২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নয়নতারা ॥ এক প্রতিবাদী কণ্ঠ

  • নুরুল করিম নাসিম

পাঁচ বছর আগে ‘হে ফেস্টিভ্যাল’ নামে আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের মর্যাদায় শুরু হয়েছিল, এবার নতুন নামে অভিষিক্ত হলো। এবার এই আন্তর্জাতিক উৎসবে ২৪ দেশের ৬০ জনেরও বেশি কবি ও কথাসাহিত্যিক এসেছিলেন। শিল্পসাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত পেশাজীবীর সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছিল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। এই প্রথমবার সরকারী আর্থিক সহযোগিতায় ধন্য হয়েছিল এই উৎসব। কিন্তু বিদগ্ধজনেরা মনে করেন অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্বমূলক বাংলাদেশের কবি ও কথাসাহিত্যিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, অথচ কোনো প্রকাশিত গ্রন্থ নেই, তড়িঘড়ি করে এই উৎসবের জন্য বই বের করে উৎসবের কবি বা লেখক হয়ে গেলেন। সবাই আশা করেছিল নতুন নামে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আয়োজকরা নিরপেক্ষভাবে লেখক নির্বাচন করবেন। কিন্তু তা হয়নি।

বাংলা একাডেমির নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের দোতলায় লেখককুঞ্জে দুপুরের খাবারের পর জমে উঠেছিল ভিনদেশী লেখকদের এক অনির্ধারিত আড্ডা। আগেই নয়নতারা সাগালের সঙ্গে পরিচয় হয়ছিল।

আমি প্রথমে তাকে দেখে চমকে উঠেছিলাম, ঠিক আমার দাদির মতো দেখতে, ঠিক সেই রকম চোখ, সেই রকম চাহনি।

সাগালের বক্তৃতা ১৯ নবেম্বর ২০১৫, বৃহ¯পতিবার সকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে শুনে মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছিলাম। নেহেরু“পরিবারের কন্যা প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর কাজিন নয়নতারা একজন অকুতোভয়, সাহসী কলমযোদ্ধা। ইতোমধ্যে তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি উপন্যাস, ১০টি গদ্যকর্ম, অসংখ্য রাজনৈতিক প্রতিবেদন। তার বিখ্যাত ছোটগল্প উঅণ ঙঋ জঊঈকঙঘওঘএ ইতোমধ্যে বিশ্বসাহিত্যে সাড়া ফেলেছে। আমি আড্ডার ভেতর তাকে ক্রমাগত প্রশ্ন করতে লাগলাম। কথাবার্তা ইংরেজিতে চলছিল। আমাদের আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি-

নয়নতারা, আপনি বেশ শক্ত সামর্থ্য, এত এ্যানার্জির উৎস কি? প্রতিদিন কত ঘণ্টা কাজ করেন?

নয়নতারা সায়গল : আসলে আমি খুব নিয়মের ভেতর জীবনযাপন করি। অন্যদের মতো বেপরোয়া জীবন আমি যাপন করি না। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও খুব বেছে চলি। প্রতিদিন সকালে উঠে হাঁটাহাঁটি করি বেশ কিছুক্ষণ। তারপর চা-বিস্কিট। শুরু“হয় লেখালেখি। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা লেখার পর সø্যান করি।

এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই। গত দিনের জমে থাকা চিঠিপত্র দেখি। আমার সেক্রেটারিকে কয়েকটি নির্দেশনা দেই।

মনে হচ্ছে রীতিমতো একটা অফিস পরিচালনা করেন।

ন. সা. : একজন লেখকের মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত নিস্তার নেই।

চমৎকার কথা বলেছেন। এবার আসল কথায় আসি। কিভাবে, কেমন করে, কখন লেখালেখির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন?

ন. সা. : তুমিতো জানো, আমি এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। ছেলেবেলা থেকে

বিচিত্রসব নারী-পুরুষকে দেখেছি, তাদের সংস্পর্শে এসেছি। এক সময় কলাম লিখতে যেয়ে মনে হলো, এদেরকে নিয়ে গল্প লেখা যায়, এরা উপন্যাসের চরিত্র।

আপনার সাহিত্যপাঠের ব্যাপারটা কি বলবেন?

ন. সা. : ভালো প্রশ্ন করেছো। প্রচুর বই পড়তাম ছেলেবেলা থেকে। পারিবারিক সূত্রে আমাদের ছিল এক বিশাল পাঠাগার। সেটা আমি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি। একজন লেখকের জন্য ভ্রমণ খুব প্রয়োজন। আমি এই ব্যাপারে সৌভাগ্যবতী। আমি ছেলেবেলা থেকে সারা ভারত শুধু নয়, বাবা-মার সঙ্গে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশে যাওয়ার সুযোগ পাই। এটা আমার একটি বড় পাওনা।

আপনি সাহিত্য একডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ন. সা. : হ্যাঁ, আমি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া আমার আর বিকল্প কিছু ছিল না। মৌলবাদীদের সঙ্গে আমি কখনো হাত মেলাতে পারবো না। কংগ্রেস সরকারের সময়ও আমি প্রতিবাদ করেছি, তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছি, হোক না ইন্দিরা আমার কাজিন।

ঢাকা কেমন লাগছে?

ন. সা. : ভালো, তবে ভিড় খুব বেশি। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ভুলবার নয়। এরা খুব সাহিত্যপ্রেমীও বটে।

২০১৩ সালে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বামপন্থী লেখক তারিক আলী এই বাংলা একাডেমিতে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন- ও hate corporati“ation of literature. এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

ন. সা. : তারিক ঠিকই বলেছে।

কিন্তু এখানে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি?

ন. সা. : এটা খুবই দুঃখজনক। এভাবে কোন দেশের সাহিত্যসমৃদ্ধ হতে পারে না। তবে একটা বিষয় এই উৎসবে লক্ষণীয় যে, ২৪টি দেশের ৬০ বেশি কবি ও লেখক এসেছেন। তোমাদের একজন বক্তা উদ্বোধনী পর্বের বক্তৃতায় বলেছেন- উযধশধ Literature Festival is meeting of minds.

আসলে এইটুকু আমার প্রাপ্তি।