১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাপুটে জয়ে শেষ ষোলোতে বেয়ার্ন মিউনিখ

  • বড় জয়ের পরও শঙ্কায় আর্সেনাল, চেলসির সহজ জয়, আশাবাদী কোচ মরিনহো

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দাপুটে জয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বেয়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার রাতে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে বাভারিয়ানরা ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় গ্রীসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসকে। মিউনিখের এ্যালিয়েঞ্জ এ্যারানায় বেয়ার্নের হয়ে গোলগুলো করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ডগলাস কোস্টা, পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোস্কি, জার্মান সুপারস্টার টমাস মুলার ও ফরাসী উইঙ্গার কিংসলে কোম্যান।

এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব ডায়নামো জাগরেবকে ৩-০ গোলে হারিয়েও দুশ্চিন্তায় আছে আর্সেনাল। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে গানার্সদের হয়ে জোড়া গোল করেন চিলিয়ান তারকা এ্যালেক্সিস সানচেজ। অপর গোলটি করেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। পাঁচটি করে ম্যাচে শেষে ‘এফ’ গ্রুপ থেকে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে নোঙর ফেলেছে বেয়ার্ন। গ্রুপ থেকে আরেকটি স্থানের জন্য লড়াই হচ্ছে অলিম্পিয়াকোস ও আর্সেনালের মধ্যে। বর্তমানে অলিম্পিয়াকোস ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ও আর্সেনাল ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে অলিম্পিয়াকোস-আর্সেনালের লড়াইয়ে নির্ধারণ হবে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বে কোন্ দলের।

সবচেয়ে জমে উঠেছে ‘জি’ গ্রুপের লড়াই। এই গ্রুপ থেকে কোন দু’টি দল নকআউট পর্বে যাবে, তা নির্ভর করছে শেষ গ্রুপের ম্যাচের ফলাফলের ওপর। পরশু রাতে স্বাগতিক পোর্তোতে ২-০ গোলে হারিয়ে লড়াই জমিয়ে দিয়েছে ইউক্রেনের ডায়নামো কিয়েভ। আর চেলসি ৪-০ গোলে হারিয়েছে আগেই বিদায় নেয়া মাক্কাবি তেল আবিবকে। বর্তমানে গ্রুপে পাঁচটি করে ম্যাচ শেষে সমান ১০ পয়েন্ট করে ভা-ারে পোর্তো ও চেলসির। ৮ পয়েন্ট নিয়ে ডায়নামো কিয়েভ তিনে। প্রথম লেগের ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসকে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বেয়ার্ন। সেই সুখস্মৃতি নিয়েই মিউনিখে ফিরতি লেগে মাঠে নেমেছিল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম চার ম্যাচে ১৩ গোল করা বেয়ার্ন ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায়। অষ্টম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে জেরোমে বোয়াটেংয়ের বিদ্যুত গতির শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন অতিথি গোলরক্ষক। কিন্তু দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কোস্টা। সাত মিনিট বাদেই সমর্থকদের ফের গোলের উচ্ছ্বাসে ভাসান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লেভানডোস্কি। কিংসলে কোম্যানের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন পোলিশ স্ট্রাইকার। চলমান মৌসুমে বেয়ার্নের হয়ে ২০ ম্যাচে লেভানডোস্কির এটা ২০ নম্বর গোল। ২০ মিনিটে গোল করেন লোকাল তারকা মুলার। অধিনায়ক ফিলিপ লামের ক্রসে লেভানডোস্কির হেড, তা থেকে আরিয়েন রোবেনের বাড়ানো বল গোলমুখ থেকে আলতো টোকায় জালে জড়ান জার্মান তারকা। এ্যালিয়াঞ্জ এ্যারানায় চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ সাত ম্যাচে মুলারের এটা সপ্তম গোল। এই গোলে জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বেয়ার্নের। সেই সঙ্গে নকআউট পর্বের টিকেটও। বিরতির পর একটা ধাক্কা খায় পেপ গার্ডিওলার দল। অলিম্পিয়াকোসের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড ব্রাউন ইডেইকে ফাউল করায় স্বাগতিক ডিফেন্ডার হোলগার বাডসটুবারকে লালকার্ড দেখান রেফারি। তবে বাকি সময়টা একজন কম নিয়ে খেললেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঠিকই চাপ ধরে রাখে বেয়ার্ন। ৬৮ মিনিটে হেডে গোল করে অলিম্পিয়াকোসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন কোম্যান। দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া চেলসি তেল আবিবকে হারিয়ে নকআউট পর্বের স্বপ্ন দেখছে। ম্যাচের ২০ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্লুজরা। মাকাবি গোলরক্ষক চেলসির মিডফিল্ডার উইলিয়ানের কর্নার ফেরালেও বল গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি গোলমুখে থাকা গ্যারি ক্যাহিলের। ৪০ মিনিটে স্বাগতিকরা আরেকটি ধাক্কায় আরও পিছিয়ে পড়ে। দিয়াগো কোস্টাকে ফাউল করে সরাসরি লালকার্ড দেখেন তেল আবিবের ডিফেন্ডার ট্যাল বেন হেইম। ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটি পেতেও চেলসিকে অপেক্ষা করতে হয় ৭৩ মিনিট পর্যন্ত। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ফ্রিকিকে গোল করেন উইলিয়ান। চার মিনিট পর তৃতীয় গোল করেন আরেক ব্রাজিলিয়ান অস্কার।