২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রথম নারী চিকিৎসক

এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী চিকিৎসক। তিনি জন্মেছিলেন ১৮২১ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে। যখন তার বয়স ১১ বছর তখন তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল স্কুল থেকে প্রথম একজন নারী চিকিৎসক হিসেবে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী লাভ করেন। পরে ১৮৬০ সালে তিনি নারীদের জন্য প্রথম একটি মেডিকেল স্কুল স্থাপন করেন।

মেডিকেল স্কুল নির্মাণের পরে তিনি একটি ক্লিনিক নির্মাণ করেন, যা নিউইয়র্ক ডিসপেন্সারি নামে সবার কাছে পরিচিত ছিল। ১৮৫৩ সালে নির্মিত এই ক্লিনিকে দরিদ্র নারী ও শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হতো। ১৮৫৭ সালে তার সহকর্মী এবং তার বোন এ্যামিলি ব্ল্যাকওয়েলের সহযোগিতায় একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন যেখানে, অভাবী নারী ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো। ওই বছরই প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে ব্রিটিশ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রারে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়।

কিন্তু ব্রিটিশ আমলেও একজন নারী হিসেবে ডাক্তারি শাস্ত্রে অধ্যয়ন করা তার জন্য সহজ কাজ ছিল না। ডাক্তার হবার ইচ্ছে পরিবারের সদস্যদের কাছে বললে, পরিবারের সদস্যরা ওই ইচ্ছেকে সাধুবাদ জানালেও এলিজাবেথের পক্ষে যে ডাক্তার হওয়া অসম্ভব তাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তৎকালীন সময়েও ডাক্তারি শাস্ত্রে পড়ালেখা করা অনেক ব্যয়বহুল এবং তখন পর্যন্ত কোন নারীই ওই পেশায় ছিলেন না। কিন্তু এতকিছুর কিছুই বাঁধা হয়ে আসতে পারেনি এলিজাবেথের সামনে। ঠিকই পারিবারিক দুই ডাক্তারকে পটিয়ে ফেললেন তিনি এবং এক বছর তাদের কাছে অধ্যয়ন করলেন। এখানে না বললেই নয়, তৎকালীন সময়ে তিনি মোট ১২টি ডাক্তারি স্কুলে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু নারী হওয়ার কারণে প্রত্যেক স্থান থেকেই তিনি হয়েছিলেন প্রত্যাখ্যাত।

বাবার মৃত্যুর পর ১৮৩৮ সালে তিনি ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। সেখানেই মা আর বোনের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৮৩৮ সালে তাদের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন একটি মেডিক্যাল স্কুল। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে তার পেশা হিসেবে বেছে নেয় এবং তার নির্মিত স্কুলটিতে করতে থাকেন ব্যক্তিগত চিকিৎসা চর্চা। স্বাধীনভাবে চিকিৎসা সেবা শুরু করার আগে তিনি ১৮৪৭ সালে নিউইয়র্কের জেনেভা মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।

তার মেডিক্যাল স্কুলটিতে নারীদের বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্য জ্ঞান দেয়া হতো। তার কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘যুক্তরাষ্ট্র স্যানিটারি কমিশন’ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল। পরবর্তীতে তারই একজন ছাত্রের তৈরি লন্ডনের একটি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। ১৮৭৭ সালে তিনি তার কর্মজীবন থেকে অবসর নেন। ১৯১০ সালের ৩১ মে মৃত্যু হয় প্রথম এই নারী চিকিৎসকের।

১৮৯৫ সালে এলিজাবেথ প্রথম ডাক্তারি শাস্ত্রের উপর একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। ডাক্তারি শাস্ত্রে পড়তে আগ্রহীদের কথা চিন্তা করে যতটা তিনি ওই বইটি লিখেছিলেন তারচেয়েও বইটিতে মেটাফিজিক্স নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর অনেক পরে ব্রিটিশ অধ্যাপকরা এলিজাবেথের মেটাফিজিক্স নিয়ে কাজগুলো পড়তে পারেন। সেই বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার প্রিয় বিষয় হলো ইতিহাস এবং মেটাফিজিক্স। আমাদের এই যে শরীর তা মূলত অনেকগুলো গড়নের সন্নিবেশ। কোন ডাক্তারি শাস্ত্রই এই গড়নগুলোকে পরিপূর্ণরূপে বুঝতে পারবে কিনা সেবিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’

উল্লেখ্য, তার মতো এশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসক হচ্ছেন আনন্দি গোপাল জোশী। এশিয়ার প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে তিনিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর ডিগ্রী লাভ করেছিলেন।

বাংলা মেইল