২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক পরিমলের যাবজ্জীবন

ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক পরিমলের যাবজ্জীবন

কোর্ট রিপোর্টার ॥ হাত মুখ বেঁধে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে লম্পট শিক্ষক। বছর চারেক আগে এমন খবরে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল জাতি। লম্পট শিক্ষকের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল দেশের মানুষ। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের সেই লম্পট শিক্ষক পরিমল জয়ধরকে ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মোঃ সালেহ উদ্দিন বুধবার পরিমলকে কারাদ- দেয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। জরিমানা দিতে অপারগ হলে লম্পট পরিমলকে অতিরিক্ত ছয় মাস জেল খাটতে হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফোরকান মিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জরিমানার টাকা ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে দিতে বলেছে আদালত।

৩০ পৃষ্ঠার রায় পড়ে শোনানোর সময় বিচারক বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন ও মাহবুবে খোদা এ মামলায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘চরম গাফিলতি’ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, রায়ের পর আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরিমল সাংবাদিকদের বলেন, আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। মহামান্য বিচারক যে রায় দিয়েছেন সে ব্যাপারে আমি আর কী বলতে পারি? আমি নির্দোষ। আর কিছু বলতে চাই না, আমার হাত-পা বাঁধা। আগামী দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। পরিমলকে কাঁদতেও দেখা গেছে। পরে তার আইনজীবী মাহফুজ মিয়া জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।

রাজধানীর খ্যাতনামা ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা ক্যাম্পাসের শিক্ষক পরিমলই ছিলেন এ মামলার একমাত্র আসামি। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দীও দিয়েছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার লাটেংগা গ্রামের পরিমল ২০১০ সালে ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

২০১১ সালে করা মামলায় ভিকারুননিসার তৎকালীন অধ্যক্ষ হোসনে আরা এবং বসুন্ধরা শাখার প্রধান লুৎফর রহমানকে আসামি করেছিলেন ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ আদালতে অভিযোগ গঠনের সময় অধ্যক্ষ ও লুৎফরকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১১ সালের ২৮ মে প্রথম ধর্ষণ করেন পরিমল। ওই সময় ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১৭ জুন আবারও ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর ভিকারুননিসার ছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন পরিমলকে বরখাস্ত করে।

এরপর ৫ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা দায়ের করেন। এর একদিন বাদে পরিমলকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার স্ত্রীর বড় বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দেন তিনি। মামলার শুনানিতে বিচারকের কাছে ওই ছাত্রী পরিমলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জিল্লুর রহমান তালুকদার জানান।

ধর্ষিত ছাত্রী তার জবানবন্দীতে বলেন, ঘটনার দিন আলাদা পড়ানোর নামে স্যার (পরিমল) তাকে বাসায় যেতে বলে। বাসায় গেলে স্যার ধর্ষণ করতে চাইলে আমি বাধা দেই। বাধা দেয়ার পর ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষিত ছাত্রী আদালতে আরও জানায়, শিক্ষক পরিমল তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি উঠিয়ে ধর্ষণের কথা কাউকে না বলতে বলে। অন্যথায় ইন্টারনেটে ওই ছবি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ধর্ষিত ছাত্রী ছাড়াও ২৮ জন সাক্ষীর বক্তব্য শুনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ৯(১) ধারায় আসামির সাজার আদেশ দেন বিচারক। এই ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই সর্বোচ্চ সাজা।