২৫ নভেম্বর ২০১৫

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টি২০ দ্বৈরথ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চ্যালেঞ্জটা শহীদ আফ্রিদির জন্য একটু বেশিই। কারণ ৩-১এ ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফুরফুরে মেজাজে প্রতিপক্ষ ইয়ন মরগানের ইংল্যান্ড। যা টি২০-তে ইংলিশদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে দুটি ছোট্ট লড়াইয়ে সফল হলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুইয়ে আর ইংল্যান্ড এক নয়। বদলে যাওয়া মরগানের এই দলটা বড়ই ধুরন্ধর। যেটি ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেখা গেছে। টের পেয়েছে আজহার আলির নেতৃত্বাধীন ওয়ানডের পাকিস্তানও। প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়েও টানা তিন জয়ে সিরিজ পকেটে পোড়ে ইংল্যান্ড। মার্চ-এপ্রিলে ভারতে বসবে টি২০ বিশ্বকাপের আসর। সে লক্ষ্যে দু-দলের জন্যই এটা শক্তির এক পরীক্ষা ক্ষেত্র। কয়েক মাস আগে শহীদ আফ্রিদি সেটি বলেছেন, মনের মতো দল নিয়ে জীবনের শেষ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে চান দেশটির ক্রিকেটের এই বড় তারকা। দুবাইয়ে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে সিরিজটা যে গুরুত্বপূর্ণ আফ্রিদির কথায় ফুটে উঠেছে সেটিই। পাকিস্তান টি২০ অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে দল গুছিয়ে নিতে আমাদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। আমি আগেও বলেছি, হুট করে একটা দল নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামতে চাই না। প্রতিটি পজিশনে সম্ভাব্য সেরা পারফর্মারকে বেছে নিতে হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজটাও পর্যবেক্ষণে ছিল। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুইয়ে আর ইংল্যান্ড এক নয়। বিশ্বকাপের আগে আমাদের শক্তি যাচাইয়ের সেরা সুযোগ এটি। মোটকথা দল গুছিয়ে নেয়ার চূড়ান্ত কাজটা এখান থেকেই শুরু করতে চাই।’ যদিও বিশ্বকাপে আগে ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুটি সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে পাকিস্তান। তবে বাছাইয়ের শুরুটা ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়েই করতে চাইছেন আফ্রিদি।

পাকিস্তান এমনিতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল। সিরিজে তাদের সমস্যাও কম নয়। ফর্মহীনতায় ছিটকে গেছেন টি২০ ইতিহাসের সর্বাধিক ৮৫ উইকেট শিকারি সাঈদ আজমল। এ্যাকশন শুধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেও নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন তুখোড় এই স্পিনার। তার জন্য চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) হতে পারে পুনর্জন্মের সুযোগ। রেসে আছেন স্পট ফিক্সিংয়ের কলঙ্ক মুছে ফেরা পেসার মোহাম্মদ আমিরও। সেটি অবশ্য ভিন্ন বিষয়। আফ্রিদি পাচ্ছেন না উমর গুলকে। টি২০’র দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮৩ উইকেটের মালিক বেশ কিছুদিন ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন। এ্যাকশন নিষেধাজ্ঞায় বল করতে পারছেন না তুখোড় মোহাম্মদ হাফিজও। তার ব্যাটিংটাই কেবল পাচ্ছে পাকিস্তান। তবু আশাবাদী আফ্রিদি। তিনি আশায় আছেন কয়েকজন পুরনোর সঙ্গে নতুনের কম্বিনেশন নিয়ে। যেখানে অগ্রভাগে থাকবেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক।

আছেন আহমেদ শেহজাদ, সরফরাজ আহমেদের, উমর আকমলের মতো পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। সঙ্গে প্রতিভাবান মোহাম্মদ রিজোয়ান, আমির ইয়ামিনের সার্ভিস পাবেন। বল হাতে সোহেল তানভির, ওয়াহাব রিয়াজ, আনোয়ার আলির সঙ্গে থাকবেন বিল্লাল আসিফ, ইমরান খান। তবে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ও নির্ভরতার তুলনায় গেলে ইংল্যান্ডই এগিয়ে থাকবে। যেখানে ভয়ঙ্কর নাম অধিনায়ক মরগান। রঙিন পোশাকে অসাধারণ এক উইলোবাজ তিনি। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তরুণ জেস রয়, জস বাটলার, এ্যালেক্স হেলেসরা। আছেন মঈন আলি, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট। সত্যি ভয়ঙ্কর ব্যাটিং-লাইনআপ। বোলিংয়ে ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেটের সঙ্গে পেস আক্রমণে উঠে আসছেন ডেভিড উইলি আর রেস টপলিরা। স্পিনে মঈন আলি-আদিল রশিদ দৃশ্যপট বদলে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন।

বিশ্বকাপ মাথায় থাকছে ইংলিশদেরও। প্রধান কোচ ট্রেভর বেইলিস যেমন বলেন, ‘কোয়ালিটি দলের বিপক্ষে এই সিরিজটা টি২০ বিশ্বকাপের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে এক ঝাঁক প্রতিভাবান পারফর্মার রয়েছে। যারা প্রত্যেকে জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সামর্থ্য রাখে। সুতরাং বিশ্বকাপের জন্য ভাল একটা দল গড়তে ওদের ওপর নজর থাকবে। তবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য জয়। ওয়ানডের পর টি২০ সিরিজ জিতেই ফিরতে চাই।’ একদিকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ন্যাচারাল-প্রতিভাবান পাকিস্তান, অন্যদিকে গুছিয়ে ওঠা দারুণ এক দল ইংল্যান্ড। মরুর দেশে তিন ম্যাচের টি২০তে জমবে লড়াই বেশ।