

হাওড়াঞ্চল ভাটিবাংলার শুধু রূপই নয়, তার গুণ আর সম্পদ সম্ভাবনা অসীম। এখানে রয়েছে ধান উৎপাদনের বিশাল ক্ষেত্র। মৎস্য চাষ আর কৃষিভিত্তিক প্রকল্প গড়ে তোলার অপার দিগন্ত এই হাওড়ে। এখানে ৬/৭ মাস থাকে পানি। বাকি সময় শুকনো। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে শুধু ফসল উৎপাদন নিয়ে ব্যস্ত থাকে হাওড়বাসী। এই একটি ফসলের আয় দিয়েই চলতে হয় সারা বছর। হাওড়াঞ্চলে একটিমাত্র ফসল উৎপাদন হয়Ñ বোরো। এ অঞ্চলের অর্থোপার্জনের আরেকটি উৎস হচ্ছে মৎস্য শিকার। দেশের চাহিদার শতকরা ২৫-৩০ ভাগ মৎস্য হাওড়াঞ্চল থেকে আহরণ করা হয়। নেত্রকোনার অঞ্চল থেকে প্রায় ১২ শতাংশ মৎস্য আহরণ হয়। নেত্রকোনার ৪টি হাওড় উপজেলায় মোট ৬৭টি বিল রয়েছে। যার বিস্তৃতি ৭ হাজার ৯১০ একর।

হাওড়ের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাইলে এখনই দীর্ঘমেয়াদী দূরদর্শী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

-হাওড়াঞ্চলের অবস্থা, প্রকৃতির ধরন, অবকাঠামোর বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করতে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইডিয়া সংগ্রহ করা।

-উপযোগিতা যাচাই সাপেক্ষে সরকারী, ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও এনজিও প্রতিষ্ঠানকে আগ্রহের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দেয়া।

-হাওড় উন্নয়ন বোর্ডকে আরও শক্তিশালী করা, হাওড় মৎস্য ও কৃষি ইনস্টিটিউট এবং হাওড় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা।

-হাওড় এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলী জমির জন্য হাওড় রক্ষা বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা।

-হাওড়াঞ্চলে সৌরবিদ্যুতায়নের মাধ্যমে বিদ্যুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

-শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং শিক্ষক ও চিকিৎসক নিয়োজিত করা।

-হাঁস, মুরগি, কবুতরসহ গৃহপালিত পশু পালন, সবজি উৎপাদন, মুড়ি, চিড়া, খৈ তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ, শুঁটকি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্ত ও কুটিরশিল্প খাতে নারীদের আরও সম্পৃক্ত করা।

-বর্ষায় হাওড়ের পানিতে দেশীয় প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা। নির্দিষ্ট স্থানে ঘের করে এই পোনা বড় হওয়ার পরে অবমুক্ত করা।

-উš§ুক্ত উঁচুস্থানে গাছ লাগিয়ে (যেসব গাছ পানিতে বেঁচে থাকে এবং বাড়ে) বনায়নের মাধ্যমে জ্বালানি কাঠের চাহিদা মিটানো। এতে জঙ্গলে বর্ষায় মাছের প্রচুর খাবার মিলবে। পাখিদের অভয়াশ্রম তৈরি হবে।

-শুকনা মৌসুমে দেখা যায় মাঠের পর মাঠ। ঘাস আর ঘাস। এই ঘাস আর মাঠকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা যেতে পারে দুগ্ধ খামার ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প।

ঢাকা থেকে