২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুরু হচ্ছে আজ সন্ধ্যায়

  • ৫ রাতের সুরমূর্ছনায় ভাসবে আর্মি স্টেডিয়াম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ শুক্রবার থেকে আবার রাজধানীতে ভেসে বেড়াবে উচ্চমার্গীয় সঙ্গীতের মূর্ছনা। সন্ধ্যা থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বেঙ্গল পঞ্চরজনীর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব। চতুর্থবারের মতো উৎসবে সঙ্গীতপ্রেমীরা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শুনতে পাবেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি ও প্রথিতযশা শিল্পীদের অনবদ্য সব পরিবেশনা। কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতের সুর মূর্ছনায় ভাসাবেন ওস্তাদ, প-িত, গুরু ও বিদুষীরা। থাকছে শাস্ত্রীয় নৃত্যের অনবদ্য পরিবেশনা। তাদের সঙ্গে থাকবে এদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পীদের পরিবেশনা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও স্কয়ার নিবেদিত এবারের আসরটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীকে। গত বছরের উৎসবে এই মঞ্চ থেকেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী এই বরেণ্য চিত্রকর। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসর শুরু হবে আজ সন্ধ্যা সাতটায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চীফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আজ উৎসবের প্রথম রাতের আয়োজনে থাকছে পল্লবী ডান্স সেন্টারের ভরতনাট্যম, বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীদের তবলা কীর্তন, জয়াপ্রদা রামমূর্তির কর্ণাটকী বাঁশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধ্রুপদ পরিবেশনা, রাহুল শর্মার সন্তুর, কৌশিকী চক্রবর্তীর খেয়াল, পন্ডিত কুশল দাসের সেতার এবং বিদুষী বম্বে জয়শ্রীর কর্ণাটকী সঙ্গীত।

শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়। শুরুতেই ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের অভিজিৎ কুন্ডু। উৎসবে নতুন সংযোজন সরস্বতী বীণা বাজাবেন জয়ন্তী কুমারেশ। খেয়াল গাইবেন সুস্মিতা দেবনাথ। খেয়ালের পর ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন প-িত উদয় ভাওয়ালকর। একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন পন্ডিত সুরেশ তালওয়াবকর। এবারেই প্রথমবারের মতো উৎসবে এসেছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকী কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের প্রবীণতম শিল্পী। তার সঙ্গে বাঁশিতে যুগলবন্দী হবেন পন্ডিত রণু মজুমদার। এস্রাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার। উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের উৎসবে টানা চতুর্থবার এসেছেন পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তার খেয়াল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন।

রবিবার উৎসবের তৃতীয় দিনের অধিবেশন শুরু যথারীতি সন্ধ্যা সাতটায়। অনুষ্ঠানের সূচনাতেই পরিবেশিত হবে দেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তার দলের অংশগ্রহণে মণিপুরী নাচ। সন্ধ্যায় থাকবে ধ্রুপদ পরিবেশনা। পরিবেশন করবেন ওস্তাদ ওয়াসিফ ডাগর। সরোদ বাজিয়ে শোনাবেন ইউসুফ খান। ভারতের ‘সিংগিং ভায়োলিন’খ্যাত এন রাজমের নেতৃত্বে কর্ণাটকী ধারার তিন প্রজন্মের তিন শিল্পী সুর তুলবেন বেহালায়। খেয়াল পরিবেশন করবেন বিদূষী শ্রুতি সাদোলিকর। তৃতীয় রজনীর অন্যতম আকর্ষণ গুরু কড়াইকুডি মানি। পরিবেশন করবেন মৃদঙ্গ। সবশেষে মঞ্চে আসবেন বিদূষী শোভা মুডগাল। তিনি পরিবেশন করবেন খেয়াল।

চতুর্থ দিন সোমবার শুরুতেই উৎসব মঞ্চে আসবেন বিশিষ্ট দম্পতি গুরু রাজা ও রাধা রেড্ডি। পরিবেশন করবেন কুচিপুডি নৃত্য। এরপর কর্ণাটকী বেহালা বাজাবেন গণেশ ও কুমারেশ রাজাগোপালন। সন্তুর পরিবেশন করবেন পন্ডিত শিব কুমার শর্মা। সরোদ বাজাবেন পন্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার। খেয়াল পরিবেশন করবেন পন্ডিত উলহাস কুশলকর। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে ওস্তাদ জাকির হোসেনের একক তবলা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।

মঙ্গলবার পঞ্চম ও সমাপনী দিনের অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায় অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সিলেটের আট শিল্পীর অংশগ্রহণে ধামার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর ভরতনাট্যম পরিবেশন করবেন বিদুষী আলারমেল ভালি। ইরশাদ খান পরিবেশন করবেন সুরবাহার। খেয়াল গাইবেন সামিহান কুশলকর। বিলায়েৎ খাঁর পুত্র ওস্তাদ সুজাত খান পরিবেশন করবেন সেতার। খেয়াল পরিবেশন করবেন উৎসবের আরেক অন্যতম আকর্ষণ ওস্তাদ রশিদ খান। এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি। তার বাঁশির সুরে শেষ হবে চতুর্থবারের উৎসব।

প্রসঙ্গত, উৎসবে যারা সঙ্গীত উপভোগ করতে আসবেন তারা কোন ধরনের ব্যাগ সঙ্গে আনতে পারবেন না। থাকছে না উৎসবস্থলে নিবন্ধনের সুযোগ। এছাড়া প্রতিদিন রাত একটার পর থেকে নতুন করে কোন শ্রোতা ঢুকতে পারবেন না উৎসব প্রাঙ্গণে।