২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন তোমার স্বপ্ন করো সত্যি

প্রতিটি নারী ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের একটি পরিচয় তৈরি করার স্বপ্ন দেখে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং নারীর অগ্রযাত্রায় তাদের পাশে থাকতে ২০০৩ থেকে কাজ শুরু করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন।

উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে নারীকে তার স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে দেয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আর তারই পথ ধরে ২০১৫ সালে ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে ‘তোমার স্বপ্ন করো সত্যি’ ক্যাম্পেইন। এ ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম অনুসারে প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী নারীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। সারাদেশ থেকে আবেদনকারী নারীদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সাড়ে তিন শ’রও বেশি নারীকে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ এবং কারিগরি ট্রেনিংয়ের অনুদান এবং ব্যবসা শুরু করার মূলধন প্রদান করা হয়।

গত ২০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আত্মপ্রত্যয়ী নারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনÑ ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ড. মিজানুর রহমান শেলী, চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ (সিডিআরবি), রুবানা হক, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মোহাম্মদী গ্রুপ, প্রখ্যাত নারী সাহিত্যিক ও গবেষক সেলিনা হোসেন এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কথাসাহিত্যিক ও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সেলিনা হোসেন এ সম্পর্কে বলেন, যারা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন মেয়েদের শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বৃত্তি প্রদান ও উদ্যোক্তা হিসেবে বিভিন্ন কাজ করার জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে সেটা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে খুবই সহায়তা দিবে। এ সব মেয়েকে নির্বাচনের সময় তাদের দেখেছিলাম অসহায়, বিপন্ন চেহারায়। আজ যখন তারা নিজের স্বপ্ন পূরণের জায়গাটি খুঁজে পেল তখন তাদের চেহারার উজ্জ্বল জ্যোতি আমাকে অনেক বেশি আশাবাদী করেছে। ওরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে এই প্রত্যাশা নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকব।

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশনের আরেক উপদেষ্টা ও মোহাম্মদী গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক বলেন, উদ্যোক্তাদের বাছাই করতে গিয়ে মনে হয়েছে একজনের জীবন যেন একেকটি গল্প। তাদের জীবনে সফলতা আসবেই। তারা এগিয়ে যাবে তাদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ২০০৩ সালে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী’ এই স্লোগানকে নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালে ‘হার না মানা নারী’ এই প্রতিপাদ্যে আবার নতুনভাবে কাজ শুরু করে। আমাদের সমাজে একজন মেয়ে গ্র্যাজুয়েশন করলেই অভিভাবকরা তার বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে-পড়ে লাগেন। কেন সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না।

সমাজের এই ধ্যান-ধারণাকে পাল্টে দিতেই ‘স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলা’ নারীর স্বপ্নের কথা জানতে চেয়েছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন। এই সংস্থার ডাকে সাড়া দিয়েছেন বাংলাদেশের সাড়ে ৭ হাজার নারী। তাদের গল্প পড়ে ১ হাজার মেয়েকে বাছাই করা হয়। তাদের পরিবার, আবাসন, পরিবেশ ইত্যাদি দেখার পর তাদের মধ্যে ৩৫৭ জনকে নির্বাচিত করা হয়। প্রয়োজনের দিকটি যাচাই-বাছাই করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি দেয়া হয়েছে ২০০ জনকে। যাতে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। কারিগরি শিক্ষা বৃত্তি দেয়া হয়েছে ১৫০ জনকে। ব্যবসা শুরু করার মূলধন প্রদানের জন্য ১৫ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। তাদের ব্যবসা পরিকল্পনা জেনে ৫ জনের স্থলে ৭ জনকে ব্যবসার মূলধন দেয়া হয়।

প্রতিটি আত্মপ্রত্যয়ী এবং উদ্যমী নারীকে তার স্বপ্ন সফল করার ক্ষেত্রে প্রেরণা নিয়ে ভবিষ্যতেও সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে আশা রাখে ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন।

অপরাজিতা ডেস্ক