২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লৌহজংয়ে ৩৪ ইঞ্চি লম্বা ১১টি চাপাতি উদ্ধার, গ্রামে আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ লৌহজং উপজেলার উত্তর কুমারভোগ গ্রাম থেকে বিশাল আকারের ১১টি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিটি চাপাতিই ৩৪ ইঞ্চি লম্বা। এই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা থাকলেও দু’দিনেও থানায় মামলা জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপীল মামলার পেপার বুক পড়া শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ নবেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপীল বেঞ্চে পেপার বুক পড়া হয়। বেঞ্চের অপর বিচারপতিরা হলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বুধবার ৬ষ্ঠ দিনের মতো আদালতে পেপারবুক পড়েন নিজামীর আইনজীবী এসএম শাহজাহান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আদালতে পেপারবুক পড়া শুরু করেন নিজামীর আইনজীবী। চলে বেলা ১ টা ৫ মিনিট পর্যন্ত। পরে আদালত এ মামলার কার্যক্রম আগামী ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। সেদিন এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করা হবে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের গত ৯ সেপ্টেম্বর নিজামীর আপীল শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের রায়ের অংশ পাঠ করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে নিজামীর পক্ষে ১ নম্বর অভিযোগের ৩ সাক্ষীর জবানবন্দী আদালতে পড়ে শোনান এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। এরপর ধারাবাহিকভাবে নিজামীর মামলার শুনানি আজ ৬ষ্ঠ দিনের মতো করা হয়।

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আদালত সম্মত হয়েছে যে, তিনি যে মাত্রায় হত্যা, গণহত্যা ঘটিয়েছেন, তাতে সর্বোচ্চ সাজা না দিলে তা হবে ন্যায় বিচারের ব্যর্থতা।’

পরে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আপলি করা হয়। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেশ করে তাতে ১৬৮টি কারণ উল্লেখ্য করে দ- থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপীলটি দাখিল করেন। ১২১ পৃষ্ঠায় মূল আপীল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। মূল আপীলে ১৬৮টি গ্রাউন্ড পেশ করে দ- থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১, ৩,৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া ৫, ৯, ১০ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি (খালাস) দেয়া হয়।