২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমআরপি জটিলতা

২৪ নবেম্বর শেষ হয়ে গেল হাতে লেখা পাসাপোর্টের আমল অর্থাৎ এখন থেকে বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোন বিমানবন্দরেই আর প্রচলিত ধারার হস্তলিখিত পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। দাখিল করতে হবে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। ডিজিটাল তথা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এটাই স্বাভাবিক ও সঙ্গত। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা সর্বদাই ভিন্ন কথা বলে। এমআরপি ইস্যু করে থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পাসপোর্ট অধিদফতর। সোমবার পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ লাখ এমআরপি ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু এতে আশান্বিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশে বসবাসরত ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জনকে এখনও পর্যন্ত এমআরপি দেয়া যায়নি। এ নিয়েও অবশ্য বিতর্ক ও তথ্যবিভ্রান্তি রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এমআরপি না পাওয়া প্রবাসীর সংখ্যা হবে প্রায় দুই লাখ। দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদে পরিবেশিত তথ্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য পরিসংখ্যানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবহিত। এদের ঢিলেমি সম্পর্কে প্রায়ই খবরাখবর আসে গণমাধ্যমে। এ সম্পর্কে প্রবাসীদের অভিযোগও বিস্তর। সত্যি বলতে কী, যেসব বাংলাদেশী শ্রমজীবী পৃথিবীর নানা দেশে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে কায়ক্লেশে জীবনযাপন ও অমানুষিক পরিশ্রম করে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান এবং অবদান রাখেন জাতীয় অর্থনীতিতে, তাদের কোন মূল্যায়ন করা হয় না। দীর্ঘদিন পর স্বদেশে প্রত্যাগতদের অভ্যর্থনার জন্য বিমানবন্দরগুলোতে আলাদা কোন ডেস্ক পর্যন্ত নেই; পদে পদে হয়রানি তো আছেই। অধিকন্তু এসব শ্রমিক দূতাবাসের ছায়া মাড়াতেই ভয় পায়। সে অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব, অনতিবিলম্বে তাদের এমআরপি ইস্যুসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান। যেসব শ্রমিক দেশে আসতে চান, তাদের জরুরী ভিত্তিতে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট ইস্যু করা হোক। আর যেসব প্রবাসী দেশে আছেন, তাদের দেয়া হোক জরুরী ভিত্তিতে এমআরপি পাওয়ার সুযোগ। এ ব্যাপারে কোন অজুহাত চলবে না।

পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি, অযথা সময়ক্ষেপণ, ফড়িয়া তথা দালালদের দৌরাত্ম্য ইত্যাদির কথা সবারই জানা। সর্বাগ্রে এগুলো দূর করতে হবে। পাসপোর্ট রাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি অধিকার। সুতরাং এমআরপি দিতে কোন সময়ক্ষেপণ করা চলবে না। পুলিশী তদন্তের নামে হয়রানি ও সময়ক্ষেপণ কাম্য নয়। কিছু ক্ষেত্রে ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, আয়কর রিটার্ন নম্বরসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই জরুরী প্রয়োজনে এমআরপি ইস্যু করা যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে বলা হচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের। সে অবস্থায় আরও বেশি বাংলাদেশীকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মোপলক্ষে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে জঙ্গী সন্ত্রাসীদের হুমকি ও হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেক্ষেত্রে এমআরপি এখন সময়ের দাবি। আগামীতে এর আরও উন্নত সংস্করণ হবে। হয়তবা প্রয়োজন পড়বে বায়োমেট্রিক্স পাসপোর্টের। এমনও হতে পারে যে, শুধু একটি মাইক্রোচিপের মধ্যে থাকবে ব্যক্তির সব প্রয়োজনীয় তথ্যাদি। সে ব্যাপারেও করতে হবে চিন্তাভাবনা। তাল মেলাতে হবে যুগের সঙ্গে।

নির্বাচিত সংবাদ