২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বদলাচ্ছে সৌদি সমাজ নতুন প্রজন্মের পদচারণায়

  • সত্তর ভাগ নাগরিকের বয়স ৩০ বছরের নিচে;###;এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই ক্রাউন প্রিন্স সালমান আর নায়েফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাদশা সালমানের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে কট্টর ইসালামিক চেতনায় বিশ্বাসীদের আরব ভূমি সৌদি আরব। দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তির যে জাগরণ সৃষ্টি হচ্ছে তাতে নতুন এক সৌদি আরবের সৃষ্টি হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জোবায়েরের ভাষায়, ‘এটি আমাদের পিতামহের সৌদি আরব নয়, এটি আবার পিতার সৌদি আরবও নয়। এমনকি এটি আমার প্রজন্মেরও সৌদি আরব নয়।’ আসলে এটি নতুন প্রজন্মের সৌদি আরব তা দেশটিতে পা দিয়েই বুঝতে পেরেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট থমাস এল ফ্রেইডম্যান। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন, নীরব পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে সৌদি সমাজে।

ফলে দেশটির কট্টরপন্থীরা এখন তাদের ভবিষ্যত পরিচিতি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এর কারণ হচ্ছে এখন অধিকাংশ সৌদি নাগরিকের বয়স ৩০ বছরের বেশি। এদের একটি বড় অংশই এখন বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। এটি হচ্ছে, এক দশক আগে বাদশা আবদুল্লাহর একটি মহৎ পদক্ষেপের ফল। বাদশা এক দশক আগে একটি কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন, যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে ইচ্ছুক তাদের সমস্ত খরচ বহন করবে সরকার। সেই কর্মসূচীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন দুই লাখেরও বেশি সৌদি তরুণ-তরুণী বিদেশে পড়াশোনা করছে। এরমধ্যে এক লাখই পড়ছে আমেরিকায়। এদের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করে বিদেশী ডিগ্রী নিয়ে প্রতিবছর দেশে ফিরছে ৩০ হাজার। তারা এখন দেশটির শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। এ ক্ষেত্রে নারীরাও পিছিয়ে নেই। এখন প্রতিটি অফিসেই দেখা যায়, নারীদের পদচারণা। এক সময় যা দেশটিতে নিষিদ্ধ ছিল। এখন মায়েরা তাদের কন্যাদের ভাল স্কুলে ভর্তি কিংবা ভাল চাকরিতে নিয়োগের জন্য তদবির করছে।

কিং সালমান ইয়থ সেন্টারের আমন্ত্রণে সম্প্রতি সৌদি আরব গিয়েছিলেন নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট থমাস এল ফ্রেইডম্যান। যেখানে নিউইয়র্কের খান একাডেমির নানা ভিডিও আরবীতে ডাবিং করে দেখানো হচ্ছে। তিনি ওই সেন্টারে তরুণ সমাজের উদ্দেশে একটি বক্তৃতা দেন। তার ওই বক্তৃতা শোনার জন্য কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল ইয়থ সেন্টারের হলরুমটি। যেখানে পাচ শতাধিক সৌদি তরুণ-তরুণী উপস্থিত হয়েছিল। যার অর্ধেক ছিল প্রচলিত কালো বোরখা পরিহিত তরুণী। বক্তৃতার পর সৌদি নতুন প্রজন্মের প্রশ্নবানে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাদের প্রশ্নের ধরন দেখেই তিনি বুঝতে পারছেন, সৌদি আরব একবিংশ শতাব্দীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

থমাস এল ফ্রেইডম্যান আরও আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন, সৌদি তরুণদের তথ্য প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখে। টুইটার এবং ইউটিউব সৌদি সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলছে। তরুণ সৌদিরা এখন টুইটারে দিনের কাজ-কর্ম নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে। প্রতি মাসে পাঁচ কোটিও বেশি টুইট বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। ফলে সৌদিরা এখন আরও একে অপরের কাছাকাছি আসছে।

এতদিন এই উদ্যমী তরুণেরা নেতৃত্ব শূন্যতায় ছিল। নতুন বাদশার পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান এসে সেই শূন্যস্থান পূরণ করছেন। ত্রিশ বছর বয়সী ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স অপর উদার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবের নতুন রূপান্তরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি সরকারের প্রতিটি কার্যক্রম অনলাইনে প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন, যা সরকারের স্বচ্ছতা প্রকাশের একটি উদ্যোগ। এছাড়া মুখ্য পারফরমেন্স নির্দেশিকা প্রকাশের মাধ্যমে মন্ত্রীদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রধান সমস্যা হলো তেলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা। তাই মোহাম্মদ বিন সালমান পরিকল্পনা করছেন, সম্পদশালী সৌদিদের দেয়া রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি কমিয়ে দেয়ার। তারা আর সস্তায় তেল, বিদ্যুত ও পানি পাবে না। সিগারেট ও পানীয়র ওপর ভ্যাট আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যারা সরকারী চাকরি ছেড়ে বেসরকারী চাকরিতে যোগ দেবে তাদের জন্য ইনসেনটিভ দেয়া হবে। এতে যে আয় ও অর্থের সাশ্রয় হবে তাতে তেলের দাম ৩০ ডলারের নিচে নেমে গেলেও সৌদি আরব আর আর্থিক সঙ্কটে পড়বে না।

সত্তর ভাগ সৌদি নাগরিকের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের চিন্তাধারা বাকি ৩০ ভাগর চেয়ে ভিন্ন। ফলে সত্তর ভাগের জন্য নতুন সৌদি আরব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি দেখেছেন আরব বসন্ত। তিনি মনে করেন, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই সৌদি আরব সে যাত্রায় বেচে গেছে। তাই নতুন সৌদি আরবে জনগণের চিন্তা চেতনাই প্রাধান্য পাবে বলে থমাস এল ফ্রেইডম্যানকে জানিয়েছেন মোহাম্মদ।