১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুদ্রঋণে দায়মুক্তির বাধা সুদের বোঝা ॥ প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুদ্রঋণে দায়মুক্তির বাধা সুদের বোঝা ॥ প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, সুদের চাপে সঞ্চয় থাকে না বলেই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থায় গ্রহীতাদের পক্ষে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না। বুধবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করে তিনি জানান, সরকার এ কারণে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঞ্চয় বৃদ্ধি ও পল্লী কর্মসংস্থান ব্যাংক সৃষ্টির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঋণের ব্যবস্থা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা জানি, মাইক্রোক্রেডিটের সুদ দিতে দিতে তাদের আর সঞ্চয় থাকে থাকে না। কাজেই দারিদ্র্যের লেভেল থেকে তারা উঠতে পারে না। ওখানেই তাদের পড়ে থাকতে হয়। আমরা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের ঋণ দিচ্ছি এবং খামার থেকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করছি। সেই সাথে সাথে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করছি ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করছি।”

দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। শুরুতে প্রকল্পের মেয়াদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সারা দেশে ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বাজার গড়ে তোলা হয়েছে।

দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও ‘গ্রোথ সেন্টারে’ এসব পণ্য বিক্রির জন্য সমবায়ভিত্তিক বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের ‘সফল’ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করা হয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সঞ্চয়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা, “কেউ যদি এক শ’ টাকা জমাতে পারে, সরকার সেখানে আরও এক শ’ টাকা দেয়। দুই বছর পর্যন্ত আমরা সেভাবে দিয়ে থাকি।

এভাবে টাকা দেয়ার ফলে যে অর্থ জমেছে সেটা দিয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আমরা করে দিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাংকে যারা টাকা জমাচ্ছেন, এটা তাদেরই ব্যাংক, তারাই পরিচালনা করবেন এবং ঋণ নিতে পারবেন।

“গ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে সঞ্চয়ের ব্যবস্থা ও অর্থ সরবরাহ করা অর্থাৎ মানুষ যাতে দারিদ্র্য থেকে উপরে উঠে আসতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”