১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ বেদনার হলেও অস্বীকার করা যাবে না, প্রতিনিয়ত প্রমাণিত হচ্ছে ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে পচা শহরগুলোর একটি। এখানে জীবন দুর্বিষহ। নাগরিক সুবিধা কথার কথা। কোন সিস্টেম কার্যকর নেই। আইন আদালত ডাব্বা মারছে প্রতিদিন। অসংখ্য উদাহরণ আছে। সেদিকে না গিয়ে আজ শুধু সিএনজি চালিত অটোরিক্সার কথাটি বলা যাক। প্রায় দেড় যুগ ধরে ঢাকায় চলছে এই বাহন। অথচ কী আশ্চর্য, কোন সিস্টেমে আসেনি। যেখানে যাত্রী যেতে চান, তাঁকে নিয়ে যেতে হবে। মিটার দেখে নির্ধারিত হবে ভাড়া। সিএনজি অটো রিক্সা রাস্তায় নামার এই ছিল পূর্বশর্ত। অথচ যা হবার তাই হলো। কীসের মিটার? কিসের যাত্রীর ইচ্ছায় যাত্রা? সবই চালকের মর্জি! যাত্রীর ভোগান্তি এভাবে চরমে পৌঁছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলারও রুচি হারিয়ে ফেলেন অনেক যাত্রী। এ অবস্থায় কেন আবার সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে আলোচনা? কারণ, অতি সম্প্রতি এই যানটিকে ‘মানুষ’ বানানো গেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। আসলে কী তাই? খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল, অটোরিক্সা ‘মানুষ’ হয়নি। বরং সব দেখে মানুষ ‘গাধা’ বনে যাচ্ছে! প্রায় দুই যুগ সময় চেষ্টা করে এই যানটিকে সিস্টেমে আনা সম্ভব হয়নি। অতি সম্প্রতি এর ভাড়া চালক আর মালিকদের খুশি হওয়ার মতো করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিনিময়ে সেই পুরনো আইনটি মানতে হবে। মানতে হবেই। যাত্রী হাত তুলে ইশারা করা মাত্রই থামতে হবে সিএনজিকে। যাত্রী যেখানে যেতে চান, পৌঁছে দিতে হবে বিনা কথায়। আর ভাড়া নিয়ে কোন খচ খচ হবে না। ওটা নির্ধারণ করবে মিটার। কয়েকদিন এসব আইন মানতে দেখাও গেছে। তবে, সহসাই বদলে যাবে সব। এরই মাঝে সে আলামত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বর্তমানে সিএনজি যেদিকে যাবে সেদিকে যেতে চাইলে ঠিক আছে। যাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী কোথায় যেতে চান, সেটা নিয়ে চালকের কোন মাথাব্যথা নেই।

বৃহস্পতিবার ফার্মগেট এলাকায় প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে ৬টি অটোরিক্সা চালকের সঙ্গে কথা হলো। একজনও সেগুন বাগিচা যেতে রাজি হলেন না। এর আগের দিন বুধবার বহু চেষ্টার পর ধানম-ি রবীন্দ্র সরোবর এলাকা থেকে ইস্কাটনে আসা সম্ভব হয়। ভাড়া নিয়েও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেছে। মিটার কাজ করছে বটে। ওদিকে তাকিয়েই ভাড়া। তবে টাকা দেয়ার সময় চালক হাতটা পেতে দিচ্ছেন আবার। বলছেন, দশ বিশ টেকা বেশি না দিলে চলে? উদাহরণ ভূরি ভূরি আছে। তবু দুটি সিএনজি অটো রিক্সার নাম্বার এখানে উল্লেক করা যেতে পারে। একটি ঢাকা মেট্রো থ-১৩-৩৫৬৬। অপরটি ঢাকা মেট্রো-থ-১২-৮২০৪। প্রথমটি শাহবাগ থেকে পোস্তগোলা যেতে মিটার মানল না। ভাড়া হাঁকাল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়টি মিটার অনুসরণ করলেও, নিউ মার্কেট থেকে মিরপুর ১০ নম্বর যেতে বাড়তি ২০টাকা দাবি করল। এভাবেই চলছে। পুলিশে অভিযোগের ব্যবস্থা আছে। কে সেই ফোন রিসিভ করবে? ফোন করে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ শোনার। সিএনজির পাশে দাঁড়িয়ে ডিউটি করা পুলিশ সদস্য অভিযোগ শুনে ফিক করে হেসে ফেলছেন। তারও উপরে যারা, তাঁদের তো সিএনজি অটোরিক্সায় চলার দরকারই হয় না। সুতরাং, গোল্লায় যাক। এখনও অবশ্য পুরোপুরি গোল্লায় যায়নি। পুরানা পল্টনে আলী আশরাফ নামের এক যাত্রী বললেন, অনেক সিএনজি মোটামুটি আইন মানছে। কর্তৃপক্ষ সত্যি সত্যি চাইলে আর একটু নজড় দিলে, বাহনটি সিস্টেমে আসবে। আর প্রতিদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবেন সাধারণ যাত্রী। একই এলাকার আরেক যাত্রী প্রথমে মন্তব্য করতেই রাজি হলেন না। পরে বললেন, আর রুচি হয় না। একটা দেশের সক্ষমতা নিয়েই তো প্রশ্ন জাগে। তা না হলে কেন সিএনজির মতো একটি যানকে আইন মানাতে বাধ্য করা যাবে না?

নগরবাসীর দুর্ভোগের আরও হাজারটা গল্প আছে। করা যাবে। তবে, ভাল দুটি খবর জানিয়ে দেয়া দরকার। বৃহস্পতিবার থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে রাধারমণ উৎসব। সুনামগঞ্জের এই মরমী কবি ও সাধকের গান বাংলা সঙ্গীতের ভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছে। লোকগানে তিনি যে দর্শন প্রচার করেন তা আজকের আধুনিক সময়েও মানুষকে ভাবায়। জীবনের গভীরতর বোধগুলোকে নাড়া দিয়ে যায়। উৎসবে সুনামগঞ্জের এক ঝাঁক শিল্পী গানে গানে তুলে ধরছেন রাধারমণকে। তিন দিনব্যাপী উৎসব কাল শনিবার শেষ হবে। এ সময়ের মধ্যে একবার ঘুরে আসতে পারেন উৎসবস্থল। বিকেলে শুরু হয়ে চলছে রাত পর্যন্ত।

এদিকে, আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব বাংলাদেশ। পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজন। এবারও আর্মি স্টেডিয়ামে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে উৎসব। চলবে পরদিন ভোর সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত। এ উৎসবের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। এখন সবাই জানেন। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী প-িত এবং ওস্তাদরা এতে যোগ দেবেন। পরিবেশন করবেন কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীত। থাকবে ক্ল্যাসিকাল নৃত্যের অনবদ্য পরিবেশনা। আজ শুক্রবার উদ্বোধনী দিন পল্লবী ডান্স সেন্টারের শিল্পীরা পরিবেশন করবে ভরতনাট্যম। বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করবে তবলা কীর্তন। থাকবে জয়াপ্রদা রামমূর্তির কর্ণাটকি বাঁশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধ্রুপদ পরিবেশনা। বিশেষ পরিবেশনা রাহুল শর্মার সন্তুর। আর কৌশিকী চক্রবর্তী তো না শুনলেই নয়! জনপ্রিয় শিল্পীর খেয়াল, প-িত কুশল দাসের সেতার এবং বিদুষী বম্বে জয়শ্রীর কর্ণাটকি সঙ্গীতে শেষ হবে প্রথম দিনের আয়োজন। পরবর্তী দিনগুলোতে থাকবে প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া, ওস্তাদ জাকির হোসেনের মতো কিংবদন্তিদের পরিবেশনা। সব মিলিয়ে আবারও জমে উঠবে আর্মি স্টেডিয়াম। অনন্যসাধারণ উৎসবের সাফল্য কামনা করেন নগরবাসী।