২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও ৫ বছর কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আবারও পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ ব্যাংককে কর অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শীঘ্রই অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ পাঠানো হবে। এনবিআরের বোর্ড সভায় গ্রামীণ ব্যাংককে কর অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতি সুবিধা শেষ হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করে। তাদের আবেদনটি বিবেচনার জন্য বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হলে নতুন করে আরও ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। অর্থাৎ এই কর অব্যাহতির ফলে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের যে কোন আয়ের ওপর আরোপনীয় আয়কর, সুপারট্যাক্স বা ব্যবসায়িক মুনাফা করের আওতার বাইরে থাকবে। এর আগে এসআরওর মাধ্যমে ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। গ্রামীণ ব্যাংক কর অঞ্চল-১৪ এর কর সার্কেল-২৮৭ অধিক্ষেত্রভুক্ত করদাতা। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ০৭০-২০০-১৮৮৪। ২০১২Ñ১৩ কর বর্ষে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় নিরূপণ করা হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সম্প্রতি এনবিআরে পাঠানো কর অব্যাহতির আবেদনে গ্রামীণ ব্যাংক উল্লেখ করে, প্রতিষ্ঠানটিকে ধারাবাহিকভাবে কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়ায় শেয়ার মালিকদের (সরকার এবং ভূমিহীন সদস্য) লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ২০০৬ সালে ১০০ শতাংশ, ২০০৭ সালে ২০ শতাংশ, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হবে। সরকার দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয় লভ্যাংশ হিসেবে গ্রহণ করে ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। সরকারও বিনিয়োজিত অর্থের ওপর লভ্যাংশ পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, বোর্ড সভায় কার্যপত্র অনুমোদনের পর অর্থমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখতে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি পেলে চূড়ান্তভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যেদিন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে ওই দিন থেকেই পরবর্তী ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা পাবে গ্রামীণ ব্যাংক।

জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংক ২ হাজার ৫৬৮টি শাখার মাধ্যমে দেশের ৮১ হাজার ৩৯০টি গ্রামে প্রায় ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার সদস্যের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। এ কর্মসূচীর আওতায় সদস্য পরিবারের লোক সংখ্যা ৫ কোটি বেশি। গ্রামীণ ব্যাংক বছরে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বোর্ড সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতির বিষয়টি উত্থাপিত হলে সব সদস্যই সম্মতি দেন। কার্যপত্র অনুমোদনের পর অর্থমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হবে।

নির্বাচিত সংবাদ