১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুর রাইডার্সের আয়েশি জয়

রংপুর রাইডার্সের আয়েশি জয়
  • সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্য, ঢাকা ডায়নামাইটস ৬৯ রানে পরাজিত

মিথুন আশরাফ ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) তৃতীয় আসরে মাত্র দুই মহা তারকা খেলছেন। একজন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান; আরেকজন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। দুই মহা তারকার মধ্যকার লড়াইও হয় বুধবার। সাকিবের দল রংপুর রাইডার্স ও সাঙ্গাকারার দল ঢাকা ডায়নামাইটস মুখোমুখি হয়। কোন্ মহা তারকা জিতবে? সবার দৃষ্টি ছিল সেদিকেই। শেষপর্যন্ত সাঙ্গাকারার দলকে সহজেই ৬৯ রানে হারিয়ে জয় তুলে নিল সাকিবের দল। দুই মহা তারকার লড়াইয়ে জয় হলো সাকিবেরই।

ম্যাচে টস জিতেন সাকিব। আগে ব্যাট করারও সিদ্ধান্ত নেন। এ ম্যাচটির আগে দুই ম্যাচ খেলে রংপুর। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জিতে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হারে। তৃতীয় ম্যাচে খেলতে নেমে জয়ের ভিতও গড়ে। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে। লেন্ডল সিমন্স সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২৪ রান। মুস্তাফিজুর রহমান ও ইয়াসির শাহ দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১০৭ রান করতেই অলআউট হয়ে যায় ঢাকা। ব্যাট হাতে কুমার সাঙ্গাকারা সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে সক্ষম হন। বল হাতে সাকিব সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন।

ঢাকা তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামে। প্রথম ম্যাচেই দলটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ১১০ রান অতিক্রম করতে গিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে। তাতে রংপুরের গড়া বিশাল স্কোর তাদের সামনে পাহাড়সমই লাগার কথা; সেই ধারণা সবার মধ্যেই হয়ে যায়। তার প্রমাণও মিলে। শুরুতেই ১৫ রানের মধ্যে শামসুর রহমান শুভ ও নাসির জামশেদের উইকেটটি তুলে নিয়ে যে সাকিব ধস নামান, তা থেকে আর মুক্তি মেলেনি ঢাকার। ৮৩ রানের মধ্যেই ৭ উইকেটের পতন ঘটে! সাকিবের পর আরেক স্পিনার আরাফাত সানিও ঘূর্ণির জাদুতে কাবু করে দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সাঙ্গাকারাকে। দেখতে দেখতে রায়ান টেন ডয়েশ্চেট ও আবুল হাসান রাজুকে আউট করেন পেরেরা। আর ফরহাদ রেজাকে সাজঘরে পাঠান সাকিব। এরপর যখন নাসির হোসেন ও ইয়াসির শাহ মিলে একটু দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবারও সাকিব এসে ধস নামান। নাসিরকে আউট করে দেন। তখন দলের স্কোর বোর্ডে ১৭.৩ বলে ১০২ রান জমা থাকে। ৮ উইকেটের পতন ঘটে যায়। সেই সঙ্গে ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন সাকিব, যা বিপিএলে সাকিবের সেরা বোলিং। এরপর কী আর ম্যাচ জেতার কোন আশা থাকে ঢাকার? হারই যেন হয়ে যায় নিয়তি। কোন রকমে তখন যতদূর যাওয়া যায়, সে চেষ্টাই থাকে। কিন্তু একটুও এগিয়ে যেতে পারেনি ঢাকা। আর মাত্র ৫ রান যোগ হয়। ১৯.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায় ঢাকা। সাকিব ৪টি, পেরেরা ৩টি ও আরাফাত ২টি উইকেট নেন।

শুরু থেকেই রংপুর দুর্দান্ত খেলতে থাকে। একের পর এক জুটি হতে থাকে। ৩৮ রানে গিয়ে প্রথম উইকেট পড়ে রংপুরের। এ সময়ে সৌম্য সরকার (১৮) আউট হন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে লেন্ডল সিমন্স-মোঃ মিঠুন মিলে ৫৬, তৃতীয় উইকেটে মিঠুন-থিসারা পেরেরা মিলে ২৮ ও চতুর্থ উইকেটে পেরেরা-ড্যারেন সামি মিলে ১৮ রানের জুটি হয়। শেষে গিয়ে সপ্তম উইকেটেও ২৬ রানের অনবদ্য জুটি হয়। সাকিব ও জহুরুল ইসলাম অমি মিলে শেষের জুটিটি গড়েন। একের পর এক জুটিতেই রংপুর বড় সংগ্রহ গড়ে। যে সংগ্রহই রংপুরকে সহজ জয় এনে দেয়।

সাবেক মহা তারকাদের নিয়ে এ মাসেই ‘অল স্টারস’ সিরিজ। সিরিজে টেন্ডুলকার ও ওয়ার্নের সঙ্গে ব্রায়ান লারা, জয়াবর্ধনে, শন পোলক, শোয়েব আখতার, কার্টলি এ্যামব্রোস, সাঙ্গাকারা, ওয়াসিম আকরাম, জ্যাক ক্যালিস, রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেইডেন, সাকলায়েন মুশতাক, জন্টি রোডসরা খেলেন। সবাই এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ক্রিকেটার, নিজ নিজ দেশের মহাতারকা। এ সিরিজে কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার ছিল না। কেন নেই, তা জানাতে গিয়ে টেন্ডুলকার জানিয়েছিলেন- ‘এখানে যারা খেলছে, তারা সবাই কিংবদন্তির পর্যায়ে। তাদের পারফর্মেন্স কিংবা রেকর্ড ছিল অসাধারণ। আর এখানে যারা খেলছে, তারা সবাই এখন আর খেলে না; অবসর নিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে একজনই এদের সঙ্গে খেলার যোগ্য- সে হলো সাকিব আল হাসান।’ সাকিবকে কিংবদন্তিদের কাতারে রেখেছেন টেন্ডুলকারই। এরপর আর কোন বিতর্কই থাকে না। সেই মহাতারকা বুধবার বিপিএলে আরেক মহাতারকা সাঙ্গাকারাকে হারিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচে দুই জয়ও তুলে নিলেন সাকিব। ঢাকা দুই ম্যাচে একটিতে জিতল, আরেকটিতে হারল।