১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলাবদ্ধতা

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বে একটি মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বৃদ্ধি, আবহাওয়া উপাদানসমূহে পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণ এবং এদের প্রভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ বিপন্নপ্রায়। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী সমস্যা হলেও এর প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশসমূহ। ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তনের চেয়ে জনসংখ্যা বেশি এবং প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ নির্বিচারে নিধনের কারণে বাংলাদেশের বিপন্নতা খুবই ভয়াবহ। ভৌগোলিক কারণে এখানকার নিচু ও সমতল ভূমি, ঋতুবৈচিত্র্য এবং বর্ষা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি, কৃষি কাজ জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতায় আগামী ৩৫ বছরে ক্ষতি হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যথায় জলাবদ্ধতা ও নানা প্রাকৃতিক সমস্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে ঢাকা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা খাল ও নদী দখল হয়ে যাওয়া। দখলের কারণে ঢাকার সব খাল ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোন কোনটির অস্তিত্ব খোঁজা দুষ্কর। খাল উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে গেলে আসে বাধা, কেউ কেউ স্থগিতাদেশের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখে। গত কয়েক মাস আগে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন। তাদের ওই বক্তব্য নগরবাসীকে আশাবাদী করে তোলে। ঢাকার অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় পরিসরে কাজ হাতে নেয়ার চিন্তা ও পরিকল্পনা যে তাদের রয়েছে তা নগরবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার মেয়রদের দায়িত্ব গ্রহণের ৮ মাস পার হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে নগর সেবায় বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ কোন তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। নগরবাসী তাদের কথার সমর্থনে কাজ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু ঢাকাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের এই কুফল বাংলাদেশের সর্বত্রই বিরাজমান।

জলবায়ুগত এই বিপন্নতা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর জন্য যে উন্নত বিশ্ব দায়ী তা একাধিকবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও সাইক্লোন আইলার প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কিভাবে সমুদ্রের লোনা পানি প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে গিয়েছিল, তা উন্নত বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। তিনি উন্নত বিশ্বকে কোন রাখঢাক না করেই বিভিন্ন পরিবেশ বা জলবায়ু সম্মেলনে এমনকি জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার সময়ও বলেছেন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য পাশ্চাত্য দায়ী। শিল্প বিপ্লবের কারণে অতিমাত্রায় কার্বন গ্যাস নিঃসরণের ফলেই যে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে, এজন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বলাই বাহুল্য, জলাবদ্ধতা ঢাকার একটি বড় সমস্যা।সাধারণ ওষুধে তা সারবার নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের উপদেশ ও পরামর্শগুলো আমলে নেয়া দরকার। এই ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং নগর প্রশাসন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরী। দরকার উন্নত দেশের মতো নগর সরকার প্রতিষ্ঠার। আর এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত জরুরী। যদিও এটা সময়সাপেক্ষ বটে। তবে রাজধানীর জলাবদ্ধতার মতো বড় সমস্যা সমাধানে জরুরী ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দ্রুত কাজে নামা উচিত। নগরবাসী আশা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুতই এই উদ্যোগ নেবেন।