২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক ছাদের নিচে ব্যাংকিং সেবা

  • গাড়ি-বাড়ি ছাড়াও এসএমই ঋণ, ব্যক্তি ঋণ, ডিপিএস স্কিম ও এফডিআরের খোঁজ;###;মোবাইলে হিসাব খুলতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রায় চার বছর ধরে ঢাকায় রিক্সা চালান দেলোয়ার হোসেন। গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেরামাড়ায়। সেখানে থাকেন স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে। সংসারের খরচ ও ছেলেমেয়ের স্কুলের ফি নিয়মিত পাঠাতে হয়। টাকা পাঠাতে দেড় বছর আগে একটি বিকাশ এ্যাকাউন্ট খুলেন তিনি। তারপর থেকে নিয়মিত টাকা পাঠান বিকাশে। রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ব্যাংকিং মেলায় অংশগ্রহণকারী মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশের স্টলে বসে দর্শনার্থীদের হিসাব খোলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তিনি। মেলাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছে বিকাশ। এ প্রসঙ্গে বিকাশের মুখপাত্র জাহেদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, কেউ চাইলে মেলায় স্টলে এসে বিকাশ এ্যাকাউন্টও খুলতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজনে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে পাঁচদিনব্যাপী এ মেলায় ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি এখন মোবাইলেও হিসাব খুলতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ছিল মেলার তৃতীয় দিন। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে বেশ জমে উঠেছে ব্যাংকিং মেলা। বর্ণিল সাজে সজ্জিত স্টলগুলোতে ব্যাংক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আর্থিক সেবা ও পণ্য প্রদর্শন করছে। গাড়ি-বাড়ি ছাড়াও এসএমই ঋণ, ব্যক্তি ঋণ (পার্সোনাল লোন), ডিপিএস স্কিম ও এফডিআরের সুদের হার এবং ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া জানতে মেলার স্টলগুলোতে ভিড় করছেন সরকারী- বেসরকারী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার দর্শনার্থীরা। তাদের বেশিরভাগই খোঁজ-খবর করছেন এসএমই ও ভোক্তা ঋণের বিষয়ে। স্টলে বসা ব্যাংক কর্মকর্তারা জবাব দিচ্ছেন তাদের প্রশ্নের। ধরিয়ে দিচ্ছেন এ বিষয়ে তৈরি নিজদের ব্রুশিয়ার।

জানা গেছে, মেলায় অংশ নেয়া ৫৬টি ব্যাংকেরই গাড়ি ঋণ ও গৃহ ঋণ পণ্য রয়েছে। ব্যাংক ভেদে সুদের হার কমবেশি হচ্ছে। গাড়ি কিনতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির অর্ধেক দামের মধ্যে যেটা সর্বোচ্চ হয়। অর্থাৎ একটি গাড়ি কিনতে গ্রাহকরা গাড়ির দামের অর্ধেক টাকা অথবা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার ব্যাংক ভেদে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ। বাড়ি কিনতেও সব ব্যাংকই ঋণ দিচ্ছে। বাড়ি কিনতে ব্যাংকগুলো এখন ১১.৯৫ থেকে ১৫ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে। বাড়ি কিনতে আইএফআইসি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ১১.৯৫ শতাংশ সুদে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ১২ শতাংশ সুদে। প্রাইম ব্যাংক দিচ্ছে ১২.৫ শতাংশ সুদে। এবি ব্যাংক দিচ্ছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে। বাড়ি কিনতে সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাড়ির মোট দামের ৩০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে জোগাড় করতে হবে এবং ব্যাংক দেবে ৭০ শতাংশ অর্থ। মেলায় এসব তথ্য একটি জায়গাতেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দর্শনার্থীরা যেমন ঋণের সুদহার সম্পর্কে জানতে পারছে, তেমনি গ্রাহকদের কোন ধরনের ঋণের চাহিদা বেশি সে সম্পর্কে জানতে পারছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিত্রা চৌধুরী জানান, তাদের স্টলে অনেক দর্শনার্থী এসে ঋণ ও ডিপিএসের সুদ হার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। হিসাব খুলতে যারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাদের দেয়া হচ্ছে হিসাব খোলার ফরম। মেলা থেকে দেয়া এই ফরম পূরণ করে কাছের ব্যাংক শাখায় জমা দিয়ে হিসাব খুলতে পারবেন গ্রাহকরা।

আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রেজাউল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী জানান, মেলায় এসে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণপণ্য সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। ঋণ পাওয়ার জন্য কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে এর খোঁজ নিচ্ছেন। মেলায় এসে সব ব্যাংকের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে বলে উপকৃত হয়েছেন বলে জানান ওই দর্শনার্থী। বেসরকারী মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূরুল আমিন জনকণ্ঠকে বলেন, একটি স্থানে সব ব্যাংকের সব আর্থিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের সুযোগ বাংলাদেশে এই প্রথম। খোলা মাঠে এ ধরনের আয়োজনের ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিংভীতি দূর হবে। এতে ব্যাংকগুলোও একে-অপরের সেবা ও পণ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, সাধারণত অন্য মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্যে ছাড়সহ আকর্ষণীয় অফার দেয়া হয়। তবে ব্যাংকিং পণ্যে বিশেষ ছাড় দেয়ার সুযোগ কম। শুধু নিজেদের পণ্যের বিষয়ে জানানোর সুযোগ থাকে। বৃহস্পতিবার বিকাশের স্টলে গিয়ে কথা হয়, গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক মুক্তা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছয়মাস আগে বিকাশের হিসাব খুলেন। তারপর থেকে নিয়মিত দেশে মায়ের কাছে টাকা পাঠান তিনি। মুক্তা জানান, আগে টাকা পাঠাতে নিজেকে বাড়ি যেতে হত বা কারও মাধ্যমে পাঠাতে হতো। কারখানা থেকে ছুটি পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন বিকাশ থাকায় তাকে আর কাজ ফেলে যেতে হয় না, এখন তিনি নিরাপদে এবং মুহূর্তেই নিজের মোবাইল ফোনে বিকাশ এ্যাকাউন্ট দিয়ে টাকা পাঠাতে পারছেন।

দেলোয়ার, মুক্তার মতো লাখ লাখ মানুষের কাছে নিরাপদ ও সহজে টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে টাকা আদান-প্রদান থাকলেও ধীরে ধীরে বিকাশ তার সেবার পরিধি বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে বিকাশ দিয়ে বেতন প্রদান ও নানা ধরনের ডিজবার্জমেন্ট হচ্ছে। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ২৮ নবেম্বর শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সব দর্শনার্থীর জন্য খোলা থাকবে। মেলার পাশাপাশি প্রতিদিন থাকছে আর্থিক শিক্ষা প্রচারণা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সেমিনার ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।