১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে আচরণ বিধিতে পরিবর্তন

  • পৌরসভা নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে কমিশনের পক্ষ থেকে আচরণ বিধিমালায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এ আচরণ বিধিমালায় মনোনয়নপত্র জমা থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসি। ইসি জানিয়েছে আচরণ বিধিমালার কোন বিধান প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ লঙ্ঘন করলে প্রার্থীর নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ অনধিক ছয় মাসের কারাদ- অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছে।

গত ২৩ ডিসেম্বর সংশোধিত আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে কোন দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ইসির নেই। নির্বাচনের কারও বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি।

তবে আচরণ বিধিতে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ভোট গ্রহণের ২১ দিন পূর্বে প্রচারের সুযোগ পেলেও তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় এবার ১৭ দিন পূর্বে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথমে আইনের অধ্যাদেশ এবং পরে আইন সংশোধন করে সংসদের পাসের কারণে পৌরসভা নির্বাচনে তফসিল সময়মতো দেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানে তফসিল দেয়া সম্ভব না হলে জুনের আগে এ নির্বাচন করা সম্ভব হতো না। তবে হাতে কম সময় নিয়ে নির্বাচনের তফসিল দেয়া হলেও নির্বাচন পরিচালনায় কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত মঙ্গলবার সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশানার। তফসিল অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধরা হয়েছে। কিন্তু হিসাব অনুয়ায়ী এবার প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারের সময় পাচ্ছেন মাত্র ১৫ দিন। অথচ আচরণ বিধিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের ধারায় বলা হয়েছে ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ পূর্বে প্রার্থীরা কোন নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবে না। কিন্তু এবার প্রার্থীরা সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আইন সংশোধনের কারণে আচরণ বিধিতে কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাছাড়া আচরণ বিধির অন্যান্য ধারা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এবার দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কারণে প্রার্থীদের পোস্টারে ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টারে প্রার্থী শুধু নিজের ছবি ও কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রতীক ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু এবার এ ধারায় পরিবর্তন এনে দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধত হলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রতীক ব্যবহার করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া দলীয় প্রধানের ছবিও পোস্টারে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে মেয়র পদে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন তারা আগের মতোই পোস্টারে নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রেও আগের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।

তবে নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সাদাকালো রঙের ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার আয়তনের চেয়ে বড় কোন পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পোস্টারে ছাপানো ছবি সাধারণ ছবি বা পোট্রেট হতে হবে। প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মতোই বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ কোন প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রতীক দেয়াল, যানবাহন বা অন্য কোন স্থানে লাগাতে পারবে না। তবে ভোট কেন্দ্র ব্যতীত নির্বাচনী এলাকার যে কোন স্থানে পোস্টার লিফলেট, বা হ্যান্ডবিল ঝুলাতে বা টানাতে পারবেন। দেয়াল লিখনও আগের মতোই নিষিদ্ধ থাকছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আগের মতোই প্রার্থীর শোডাউনের ক্ষেত্রে বাধানিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। প্রার্থী শুধু তার ৫ জন সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মেয়র প্রার্থীরা তার নির্বাচনী এলাকায় ৫টি বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না। ২০ হাজার ভোটার সংবলিত এলাকায় জন্য একটি মাত্র নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা তার ওয়ার্ডে মাত্র একটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন। যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ যান্ত্রিক যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউন করতে পারবে না। আকাশযানও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দলীয় প্রধানের যাতায়াতের জন্য আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন।

নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডে পথসভার জন্য একটি এবং নির্বাচনী প্রচারের জন্য একটি মাইক্রেফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি ব্যবহার করা নিষেধ করা হয়েছে। সরকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী উপমন্ত্রী এমপি, উপনেতা ও বা সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচনী প্রচারের অংশ নিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি কোন নির্বচনী এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল ভোট প্রদানের জন্য তার ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী পথসভা বা ঘরোয়া সভার আয়োজন করতে পারবেন। তবে এসব সভার আয়োজন করতে হলে অবশ্যই প্রার্থীকে ২৪ ঘণ্টা আগে তার স্থান ও সময় সম্পর্কে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

আচরণ বিধিমালার ৩ ধারায় বলা হয়েছে আইন ও বিধিমালার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোন রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তির সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে কমিশন যদি কোন উৎস থেকে প্রাপ্ত রেকর্ড বা লিখিত রিপোর্ট কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে কোন প্রার্থী বিধিমালার কোন বিধান লঙ্ঘন করেছে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা চালিয়েছে সেক্ষেত্রে কোন প্রার্থী মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। এছাড়াও কারাদ- ও অর্থদ- বা উভয়দ-ের বিধান রাখা হয়েছে।