২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাইবান্ধা ও মৌলভীবাজারের ১০ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ১০ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ প্রদান করেছে। প্রসিকিউটর আব্দুল রহমান হাওলাদার ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন গ্রেফতারের আবেদন জানান।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃত রাজাকাররা হলেন গাইবান্ধার আবু সালেহ মুহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজ, মোঃ রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, মোঃ আব্দুল লতিফ, আবু মুসলিম আলী, মো ঃ নাজমুল হুদা, মোঃ আব্দুর রহিম, অন্যদিকে মৌলভীবাজারের আকরাম আলী তালুকদার, আব্দুর নুর তালুকদার, মোঃ আলিম মিয়া ও মোঃ মোসাব্বির মিয়া।

জামায়াত সেতা আবদুল আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার ও মৌলভীবাজারের ৪ জনের বিরুদ্ধে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ও শেখ মোশফেক কবির। গত বছর সুন্দরগঞ্জের জামায়াতের সাবেক এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই বছরের ২০ নবেম্বর থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জেডএম আলতাফুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল সুন্দরগঞ্জ ও পাশের এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান করেন। এর আগে ২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের পাঁচগাছী শান্তিরামপুর গ্রামের মরহুম আলম উদ্দিনের ছেলে আজিজার রহমান সরকার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ’৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আজিজার রহমানের বড় ভাই বয়েজ উদ্দিনকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্মপুর গ্রামের আকবর আলীকে হত্যার অভিযোগে জামায়াত নেতা আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন আনিছুর রহমান।

প্রসিকিউটর সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারসহ ১৩ জনকে হত্যা-গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সকল আসামির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের রাজনগরের চার আসামির বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩ জনকে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন। ফলে আদালত তাদের গ্রেফতার করার আদেশ দিয়েছে।