২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

  • মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য খণ্ডন করে চিঠি প্রেরণ;###;যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে জাতিসংঘের বক্তব্য বিষয়ে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মানদণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের বিচারের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য খ-ন করে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার রাভিনা শামদাসানি এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মানদ- বজায় রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- পুরোপুরি বাতিল করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারের বক্তব্য বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে হাইকমিশনারের ভুল ধারণা রয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী ও গণহত্যার বিচারে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইবুন্যালের বিচার প্রক্রিয়ায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এই দু’জনের বিচার প্রক্রিয়া সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের বেঞ্চে শুনানি হয়। সেখানে রিভিউ পিটিশনে এই দুই নেতার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে চলছে। এখানে প্রতিটি ব্যক্তির অপরাধের বিচার হচ্ছে পৃথকভাবে। কোন রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ে তাদের বিচার হচ্ছে না। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। এই দুই নেতার বিরোধী রাজনৈতিক দলের পরিচয় থাকলেও তাদের বিচার প্রক্রিয়া কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে হয়নি। এই দুই নেতার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল পলিটিক্যাল রাইটসের (আইসিসিপিআর) শর্তের প্রতি বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। আইসিসিপিআরের শর্ত মেনেই ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মানের বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। আইসিসিপিআরের আর্টিকেল-১৪ যেন কোনভাবেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখেই ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইন প্রণয়ন করে বাংলাদেশ।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির পরদিন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এক বিবৃতিতে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের দেয়া রায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চারজনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই আদালত ১৭টি রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ রায় দেয় হয়।

ওই বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশের অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা সতর্ক করছি যে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে না কোন মৃত্যুদ- কার্যকর করা। বিভিন্ন সময় একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তারা ফাঁসি বন্ধ রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, সুষ্ঠু বিচারের আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রাখা হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল পলিটিক্যাল রাইটসের (আইসিসিপিআর) শর্ত অনুযায়ী ওই বিচার করা হয়নি। এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা একটি দেশ বাংলাদেশ। যেকোন পরিস্থিতিতে, এমনকি সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদ-েরে বিরোধী জাতিসংঘ।

এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের এই দুই নেতার ফাঁসি কার্যকরের পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, যেকোন অবস্থায় মৃত্যুদ-ের বিরোধী মহাসচিব মুন। যেসব দেশে এখনও মৃত্যুদ- বহাল আছে তাদের এ শাস্তি লঘু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘে মানবাধিকার হাইকমিশনের নিকট এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে চিঠি দিয়েছে সরকার।