১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবার মুখোমুখি!

সিরিয়ার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আইএস জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে পরাশক্তিরা অবস্থান নিলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের নিরসন হয়নি। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষে রাশিয়া অবস্থান নিলেও এই সরকারকে উৎখাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন শুধু নয়, অর্থ, অস্ত্র এবং সেনা প্রহরা দিয়ে আসছে। এদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফাঁক গলে ইসলামিক স্টেট নামক জঙ্গী গোষ্ঠীটি ব্যাপকভাবে তৎপর হয়ে নৃশংসতা, সহিংসতা নাশকতা, চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যেমনি, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোগের বিভিন্ন দেশে জঙ্গী হামলা চালিয়ে আসছে। সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে তারা খেলাফতের শাসন অব্যাহত রেখেছে। দখলকৃত এলাকার তেল বিক্রির অর্থ ছাড়াও এরা মার্কিন সমর্থিত আসাদবিরোধীদের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তাও পেয়ে আসছে। সিরিয়ার পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তিগুলো বৈঠক করেও কার্যকর সমাধানের পথ বের করতে পারেনি। মার্কিন ও রুশ এই দুই পরাশক্তির মধ্যে সমঝোতার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতির স্বাভাবিকীকরণ। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা সহিংসতা কিংবা গৃহযুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ যেমন হতাহত হয়েছে, তেমনি শরণার্থী হিসেবে দেশত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরছে। এক কঠিন কষ্টকর জীবন সিরিয়ানদের মেনে নিতে হচ্ছে। পুরো দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর গোচরে না এলেও এটা পরিষ্কার যে, সিবিয়াকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। রাশিয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষ হয়ে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এবং সিরিয়ার নির্বাচিত সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাশিয়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ন্যাটো বলছে, সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিপন্থী। রুশ জঙ্গী বিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে তারা অগ্রহণযোগ্য অভিহিত করে।

রাশিয়া বলছে, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সিরিয়া সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েই তারা সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্ক, রাজতন্ত্রশাসিত আরব দেশগুলোসহ পাশ্চাত্য বিশ্ব এক দিকে এবং অন্যদিকে রাশিয়া মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার প্রচ- বিমান হামলায় সিরিয়ার সন্ত্রাসীরা কার্যত পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। আর এ কারণেই পাশ্চাত্য ও তাদের ন্যাটো সামরিক জোট নানা অজুহাতে ও অপপ্রচার চালিয়ে রাশিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। রুশ জঙ্গী বিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় তুরস্কসহ পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর কঠোর প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অব্যাহত হামলার ফলে ওই অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য সিরিয়ার অনুকূলে চলে যাবে বলে পাশ্চাত্য শঙ্কিত। তাই দেখা গেছে সিরিয়া সীমান্তের কাছে তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি রুশ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে তুরস্ক গত মঙ্গলবার। সিরীয় এলাকায় ভূমি থেকে ছোড়া গুলির আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাশিয়া বলছে বিমানটি সিরিয়ার আকাশে ছিল। তারপরও তুরস্ক আমাদের পিঠে ছুরি মেরেছে। এই বিমান ধ্বংসের ঘটনাকে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়বে। তাই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সিরিয়া প্রশ্নে। নতুবা অশুভ যুদ্ধ বিশ্বকেই ক্ষতবিক্ষত করবে।