২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আটক ৪

  • রাজধানীতে ছদ্মনামে এরা ২০ বছর ধরে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উত্তরা থেকে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাতকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। আটকরা বিভিন্ন স্থানে সুসজ্জিত অফিস খুলে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। প্রতারক চক্রের আটক চার সদস্য হলো- হুমায়ুন কবির (৫৮), সৈয়দ মারুফ হাসান (৬৬), শাহাবুদ্দিন (৪৯), জামাল শেখ (৪৩)।

র‌্যাব-১ এর একটি দল মঙ্গলবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৫ নং রোডের ৪৪ নং বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করে। র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এ সময় তিনি জানান-আটক আসামি ও প্রতারিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটকরা বারিধারায় কথিত নাতান গ্রুপ নামে একটি বায়িং হাউস খোলে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় ওই কোম্পানির বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে একাধিক ব্যক্তি আবেদন করে। এক পর্যায়ে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (এ্যাকাউন্টস) পদে চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে এক ভুক্তভোগীকে অফিসে যেতে বলা হয়।

র‌্যাব জানায়-আবু হেনা অফিসে যাওয়ার পর আবেদনকারীর সামনে প্রতারক চক্র মোবাইল ফোনে কথিত বিদেশীর সঙ্গে শিপমেন্টের বিষয়ে কথা বলে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম পোর্টে তাদের কোম্পানির মালামালের একটি লাভজনক চালান আটকে আছে, টাকার অভাবে চালানটি খালাস করা যাচ্ছে না বলে জানায়। ২৫/৩০ লাখ টাকা হলে মালগুলো খালাস করা সম্ভব হবে উল্লেখ করে আবেদনকারীকে মালামাল খালাসের টাকার বিনিময়ে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হওয়ার প্রস্তাব করে। আবেদনকারী প্রতারকদের প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেয়। এর ২-৩ দিন পর অফিসে যোগদান করতে গেলে সে অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পায়। এরপর র‌্যাব নিশ্চিত হয়-তারা উত্তরায় আরেকটি অফিস খুলে প্রতারণা করে আসছে। উত্তরার সেই অফিস থেকে মঙ্গলবার রাতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা হুমায়ুন কবিরসহ ৪ জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, মারুফ ও হুমায়ুন ২০ বছরের অধিক সময় ধরে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। এরা বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অফিস নিয়ে ছদ্মনাম, পরিচয় ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল।

ডাব খেয়ে প্রাণ গেল মহসিনের ॥ বাসে বসে হকারের কাছ থেকে ডাব কিনে খাওয়ায় প্রাণ গেল ৫৫ বছর বয়সী হাজী মহসিন আলীর। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টায় মহসিন আলীকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি মেরুল বাড্ডার বিআইপি প্রজেক্ট এলাকার ১১নং রোডের ৬৯/৭১নং বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার বওড়া গ্রামে।

মহসিন আলীর পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে হাজী মহসিন মিরপুর থেকে অলীক পরিবহনযোগে মেরুল বাড্ডায় আসছিলেন। এ সময় তিনি বাসে বসে হকারের কাছ থেকে একটি ডাব কিনে খান। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ততক্ষণে বাসটি মেরুল বাড্ডায় পৌঁছে যায়।

এ সময় তিনি শুধু তার বাসার ঠিকানাটা কোনো রকমে বলতে পারেন। তখন কয়েকজন বাসযাত্রী তাকে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর রাত ১০টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওসি জানান, ডাবের পানি খেয়ে না অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য হাজী মহসিনের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

বংশালে ৪০ মণ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ২ ॥ রাজধানীর বংশালে বুধবার অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ৪০ মণ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ জালের মূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। ঢাকা মহানগরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কুদ্দুস জানান, জব্দকৃত কারেন্ট জাল বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রাকযোগে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ সময় দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু ॥ বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।