২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাহাড় কেটে বসতি

  • চকরিয়ায় জবরদখলে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ চকরিয়ায় প্রকাশ্যে বনবিভাগের পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি নির্মাণের মহোৎসব চলছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মালিকানাধীন একাধিক পাহাড় জবরদখলে নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড় কেটে নিজেদের দখলে নিয়ে ওসব অবৈধ স্থাপনা প্লট আকারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বনবিভাগের কতিপয় লোকজন গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ক্ষেত্র বিশেষে এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে চলছে। এতে কোন প্রকারের বাঁধা নেই বুঝতে পেরে পাহাড় দখলকারী ও কাটার সঙ্গে জড়িতরা আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছে। বনববিভাগের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েকমাস আগে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর শীতকালের আগমনে চকরিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ী জনপদে শুরু হয়েছে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও সমতল জায়গা বানিয়ে সেখানে অবৈধ বসতি নির্মাণের হিড়িক। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী লোকজন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বনবিভাগের একাধিক পাহাড় জবরদখলে নিয়ে সেখানে চালাচ্ছে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের এই কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের চকরিয়া বরইতলী বনবিটের মাহমুদনগর, বানিয়ারছড়া, পহরচাদা, হারবাং বনবিটের বিভিন্ন এলাকা, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জের চকরিয়া ইসলামনগর, ডলমপীর মাজার এলাকা, বারআউলিয়া নগর, ফাসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালীসহ প্রভৃতি পাহাড়ী অঞ্চলে চলছে পাহাড় কেটে সমতল জায়গা তৈরি করে সেখানে চলছে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা।

পরিবেশ সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, স্থানীয় বনকর্মীরা গোপনে আর্থিক সুবিধা নিয়ে দখলবাজ চক্রের লোকজনকে বনবিভাগের পাহাড় দখল ও মাটি কেটে লুটের সুযোগ করে দিচ্ছে। এ কারণে পাহাড়ের ভেতরে বেশির ভাগ এলাকা বর্তমানে সমতল এলাকায় পরিণত হয়ে পড়েছে। সেখানে গড়ে উঠছে নতুন নতুন অবৈধ জনবসতি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) বিপুল কৃষ্ণ দাস বলেন, বরইতলী বনবিটের অধীন এলাকায় পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ করার ঘটনাটি ইতোপূর্বে শুনিনি। খবর পাওয়া মাত্র ওই বনবিটের অন্য এলাকায় পাহাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড় কাটার ঘটনাটি অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়াসহ শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করে দেয়া হবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বলেন, চকরিয়ায় একাধিক স্থানে পাহাড় কাটার ঘটনাটি পরিবেশ অধিদফতরের নজরে রয়েছে।