২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্পকলা আঙ্গিনায় তিন দিনের রাধারমণ উৎসব

শিল্পকলা আঙ্গিনায় তিন দিনের রাধারমণ উৎসব
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলা লোকসঙ্গীতের প্রাণপুরুষ রাধারমণ দত্ত। বাংলা লোকগানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। বৈচিত্র্য লোকগান তার অনবদ্য সৃষ্টি হচ্ছে সিলেট অঞ্চলের ধামাইল। লোকসঙ্গীতের এই বিশেষ ধারাটি একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গীতানুরাগীদের কাছে সমাদৃত। এছাড়াও দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, ভজনসহ নানা আঙ্গিকের তিন হাজারেও বেশি গান রচনা করেছেন এই লোককবি। বৃহস্পতিবার হেমন্ত সন্ধ্যায় স্মরণ করা হলো এই মহান লোকসঙ্গীত সাধক শিল্পীকে। খোলা আকাশের নিচে ভেসে বেড়ালো রাধারমণের হৃদয় আকুল করা সুর ও বাণী। গানের সুরে সুরে নিবেদন করা হলো শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রখ্যাত এই লোককবির শততম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির উš§ুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হলো তিন দিনের রাধারমণ সঙ্গীত উৎসব। উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে। পঞ্চমবারের মতো এই উৎসব যৌথভাবে আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি ও রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।

রাধারমণের প্রচলিত ও অপ্রচলিত গান দিয়ে সাজানো উৎসব উদ্বোধন করেন ৮৫ বছর বয়সী অশীতিপর প্রখ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও রাধারমণ গবেষক অধ্যাপক নন্দলাল বসু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বিশ^জিৎ রায়। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ সেলিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘রাধারমণ দত্তের অপ্রকাশিত গান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়। সংবেদ থেকে প্রকাশিত এই বইটির সম্পাদনা করেছেন বিশ্বজিৎ রায়।

আলোচনা শেষ হলে শুরু হয় সঙ্গীত পরিবেশনা। এদিন ছিল ঢাকার শিল্পীদের পরিবেশনা। শুরুতেই মঞ্চে ওঠেন সঙ্গীত সংগঠন বাঁশরিয়ার একঝাঁক শিল্পী। অনেকগুলো কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে শোনায় ‘আমার মন করে আকুল/ আমার প্রাণ করে আকুল’। প্রথম গানেই আলোড়িত লোকসঙ্গীতের অনুরাগী শ্রোতাকুল। সবাই মিলে করতালি দিয়ে জানিয়ে মুগ্ধ হওয়ার বিষয়টি। পরের গানটিও অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেখানে রাধারমণ বলছেন, ‘আসবে শ্যাম কালিয়া/ কুঞ্জ সাজাও গিয়া’। এরপর বিশ্বজিৎ রায় পরিবেশন করেন দু’টি গান ‘বিনোদিনী গো তোর বৃন্দাবন কারে’ ও ‘নাইয়ারে সুজন নাইয়া’। শাহনাজ বেলীর কণ্ঠে গীত হয় ‘শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে’। অনিমা মুক্তি গোমেজ শোনান ‘আমার গলার হার’ ও ‘আমার বন্ধু দয়াময়’। সন্দীপন গাইলেন ‘নিশিতে জাগিয়া আকুল করিলাম’ ও ‘শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুু রে’। দিদারুল আলমের কণ্ঠে শোনা গেল ‘ওরে ও রসিক নাইয়া’ ও ‘বন্ধু হারা পোড়া দেশ যায় না বসত করা’, নারায়ণ চন্দ্র শীল পরিবেশন ‘আমি কি হেরিলাম কদমতলায় গো’ ও ‘তোরে বানাইয়া রাই বিনোদিনী আমি হবো কালাচাঁন’, বদরুন্নেসা ডালিয়ার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘আমার শ্যাম জানি কই রইলো গো’ এবং ‘ও বাঁশি রে, শ্যামচান্দের বাঁশি’। সরদার রহমতুল্লাহ গাইলেন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ ও ‘আমার বন্ধু দয়াময়’। এছাড়াও একক কণ্ঠে গান শোনান সৃজ্যোতি রায়, খায়রুল, সুপ্রিয়া, গোলাম মোস্তফা। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় বাঁশরিয়া, লোকাঙ্গন ও মন্দিরা শিল্পী গোষ্ঠী। অনীক বসুর পরিচালনায় রাধারমণের জনপ্রিয় ‘জলে গিয়াছিলাম সই’ গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দনের শিল্পীরা। আর এই মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিনের সমাপ্তি হয়।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার আজ বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে পরিবেশনা।

নরেন বিশ্বাস পদক পেলেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ ॥ দেশের বাকশিল্পের অনন্য এক শিল্পী নরেন বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার ছিল বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে নরেন বিশ্বাস স্মরণানুষ্ঠান ও তার নামাঙ্কিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন। নরেন বিশ্বাস পদক প্রদান করা হয় খ্যাতিমান নাট্য নির্দেশক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি সন্্জীদা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর এমিরেটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। স্মৃতিচারণ করেন নরেন বিশ^াসের ছোট মেয়ে নীলাঞ্জনা বিশ^াস।

পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি করে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হাতে থাকলেও সমাজে বিভাজন স্পষ্ট। জনগণের একটা অংশ সাম্প্রদায়িক চিন্তায় প্রভাবিত। যা প্রকাশ্য, দৃশ্যমান। এদের মোকাবেলা করার পথ কী? আগামী দিনে এটা সঙ্কট হয়ে দেখা দেবে। এই সঙ্কটের দিকে নজর দেয়া এখন সবচেয়ে জরুরী। কারণ পৃথিবীতে অনেক সমাজ, রাষ্ট্রের উদাহরণ রয়েছে যারা অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক সমাজে পরিণত হয়েছে। তাই এই পুরস্কারপ্রাপ্তিরকালে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মনে হয়, সাংস্কৃতিক কর্মীদের কি এই নিয়ে আরও আগেই কাজ শুরু করতে হতো? দেরি হয়ে গেল কী?

নাসির উদ্দিন ইউসুফকে পদক তুলে দেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। উত্তরীয় পরিয়ে দেন সন্জীদা খাতুন। অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করেন জাহীদ রেজা নূর। এছাড়া তাকে ২০ হাজার সম্মাননা চেক প্রদান করা হয়।

কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণে রেখাচিত্র প্রদর্শনী ॥ শরীরী অস্তিত্ব না থাকলেও সৃষ্টির আলোয় বিকিরণ ছড়াচ্ছেন কাইয়ুম চৌধুরী। এক বছর হতে চলল তিনি নেই। অজানার ভুবনে পাড়ি জমালেও শিল্পানুরাগীর মনের মাঝে সারাক্ষণই বিরাজ করেন তিনি। পথিকৃৎ এই শিল্পীর স্মরণে শিল্পাঙ্গন গ্যালারি আয়োজন করেছে ড্রইং বা রেখাচিত্র প্রদর্শনীর। এছাড়া বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণের পর তার কাজও প্রদর্শিত হচ্ছে এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এই বিশেষ প্রদর্শনীর ছবিগুলো লেখক ড. মুস্তাফা মজিদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নেয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে ধানম-ির গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে আয়োজিত প্রদর্র্শনীর উদ্বোধন করবেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, স্থপতি মুস্তাফা খালিদ, শিল্পাঙ্গন ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন রোকেয়া কাদের।

প্রদর্শনী চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসবের সমাপ্তি ॥ নাটক মঞ্চায়ন, ভারতের আদিবাসী শিল্পীদের নৃত্যগীত পরিবেশনা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হলো প্রথম আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসব ঢাকা ২০১৫। বৃহস্পতিবার বিকেলে একাডেমির নন্দন মঞ্চে সমাপনী আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের সমাপনী কার্যক্রম। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, ভারত হাই কমিশনের সেক্রেটারি সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী।

সমাপনী আয়োজনে একাডেমির মুক্ত মঞ্চে পরিবেশনায় অংশ নেয় ভারতের ঝাড়খ-ের শিব নৃত্যকলা কেন্দ্রের শিল্পীরা। সন্ধ্যা ৬টায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ভারতের ওঁরাও নাট্যদল পরিবেশন করে ‘সরাইকেল্লা ছৌ’ নৃত্য। বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলের ১৬টি নাট্যদল অংশ নিয়েছে এই উৎসবে।

জাতীয় নাট্যশালার মূল হল, পরীক্ষণ থিয়েটার হল ও নন্দনমঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের কার্যক্রম।

চার বিভাগে শুরু হচ্ছে বইমেলা ॥ দেশের চারটি বিভাগ/জেলায় শুরু হচ্ছে ‘বিভাগীয়/জেলা বইমেলা’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহযোগিতায় এসব বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ২৮ নবেম্বর ২০১৫ থেকে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল মাঠে আট দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে যা চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫, চট্টগ্রামে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০১৬ ও সিলেটে ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত বইমেলার আয়োজন করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করা হবে বলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত দুই অর্থবছরে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে এবং তা অঞ্চলভিত্তিক ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এসব বইমেলায় ঢাকা থেকে ৬০-৭০টি স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল।