২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার জেএমবি নেতা পালিয়ে জঙ্গী সংগঠনে ব্যস্ত

  • এরা দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও আমিরাতে আত্মগোপনে রয়েছে বলে তথ্য গোয়েন্দাদের

শংকর কুমার দে ॥ পুরস্কার ঘোষিত ফাঁসির মৃত্যুদ- সাজাপ্রাপ্ত জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গী নেতা এখন কোথায়? দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে পলাতক তারা। মৃত্যুদ- সাজা হওয়ার পর তাদের আর কোন হদিস মিলছে না। বিদেশে পালিয়ে গেছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। পালিয়ে বেড়ানো অবস্থায়ই জঙ্গীদের সংগঠিত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মৃত্যুদ-াদেশপ্রাপ্ত পলাতক জেএমবির শীর্ষস্থানীয় জঙ্গীরা হচ্ছেন- বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই। শীর্ষস্থানীয় জেএমবির এই চার জঙ্গীই এক সময়ে দেশের ভেতরের জঙ্গীদের সংগঠিত করে বিভিন্ন জঙ্গী হামলা পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে দেশের ৬৩ জেলায় বোমা হামলা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বিভিন্ন আদালতে বোমা হামলা করে বিচারক হত্যা ও পুলিশ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন বোমা ও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম জেএমবির এই চার জঙ্গী নেতা। কিন্তু রমনা বটমূলের মামলায় তাদের এক বছর আগে মৃত্যুদ- সাজা দেয়া হয়। তারপর থেকেই তাদের আর কোন হদিস করতে পারছে না গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবির শীর্ষস্থানীয় এই চার জঙ্গীর অনুপস্থিতিতেই বিচার হয় আদালতে। সাজা দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। দেশের বিভিন্ন নাশকতা ও জঙ্গী হামলার ঘটনায় এই চার জঙ্গী নেতা জড়িত থাকলেও তাদের সাজা হয় রমনা বটমূলের বোমা হামলার মামলায়। আদালতের রায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার পর গত এক বছরেও হদিস মিলছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ৪ জঙ্গীকে ধরিয়ে দিতে পারলে প্রত্যেকে জঙ্গীর মাথার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ২০১৪ সালের ২৩ জুন ৮ জনকে ফাঁসি ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় নিম্ন আদালত। রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত পলাতক ৪ আসামি গ্রেফতার হয়নি আজও। রায় ঘোষণার সময় এই ৪ জঙ্গী আদালতে ছিল অনুপস্থিত।

ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত ৫ আসামির মধ্যে মওলানা আবু বকর নামে একজনকে গত ৫ নবেম্বর ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বাকি ৪ ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি এখনও অধরা। পলাতক এই শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গী নেতাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রত্যেক আসামিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫০ হাজার টাকা। আদালতের মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক ৪ আসামিকে খুঁজছে র‌্যাব। পলাতকদের আত্মীয়স্বজনদের ওপর মনিটর করা হচ্ছে বলে জানায় গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তার ভাই সে সময়ের উপমন্ত্রী। মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ সম্ভবত এখন আত্মগোপন করে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা পাকিস্তানে। পলাতক অপর মৃত্যুদ-দেশপ্রাপ্ত আসামি হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর আত্মগোপন করে থাকতে পারেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। দুবাইয়ের আজমানের এমারত গ্যাস ফ্যাক্টরির পাশে একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। মুফতি আবদুল হাই আত্মগোপন করে থাকতে পারেন দেশের ভেতরেই। র‌্যাব সূত্র জানতে পেরেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মুফতি শফিকুর রহমানকে সর্বশেষ দেখা গেছে পাকিস্তানের করাচীতে।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনার দিনই নীলক্ষেত বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় শীর্ষস্থানীয় জেএমবির জঙ্গীদের বিচারে মৃত্যুদ- সাজা হলেও অপর একটি মামলার যেটা বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত সেটা এখনও বিচারাধীন। এ মামলায় জঙ্গী নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এই ১৪ জন বোমা হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ঘটনাস্থলে নিহত হন আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, মামুন হোসেন ও তার চাচাত ভাই রিয়াজুল ইসলাম ও বোন জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা যান।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, জেএমবির পলাতক শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গী নেতার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দেশের ভেতরে যারা আছে তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আর যারা বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদেরকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পলাতক জঙ্গীদের পরিবারসহ স্বজনদের নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।