১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়ায় বালু উত্তোলন ॥ গ্রামজুড়ে ভাঙ্গন আতঙ্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২৬ নবেম্বর ॥ ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে দেবপুর গ্রামের অর্ধেকটা। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে দুই দফা করা বেড়িবাঁধ। ওই ভাঙ্গনকবলিত রামনাবাদ ও আগুনমুখা নদী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ সিএফটি বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। অর্ধশতাধিক বলগেট (বাল্কহেড) লাগিয়ে ১৮টি ড্রেজার মেশিনে বালু কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত গোটা এলাকা নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা করছেন দেবপুর গ্রামসহ সেখানকার আশপাশের শত শত পরিবার। শঙ্কিত লোকজন বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহকাল দিনরাত বালু উত্তোলন করায় নদীপাড়ের মানুষ শঙ্কায় পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৪ নম্বর পোল্ডারের দেবপুর এলাকার কৃষক শ্রেণীর এসব পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এলাকার লোকজনের অভিযোগ পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত নির্দিষ্ট এলাকা বাদ দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ১১ নবেম্বর এক চিঠিতে লতার চরের দক্ষিণে কাঁকড়ার চরের নৌপথে এবং একই চরের পশ্চিমে পটুয়াখালী নৌপথে রামনাবাদ চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, ডিজেল প্লান্ট লিমিটেডের সাব-কন্ট্রাক্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন দেবপুরের ভাঙ্গনকবলিত নদী থেকে বালু কাটছে। এমনিতেই এ বছর দেবপুর গ্রামবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিলীন হওয়া বাঁধ ঘেঁষে নিজেদের অর্থায়নে আমন ফসল রক্ষায় রিং বেড়িবাঁধ দেয়। কিন্তু তাও বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, ১৮টি ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে। পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ তাপবিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প এলাকা ভরাটের জন্য রামনাবাদ নদীর চরলতার দক্ষিণ দিক থেকে বালু তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তা মানছেন না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডিজেল প্লান্ট লিমিটেড। বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট লিমিটেডের প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, সব ধরনের নির্দেশনা মেনে এবং সবকিছু যাচাইবাছাই করেই সঠিক জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোন ধরনের শঙ্কা নেই। তার উল্টো দাবি গ্রামের লোকজনকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে বালুঘাটে চাঁদাবাজি নিয়ে উত্তেজনা

নিজস্ব সংবাদদাতা টাঙ্গাইল থেকে জানান, যমুনা নদীর তীরে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী থেকে পাথাইলকান্দি পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছে ২৪টি বালু ঘাট। এসব বালু ঘাট থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন শ’ ট্রাক বালু সরবরাহ করা হয়। আর এ বালু ঘাটকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা গড়ে তুলেছে কনসোডিয়াম। কনসোডিয়ামের নামে প্রতি ট্রাক বালু থেকে আদায় করা হচ্ছে ৪০০ টাকা। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে এ টাকা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন দফতরে। বর্তমানে কনসোডিয়ামের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বালু ঘাটগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। যে কোন সময় ঘটতে পারে সংঘর্ষ।

একটি সূত্র জানায়, অক্টোবরের ১৫ তারিখ থেকে এ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এক মাসে বালু সরবরাহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ ট্রাক। আর এসব ট্রাক থেকে ৪০০ টাকা হারে কনসোডিয়ামের নামে চাঁদা আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এ টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েই মূলত দেখা দিয়েছে কোন্দল। বালু ঘাট এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। এদিকে বালু ঘাটে নিজেদের অংশ বুঝে পাওয়ার লক্ষ্যে গত শুক্রবার সকালে মাটিকাটা এলাকায় জড়ো হয় প্রায় এক শ’ মুক্তিযোদ্ধা। তারা রাস্তা অবরোধ করে বালু পরিবহন বন্ধ করে দেয়। ওই সময় বালু ঘাট মালিকদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিত-াও হয়। বালু ঘাটের বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, বালু ঘাট থেকে কনসোডিয়ামের নামে এসব চাঁদাবাজি বন্ধ করা দরকার। কনসোডিয়ামের নামে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম সংগঠিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।