২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ্যাডিলেডে ঐতিহাসিক দিবারাত্রির টেস্ট শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট ইতিহাসের বইয়ে আরেকটি নতুন অধ্যায় খোলা হয়ে গেছে। কারণ সব মঞ্চ প্রস্তুত, এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা। খেলা শুরুর আগেই রেকর্ড বইয়ে নতুন পাতা খোলার কারণ দিবারাত্রির টেস্ট। আজ থেকে ট্রান্স-তাসমান চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। এটি হবে ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট। এ্যাডিলেড ওভাল, বিশ্ব ক্রিকেটে যাত্রা শুরুরও বছর তিনেক আগে যাত্রা শুরু এ স্টেডিয়ামের। সবমিলিয়ে ৭৩ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। কিন্তু ১৮৮৪ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেটে পদার্পণ করা এ স্টেডিয়াম প্রথমবারের মতো অভিনব এক ইতিহাসে প্রবেশ করতে চলেছে। ১৩৯ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার এ ঐতিহাসিক ভেন্যুতেই আজ শুরু হবে প্রথম দিবরাত্রির টেস্ট ম্যাচ। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সবার দৃষ্টি থাকবে এ ম্যাচের প্রথম বলটি দেখার জন্য। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে ঢুকতে যাচ্ছে গোলাপি রংয়ের বল। এর আগে ঘরোয়া আসরে এবং সম্প্রতিই নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পার্থে প্রস্তুতিমূলক দু’দিনের ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছে এ বলটি। তবে কখনও টেস্ট খেলা হয়নি গোলাপি বলে। তিন টেস্টের সিরিজে ইতোমধ্যেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া বেশ ভাল অবস্থানে। আর ঐতিহাসিক এ ম্যাচে সিরিজ বাঁচানোর লড়াই সফরকারী নিউজিল্যান্ডের জন্য। সেজন্য জিততেই হবে কিউইদের।

গোলাপি রংয়ের বলটি নিয়ে এখনও যথেষ্ট কানাঘুষা ও সমালোচনা চলছে। তবে সবকিছুকে পেছনে ফেলে আজ টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত করতে যাচ্ছে এ্যাডিলেড ওভাল টেস্ট। গোলাপি বল দ্রুতই রং হারিয়ে নরম হয়ে যায়। আর সে কারণে টেস্ট ক্রিকেটে ৮০ ওভার পর নতুন বল নেয়ার যে নিয়ম আছে সেটা এখানে নাও খাটতে পারে। তাছাড়া ব্যাটসম্যানদের সহজে দৃষ্টিগোচর হওয়ার শঙ্কা নিয়েও আছে সমালোচনা। আর কৃত্রিম আলোর নিচে বিভিন্ন সময় দীর্ঘ পরিসরের প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা গেছে পেসাররা দারুণ সহায়তা পেয়েছেন। কারণ গোলাপি বলে নাকি অধিক সুইং আদায় করে নেয়া যায়। আবার অনেকে উল্টোটাও বলে থাকেন। সুইং নাকি কম পাওয়া যায় গোলাপি বলে। সমালোচনা কিংবা বিতর্ক যাই থাকুক, এ্যাডিলেড ওভাল যেমন প্রস্তুত তেমনি উভয় দলের ক্রিকেটাররাও এখন ইতিহাসের পাতায় ঢোকার জন্য মুখিয়ে আছেন। পার্থে চারদিন আগেই দু’দিনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছে কিউই ক্রিকেটাররা। দিবারাত্রির এই ম্যাচ খেলে নিজেদের আরেকটু ভালভাবে ঝালিয়ে নিয়ে মানিয়ে নেয়ার অনুশীলনটা করে ফেলেছে তারা। এবার লড়াইয়ে নামার অপেক্ষা। নিউজিল্যান্ডের জন্য আরও বড় লড়াই হার ঠেকানোর। প্রথম টেস্টে হেরে যায় বেশ বাজেভাবেই। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছিল কিউই শিবির। কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখে অসিরা। সে কারণে ড্র হয়েছে। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। এবার তাই সিরিজ বাঁচানোর লড়াই তাদের। আগের টেস্ট খেলা স্কোয়াড নিয়েই নামবে তারা।

দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পেসারদের আদর্শ সময় হতে পারে রাতটা এবং গোলাপি বল। টি২০-ওয়ানডের দাপটে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ঐতিহ্যের টেস্ট। কমে যাচ্ছে দর্শক। এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। মূলত মাঠে দর্শক টানতেই ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বলে এ আয়োজন। যাতে কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে কিছুটা রিল্যাক্স করার সুযোগ পান মানুষ। ক্রিকেটপ্রেমীরা মাঠে বসে যেন দেখতে পারেন নিজ নিজ দলের ক্রিকেটারদের নৈপুণ্য। এ কারণে অনেকদিন ধরেই প্রস্তাবিত দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে ছিলেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাই। আর অনেকে নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরে এর বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। সেসব বিতর্ক ছাপিয়েই শুরু হবে প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট। আর মাঠে গড়ানোর পরই বোঝা যাবে কতটা যৌক্তিক এই দিবারাত্রির টেস্ট ক্রিকেট। সকল বিতর্ক ছাপিয়ে গোলাপি বল টেস্টের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এমন দাবিই করেছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কুকাবুরা। গত পাঁচ বছর ধরে এটাকে তারা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে সফলভাবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। আর এ্যাডিলেডের উইকেটে বেশ ঘাস রাখা হয়েছে যাতে করে দ্রুতই নরম হয়ে যাওয়া রোধ করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে পেসাররা যেমন সুবিধা পাবেন পরের দিকে স্পিনাররাও বাড়তি সুবিধা আদায় করতে পারবেন।

আর পুরনো বলে রিভার্স সুইংও হবে। তাই ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ বড় পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে দিবারাত্রির এ টেস্টে। সিরিজে এগিয়ে থাকায় অসিরা বেশ উজ্জীবিত এবং আত্মবিশ্বাসী। দিবারাত্রির এ টেস্ট ম্যাচ ড্র করলেই সিরিজ স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্বাগতিকদের। এরপরও একাদশে একটি পরিবর্তন আনতে পারে তারা। পেসার মিচেল জনসনের অবসর এবং উসমান খাজার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিই এর কারণ। সেক্ষেত্রে অধিনায়ক স্মিথ তিন নম্বরে এবং খাজার পরিবর্তে শন মার্শ একাদশে ঢুকে চারে খেলতে পারেন। জনসনের জায়গায় পিটার সিডল ফিরতে পারেন। গোলাপি বলে দারুণ সফল পেসার স্টিভ ও’কিফে। শেফিল্ড শিল্ডে মাত্র ১৮.২২ গড়ে তিনি ১৮ উইকেট শিকার করেছেন। কিন্তু শেফিল্ড শিল্ডে ম্যাচ খেলার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে ছেড়ে দিয়েছে।