১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • যবিপ্রবির দ্বিতীয় সমাবর্তন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, এখন পৃথিবীতে ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ কথাটা কল্পনা নয়, অতি নির্মম এবং সত্যও বটে। তাই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের বিশ্বমানের কারিক্যুলাম ও পাঠ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি ও যবিপ্রবি আচার্য আবদুল হামিদ আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন ও সঞ্চারণের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতায় পরিপূর্ণ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। একইভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা; শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে এবং তাদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করা।

তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবী আজ দ্রুত পরিবর্তনশীল, তীব্র এর ছুটে চলার গতি। প্রবল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও অগ্রসরমান এই বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্রীড়া শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে সর্বপ্রথম ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোর্স চালু করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রো-প্রোডাক্ট প্রসেসিং, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যুগোপযোগী অনেকগুলো বিষয় আছে যা আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ বিনির্মাণে অত্যন্ত সহায়ক হবে। যবিপ্রবি নবীন হলেও উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে জেনে তিনি খুশি হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও জনবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ আজ মধ্যআয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুত, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অর্জন আজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত। আমাদের লক্ষ্য এখন জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। তিনি বিশ্বাস করেন, উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হতে পারবে।

যবিপ্রবির এই দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতকের ৫৪০ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৬৪ জনসহ মোট ৬০৪ জনকে সনদ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে অনুষদের প্রথম স্থান অধিকারী ৫ জনকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী ৫ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক ও সিজিপিএ ৪ পয়েন্টের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ প্রাপ্ত পয়েন্টের বেশি ৬ জনকে ডীন পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস ড. একে আজাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার।