১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেয়র প্রার্থী মনোনয়নে দলের ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে

  • আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথসভা আজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব এড়িয়ে যোগ্যদের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিতে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী-এমপি বা তাঁদের আত্মীয়-স্বজন নয়, দলের ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিতে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে কেন্দ্রীয়ভাবে মেয়রদের মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি। একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে দলীয় মনোনয়ন জমা নেয়ার সময় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনও সংগ্রহ করবে তারা। এতে করে বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা থাকবে না। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা যৌথ জরুরী সভায় বসছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আজকের বৈঠকেই পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা-উপধারায় কিছু সংশোধনী আনা হতে পারে। এমনটা জানিয়ে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আজকের জরুরী এই বৈঠক থেকেই নির্বাচনে বিজয়ের কৌশল নির্ধারণ, নির্বাচন পরিচালনা সেল গঠন, দলের কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক অবস্থাসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

দলীয় সূত্রমতে, প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য মেয়রপদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করাই দলের নীতি নির্ধারকদের প্রথম লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একক কাউন্সিলর প্রার্থী নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা কৌশল আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রয়োগ করা হতে পারে। কারণ ওই পদ্ধতি অনুসরণ করেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুফল পেয়েছিল দলটি।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে আভাস পাওয়া গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে একক প্রার্থী বাছাই করতে পারে আওয়ামী লীগ। তেমনি হলে- কেন্দ্রীয়ভাবেই সারাদেশের পৌর নির্বাচনে দলের মেয়র পদের মনোনয়নপ্রত্যাশীর কাছে নির্দিষ্ট টাকা জমা নিয়ে মনোনয়নের আবেদনপত্র বিতরণ করা হবে। আবেদনপত্রের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তা জমা দিতে হবে।

সূত্রটি জানায়, আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনও। এরপর বিভাগওয়ারী প্রার্থীদের সাক্ষাত শেষে এবং মাঠ পর্যায়ের গোপন জরিপ মিলিয়ে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে এবং প্রার্থীদের মাঝে ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দের ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রী কিংবা সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও দেয়া হবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে। ওই চিঠি নিয়েই দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন।

জানা গেছে, যাকে দল মনোনয়ন দেবে তারটা রেখে বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আগে থেকেই জমা নেয়া প্রত্যাহারের আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেন্দ্র থেকে জমা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে দলীয় সমর্থিত মেয়র ছাড়া বাকিদের মনোনয়ন এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া দলের অন্য কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। এমনিভাবেই সারাদেশে মেয়র পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

সূত্রমতে, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় মন্ত্রী-এমপি ও জেলার নেতা যাতে অহেতুক হস্তক্ষেপ কিংবা দলকে বাদ দিয়ে পরিবারবলয় সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে কেন্দ্র থেকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখা হবে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থানীয় এমপি ও তৃণমূল নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মেয়র প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা জমা দেবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তারা একজন মেয়র প্রার্থী এবং বিকল্প হিসেবে ক্রমানুসারে কয়েকজন প্রার্থীর সুপারিশ করে তালিকা জমা দেবেন। এ তালিকা এবং দলীয়ভাবে করা মাঠ পর্যায়ের জরিপ মিলিয়ে একক প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। তবে যেসব পৌরসভায় দলীয় মেয়র রয়েছেন, এবারও তাদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে দু’জন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রপদে সর্বোচ্চ সংখ্যক দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য একক প্রার্থী নিশ্চিত করাই আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রী-এমপিদের পরিবার-পরিজন নয়, বরং দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত ও নির্বাচনী এলাকায় সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। এ জন্য একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে স্বাক্ষর নেয়া হবে। তবে সবকিছুই সিদ্ধান্ত হবে আজকের বৈঠক থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চূড়ান্ত হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, এবারই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয়ভাবে কোন প্রক্রিয়ায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে তা আজকের জরুরী সভাতেই চূড়ান্ত হবে। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার খুবই আন্তরিক। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই পৌরসভাগুলোতে জনপ্রিয় প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসবেন।