১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চোরাই পণ্য ধরতে শুল্ক বিভাগের দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চোরাই পণ্য ধরতে হঠাৎ রাজধানীসহ দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরসহ আরও কয়েকটি স্থানে চোরাই পণ্যের চালান জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খান বলেছেনÑ রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েই চোরাচালান দমন ও শুল্ক ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ করতে এসব অভিযানের কোন বিকল্প নেই। বেশকিছু চমকপ্রদ তথ্য হাতে নিয়েই চালানো হচ্ছে এসব অভিযান।

জানা যায়, বুধবার একযোগে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর, বকশীবাজার রোড, বাড্ডা, রামপুরা ও চট্টগ্রাম বন্দরে অভিযান চালানো হয়। এতে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট, চকলেট, প্লাস্টিক দানা ও কাপড়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে অভিযান চালিয়ে আমদানি ১ কোটি ৫৬ লাখ শলাকা সিগারেটের চালান জব্দ করে শুল্ক সদস্যরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়া থেকে যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজে করে কার্গো মাল হিসেবে এসব সিগারেট বুকিং দেয়া হয়। জসীম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির নামে এ মাল আনা হয়। তা খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রিও জমা দেয়া হয়। ৫টি কার্টনে ভরে রাখা ছিল এ সিগারেট। যার বাজার দর এক কোটি টাকারও বেশি। এ ঘটনার পর দুপুরে শুল্ক গোয়েন্দার অপর একটি দল অভিযান চালায় রাজধানী লালবাগ থানাধীন বকশীবাজার এলাকার একটি গোডাউনে। সেখানে ৫ শতাধিক বস্তা প্লাস্টিক দানা জব্দ করা হয়। ডক্টর মইনুল খান জানান, এসব দানা বৈধভাবে বন্ডেড সুবিধার আওতায় এনে খোলাবাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। যা চোরাচালানের আওতায় পড়ে। এসব মালের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি গোডাউন মালিক। যে কারণে আজ (বৃহস্পতিবার) ব্যাংকের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। তারপর নিয়মিত মামলা করা হবে। একই দিন বিকেলে অভিযান চালানো হয় রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার দুটো গোডাউনে। অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বিদেশী চকলেট এনে এখানে মজুদ করার অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। দুটো বাড়িই সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সব জব্দ করা হবে।

একই সময়ে শুল্ক গোয়েন্দার অপর একটি টিম অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখানে বিপুল পরিমাণ চোরাই কাপড়ের চালান আটক করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণায় এসব কাপড় আনা হয়। একটি কন্টেনারে ৯০ টন ওজনের এ কাপড় বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা। ৭৬/২ খাজে দেওয়ান লেন উর্দু বাজারের ঠিকানা গ্লোবাল বিজনেস হাউস নামের একটি প্রতিষ্ঠান চায়না থেকে এ সব লেমেনিটেড ফ্যাব্রিকস আমদানি করে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে চুনকুটিয়ায় তিনটি কাটিং মিলে হানা দিয়ে জব্দ করা হয় সিআর কয়েল। এগুলো ঢেউটিন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বন্ডেড সুবিধার আওতায় এনে খোলা বাজারে বিক্রয় করা হয়।