২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদীমাতৃক দেশের বর্তমান

হাসনাত মোবারক

রূপমাধুর্যের এই বাংলাদেশে একেক ঋতুতে একেক রকম রূপসৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আর এই সৌন্দর্য ফুটে ওঠে নদীর কারণে। বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। হাওড়-বাঁওড়ে বর্ষার সময় এক রূপ আবার শরতকালে আরেক রূপ। এমনি করে প্রত্যেকটি ঋতুতে রূপের ব্যঞ্জনা আলাদা। কিন্তু কথাটি অপ্রিয় হলেও সত্য, বাংলাদেশের বেশিরভাগ নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নদীর গতিপথ বদলে গেছে। এক সময় যে পদ্মা নদীকে বলা হতো প্রমত্ত পদ্মা, কিন্তু এখন সেই পদ্মা আর প্রমত্ত নেই। পদ্মার মতো বিশাল নদীর বুকে বারো মাস নৌকা চলাচল করতে পারে না। পদ্মা নদীর বুকে চৈত্র-বৈশাখ মাসে এখন গরুর গাড়ি চলাচল করতে পারে। জীবননান্দের কবিতায় যে ধানসিড়ি নদীর কথা বলা হয়েছে, সেই ধানসিড়ি নদীতে এখন আর সুপারিবোঝাই নৌকা চলাচল করতে দেখা যায় না। কারণ নদীটি অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। এ রকম অসংখ্য নদী ভরাট হতে চলছে। অনেক নদী দখলদারদের কবলে পতিত হতে চলছে।

অন্যদিকে শীতকালে আমাদের হাওড়-বাঁওড়ের অত্যুজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হলো শীতপ্রধান দেশ হতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই বিল-বাঁওড়ের দেশে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হাওড়বেষ্টিত এলাকা। এই হাওড়-বাঁওড় এলাকাগুলোতে এই সময়ে রংবেরঙের অতিথি পাখির আগমন ঘটে। হেমন্ত ঋতুর প্রথম থেকেই শুরু হয় এই অতিথি পাখির আগমন। শীত শেষে এই পাখিগুলো আবার ফিরে যায় নিজ দেশে। এই সময়টুকুতে অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে রূপায়িত হয় ভাটি অঞ্চল, তথা হাওড় এলাকা। পাখির দেশে পরিণত হয় শান্ত জলাভূমি। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই অতিথি পাখিগুলোকে নিধন করার জন্য একশ্রেণীর অসাধু লোক ওৎ পেতে থাকে। এই পাখিগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা গেলে হাওড়-বাঁওড় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। এই হাওড় এলাকাতে প্রচুর দেশীয় মাছেরও সম্ভার রয়েছে।

ধানমণ্ডি, ঢাকা থেকে