২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ ’২৪ সালেই এলডিসি থেকে বেরোতে পারবে

  • মূল্যায়ন জাতিসংঘের ॥ সিপিডির মতে, এসডিজি অর্জনে কৃষি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ২০২৪ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবে বলে জাতিসংঘের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকের মধ্যে কমপক্ষে দুটিতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। বৃহস্পতিবার বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ওই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সদ্য প্রকাশিত বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (আঙ্কটাড) ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে বের হতে হলে বাংলাদেশকে ন্যূনতম আরেকটি সূচকের মানদ- পূরণ করতে হবে। তা না হলে ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ। এরপর ছয় বছর পর্যবেক্ষণে থেকে ২০২৪ সালে তা কার্যকর হবে।

সিপিডির মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তিন সূচকের মধ্যে মানবসম্পদ সূচকেও বাংলাদেশ লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ফলে এ লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে দেশ। যদিও সেটি কার্যকর হবে ২০২৪ সাল থেকে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হবে কিনাÑ সাংবাাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসেবে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ হতে হলে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় আগামী ছয় বছরের মধ্যে চারগুণ বাড়াতে হবে। কোন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ছাড়া এটি সম্ভব নয়, বাস্তবভিত্তিকও নয়। আর সেটি না হলে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ হিসেবেই থাকবে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ৪৮ স্বল্পোন্নত দেশ বিশ্বের ১৬ শতাংশ জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ বৈশ্বিক আয়ের ভেতরে এগুলোর অংশগ্রহণ মাত্র ৩ শতাংশের মতো, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভেতরে আয় ১ শতাংশের কাছাকাছি, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে ২ শতাংশ নিচে এবং সেবা ও রফতানির ক্ষেত্রে আধা শতাংশের কাছাকাছি। তবে প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটান ইতোমধ্যেই এলডিসি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি শর্ত পূরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এজন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো এবং ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারে নজর দিতে হবে। কৃষিতে এখন শ্রম উৎপাদনে ২০ নম্বরের দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ; আর ভূমি ও শ্রমের অনুপাতে ৪৮তম। তাই রূপকল্প ২১ বাস্তবায়নে গ্রামীণ অর্থনীতির দিকে যতœশীল হতে হবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ এর মধ্যেই ইভিআই শর্ত পূরণ করেছে এবং মানবসম্পদ সূচকের শর্ত অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে। মাথাপিছু আয় দেখানো হয়েছে ৯২৬ ডলার, যা ১ হাজার ২৪২ ডলারের প্রয়োজনীয় আয় সূচকের অনেক নিচে রয়েছে। জাতিসংঘের ত্রিবার্ষিক এ প্রতিবেদনে আগের তিন বছরের মাথাপিছু আয় গড় করে দেখানো হয়। সে হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১ হাজার ১০০ ডলার হলেও আগের তিন বছরের গড় হিসাবে মাথাপিছু আয় ৯২৬ ডলার দেখানো হয়েছে।

২০১৮ সালে পরবর্তী প্রতিবেদনে ২০১৫, ২০১৬, ও ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হবে। অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, এ প্রতিবেদনে আমরা এর মধ্যেই একটি শর্ত পূরণ করেছি। মানবসম্পদ সূচকের শর্তও ২০১৮ সালের মধ্যে সহজেই পূরণ হবে। কোন দেশ পর পর দুটি প্রতিবেদনের মূল্যায়নে তিন শর্তের মধ্যে অন্তত দুটি পূরণ করলেই স্বাভাবিকভাবে এলডিসির মর্যাদা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। দেবপ্রিয় ছাড়াও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও ড. ফাহমিদা।

নির্বাচিত সংবাদ