২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জমে উঠেছে ব্যাংকিং মেলা

  • গাড়ি-বাড়ি কিনতে ব্যাংক ঋণের খোঁজ

রহিম শেখ ॥ ব্যাংক কর্মকর্তা একজন গ্রাহককে ব্যাংক ঋণ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। কী কী কাগজপত্র জমা দিলে মিলবে ঋণ, তা জানাচ্ছেন। গ্রাহকও তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য নেয়ার জন্য টেবিলের ওপর ঝুঁকে কথা বলছেন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে একটি ব্যাংক শাখা মনে হলেও এটা আসলে কোন শাখা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত উপমহাদেশের প্রথম ব্যাংকিং মেলার স্টলের চিত্র এটি। দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ মেলা বেশ জমে উঠেছে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত স্টলগুলোতে ব্যাংক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আর্থিক সেবা ও পণ্য প্রদর্শন করছে। প্রথম দিনের মেলায় আগতদের বেশিরভাগই ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন ব্যাংক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তবে দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গাড়ি-বাড়ি কিনতে ব্যাংক ঋণের জন্য বেশি আগ্রহ দেখা গেছে ব্যাংকিং মেলার দর্শনার্থীদের।

বুধবার মেলার স্টল ঘুরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ আগ্রহের কথা জানা যায়। গাড়ি-বাড়ি ছাড়াও এসএমই ঋণ, ব্যক্তি ঋণ (পারসোনাল লোন), ডিপিএস স্কিম ও এফডিআরের সুদের হার এবং ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া জানতে মেলার স্টলগুলোতে ভিড় করছেন সরকারী-বেসরকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দর্শনার্থীরা। তাদের বেশিরভাগই খোঁজখবর করছেন এসএমই ও ভোক্তা ঋণের বিষয়ে। স্টলে বসা ব্যাংক কর্মকর্তারা জবাব দিচ্ছেন তাদের প্রশ্নের। ধরিয়ে দিচ্ছেন এ বিষয়ে তৈরি নিজদের ব্রুশিয়ার। জানা গেছে, মেলায় অংশ নেয়া ৫৬টি ব্যাংকেরই গাড়ি ঋণ ও গৃহ ঋণ পণ্য রয়েছে। ব্যাংক ভেদে সুদের হার কমবেশি হচ্ছে। গাড়ি কিনতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির অর্ধেক দামের মধ্যে যেটা সর্বোচ্চ হয়। অর্থাৎ একটি গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা গাড়ির দামের অর্ধেক টাকা অথবা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার ব্যাংক ভেদে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ। মেলায় এবি ব্যাংকের এ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহিন আক্তার বলেন, গাড়ির জন্য ঋণ নিতে চাকরিজীবীদের যেসব কাগজপত্র ব্যাংকের কাছে দিতে হবে এর মধ্যে রয়েছে বেতনের বিবরণী, টিন সার্টিফিকেট ও গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেয়া কোটেশন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বেতনের রসিদের পরিবর্তে ব্যাংকের লেনদেনের বিবরণী দিতে হবে। এবি ব্যাংক গাড়ি ঋণের সুদ নিচ্ছে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ। প্রাইম ব্যাংক নিচ্ছে ১৩.৫ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংক নিচ্ছে ১৫.৫ শতাংশ। ডাচ্-বাংলা নিচ্ছে ১৬ শতাংশ সুদ। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের রয়েছে গাড়ি কেনার জন্য বিভিন্ন হার সুদের ঋণপণ্য।

বাড়ি কিনতেও সব ব্যাংকই ঋণ দিচ্ছে। বাড়ি কিনতে ব্যাংকগুলো এখন ১১.৯৫ থেকে ১৫ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে। বাড়ি কিনতে আইএফআইসি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ১১.৯৫ শতাংশ সুদে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ১২ শতাংশ সুদে। প্রাইম ব্যাংক দিচ্ছে ১২.৫ শতাংশ সুদে। এবি ব্যাংক দিচ্ছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে। বাড়ি কিনতে সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাড়ির মোট দামের ৩০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে যোগাড় করতে হবে এবং ব্যাংক দেবে ৭০ শতাংশ অর্থ। মেলায় এসব তথ্য একটি জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দর্শনার্থীরা যেমন ঋণের সুদহার সম্পর্কে জানতে পারছে, তেমনি গ্রাহকদের কোন ধরনের ঋণের চাহিদা বেশি সে সম্পর্কে জানতে পারছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিত্রা চৌধুরী জানান, তাঁদের স্টলে অনেক দর্শনার্থী এসে ঋণ ও ডিপিএসের সুদ হার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। হিসাব খুলতে যাঁরা আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাঁদের দেয়া হচ্ছে হিসাব খোলার ফরম। মেলা থেকে দেয়া এই ফরম পূরণ করে নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় জমা দিয়ে হিসাব খুলতে পারবেন গ্রাহকরা।

বুধবার রাজধানীর খিলগাঁও থেকে ব্যাংকিং মেলায় এসেছিলেন নারী উদ্যোক্তা মনিরা সুলতানা। বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়ে পুঁতির তৈরি নক্সা করা ব্যাগ, টিস্যু বক্সসহ নানা সামগ্রী তৈরি করেন তিনি। বর্তমানে বেসরকারী একটি ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের (এসএমই) আওতায় কিছু ঋণ নিয়েছেন। ব্যবসা বাড়াতে এখন আরও ঋণ নিতে চান এ উদ্যোক্তা। এ জন্য ব্যাংকিং মেলায় কোন ব্যাংকের সুদহার কেমন তা যাচাই করছেন। সহজ শর্তে ও কম সুদে অন্য কোন ব্যাংকে ঋণ পেলে সেখান থেকে নতুন ঋণ নেবেন বলে জানান তিনি। মেলায় আসা আরেকজন হলেন মতিঝিলের বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রামপুরার বাসিন্দা হামিদুজ্জামান ফরহাদ। টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে ঋণ নিতে চান তিনি। ভোক্তা ঋণের আওতায় ব্যাংকগুলো এসব ঋণ দিয়ে থাকে। মেলায় ঘুরে দেখছেন কোন ব্যাংকের ঋণে কত সুদ। তিনি জানালেন, একই স্থানে সব ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যাবে বলে মেলায় এসেছেন।

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ২৮ নবেম্বর শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সব দর্শনার্থীর জন্য খোলা থাকবে। মেলার পাশাপাশি প্রতিদিন থাকছে আর্থিক শিক্ষা প্রচারণা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।